Homeবিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগুগল এআইপুরনো তথ্য অক্ষুণ্ণ রেখেই বদলানো যাবে জিমেল ঠিকানা: ব্যবহারকারীদের জন্য বড় সুখবর...

পুরনো তথ্য অক্ষুণ্ণ রেখেই বদলানো যাবে জিমেল ঠিকানা: ব্যবহারকারীদের জন্য বড় সুখবর দিল গুগল

দীর্ঘ ২০ বছর পর জিমেল ঠিকানা পরিবর্তনের সুযোগ দেওয়া গুগলের একটি সাহসী ও ব্যবহারবান্ধব সিদ্ধান্ত। এতে বোঝা যায়, গুগল ধীরে ধীরে ব্যবহারকারীদের বাস্তব সমস্যাগুলোকে গুরুত্ব দিচ্ছে।

Share

অনেকের জীবনেই জিমেল অ্যাকাউন্ট মানে শুধু একটি ইমেল ঠিকানা নয়। চাকরির আবেদন, ব্যাংকিং কাজ, ইউটিউব, গুগল ড্রাইভ, ছবি, গুরুত্বপূর্ণ নথি—সব কিছুর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে একটি মাত্র জিমেল আইডি। কিন্তু সমস্যা একটাই। বহু বছর আগে, হয়তো স্কুল বা কলেজ জীবনে বানানো সেই জিমেল ঠিকানার নাম আজ আর পছন্দ হয় না। তখন মজার ছলে রাখা নামটাই এখন কর্মজীবনে অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

এত দিন পর্যন্ত একবার জিমেল ঠিকানা তৈরি করলে তা আর বদলানোর কোনও সুযোগ ছিল না। বাধ্য হয়ে অনেকেই নতুন অ্যাকাউন্ট খুলতেন। ফলে পুরনো মেল, ছবি, ফাইল, সাবস্ক্রিপশন—সব কিছু আলাদা হয়ে যেত। এই ঝামেলা এবার শেষ করতে চলেছে গুগল। প্রায় ২০ বছর পর ব্যবহারকারীদের জন্য নিয়ে এলো বড় পরিবর্তন।

গুগলের নতুন ফিচার: জিমেল ঠিকানা বদলানো যাবে সহজেই

গুগল জানিয়েছে, এখন থেকে ব্যবহারকারীরা তাঁদের জিমেল ঠিকানা পরিবর্তন করতে পারবেন, তাও আবার কোনও তথ্য না হারিয়েই। মানে, পুরনো মেল, ছবি, ডকুমেন্ট—সব আগের মতোই থাকবে। সবচেয়ে ভালো বিষয় হলো, পুরনো এবং নতুন—দু’টি জিমেল ঠিকানাতেই একসঙ্গে মেল পাওয়া যাবে।

এই আপডেটটি প্রথম নজরে আসে গুগলের সাপোর্ট পেজে। গত বুধবার ‘গুগল পিক্সেল হাব’ নামের একটি টেলিগ্রাম গ্রুপে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। আপাতত শুধুমাত্র গুগল সাপোর্ট পেজের হিন্দি ভাষার সংস্করণে এই তথ্য দেখা যাচ্ছে। তবে গুগলের তরফে জানানো হয়েছে, খুব শিগগিরই অন্যান্য ভাষার সংস্করণেও এই ফিচার যুক্ত হবে।

কেন এত গুরুত্বপূর্ণ এই পরিবর্তন

ভাবুন তো, কৈশোরে বানানো একটি অদ্ভুত নামের জিমেল আইডি দিয়ে আজ অফিসের ক্লায়েন্টকে মেল পাঠাতে হচ্ছে। কিংবা বিদেশে চাকরির আবেদন করতে গিয়ে সেই পুরনো নামটাই সমস্যা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এত দিন এই সমস্যা থেকে মুক্তির একমাত্র উপায় ছিল নতুন অ্যাকাউন্ট খোলা।

কিন্তু নতুন অ্যাকাউন্ট মানেই ঝামেলা। পুরনো মেল হারানোর ভয়, গুগল ড্রাইভের ফাইল আলাদা হয়ে যাওয়া, ইউটিউব সাবস্ক্রিপশন নতুন করে সাজানো—সব মিলিয়ে বড় ঝক্কি। গুগলের এই নতুন সিদ্ধান্ত সেই ঝামেলাকেই দূর করছে।

কী ভাবে বদলাবেন নিজের জিমেল ঠিকানা

জিমেল ঠিকানা বদলানোর পদ্ধতিটা খুব জটিল নয়। একেবারে সাধারণ কয়েকটি ধাপেই কাজটি করা যাবে।

প্রথমে myaccount.google.com-এ গিয়ে নিজের গুগ্‌ল অ্যাকাউন্টে সাইন ইন করতে হবে।
এর পর মেনু থেকে ‘পার্সোনাল ইনফরমেশন’ বা ‘ব্যক্তিগত তথ্য’-তে ক্লিক করতে হবে।
‘কনট্যাক্ট ইনফরমেশন’-এর নীচে থাকা ‘ইমেল’ অপশনে ক্লিক করে ‘গুগ্‌‌ল অ্যাকাউন্ট ইমেল’-এ যেতে হবে। সেখানেই থাকবে জিমেল ঠিকানা বদলানোর অপশন (যদি না থাকে, তা হলে বুঝতে হবে ফিচারটি এখনও আপনার অ্যাকাউন্টে আসেনি, কিছু দিন অপেক্ষা করলেই আপনি এটি দেখতে পাবেন)। সেখানে ‘এডিট’-এ গিয়ে নতুন আইডি লিখতে হবে। ব্যস! তা হলেই বদলে যাবে আপনার জিমেল ঠিকানা।

নতুন ফিচারে জিমেল ঠিকানা পাল্টানোর পরেও পুরনো জিমেল আইডি আগের মতোই থাকবে। একই সঙ্গে নতুন এবং পুরনো— দুই আইডিতেই মেল পাবেন ব্যবহারকারীরা। পুরনো কিংবা নতুন— দু’টি জিমেল ঠিকানা ব্যবহার করে ম্যাপ, ইউটিউব, গুগ্‌‌ল প্লে কিংবা গুগ্‌‌ল ড্রাইভের মতো গুগ্‌‌লের সমস্ত পরিষেবায় সাইন ইন করা যাবে। মজার বিষয়, ব্যবহারকারীর সমস্ত ফাইল, ছবি, সাবস্ক্রিপশন— সব কিছুই আগের মতোই থাকবে।

যদি এই অপশনটি এখনও আপনার অ্যাকাউন্টে না দেখা যায়, চিন্তার কিছু নেই। তার মানে হলো, ফিচারটি এখনও আপনার জন্য চালু হয়নি। কয়েক দিন অপেক্ষা করলেই এটি পাওয়া যাবে।

পুরনো জিমেল ঠিকানার কী হবে

অনেকের মনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, ঠিকানা বদলালে পুরনো জিমেল আইডির কী হবে? গুগল এখানেই দিয়েছে সবচেয়ে বড় স্বস্তি।

নতুন ফিচার অনুযায়ী, জিমেল ঠিকানা পরিবর্তনের পরেও পুরনো জিমেল আইডি সক্রিয় থাকবে। অর্থাৎ, কেউ যদি আপনার পুরনো ঠিকানায় মেল পাঠায়, সেটিও আপনি পাবেন। আবার নতুন ঠিকানায় পাঠানো মেলও আসবে একই ইনবক্সে।

শুধু মেল নয়, পুরনো বা নতুন—দু’টি ঠিকানা দিয়েই গুগলের সব পরিষেবায় সাইন ইন করা যাবে। গুগল ম্যাপ, ইউটিউব, গুগল প্লে, গুগল ড্রাইভ—সব জায়গায় আগের মতোই ব্যবহার করা যাবে অ্যাকাউন্ট।

ফাইল, ছবি ও সাবস্ক্রিপশন থাকবে আগের মতোই

অনেকেই ভাবেন, ঠিকানা বদলালে হয়তো ছবি বা ফাইল হারিয়ে যাবে। গুগল স্পষ্ট জানিয়েছে, ব্যবহারকারীর সমস্ত ডেটা অক্ষুণ্ণ থাকবে। গুগল ফটোসের ছবি, ড্রাইভে রাখা ফাইল, ইউটিউব সাবস্ক্রিপশন—কিছুই মুছে যাবে না।

মানে, বাইরে থেকে শুধু ইমেল ঠিকানার নামটা বদলাবে। ভিতরের সবকিছু থাকবে একেবারে আগের মতো।

নতুন ফিচারের কিছু সীমাবদ্ধতা

যদিও এই ফিচারটি বেশ সুবিধাজনক, তবুও এর কিছু নিয়ম ও সীমাবদ্ধতা আছে। প্রথমত, চাইলেই যে কোনও নামের জিমেল ঠিকানা পাওয়া যাবে, এমনটা নয়। যদি আপনার পছন্দের ঠিকানাটি আগে থেকেই অন্য কেউ ব্যবহার করে থাকেন, তাহলে সেটি নেওয়া যাবে না।

দ্বিতীয়ত, ১২ মাসের মধ্যে মাত্র একবারই জিমেল ঠিকানা পরিবর্তন করা যাবে। অর্থাৎ, ঘন ঘন ঠিকানা বদলানোর সুযোগ নেই।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, একজন ব্যবহারকারী জীবনে সর্বোচ্চ তিন বার নতুন জিমেল ঠিকানা তৈরি করতে পারবেন। শুরুতে যে ঠিকানাটি ছিল, সেটি ধরলে মোট চারটি জিমেল ঠিকানা পাওয়া যাবে। একবার নতুন জিমেল ঠিকানা নেওয়ার পর সেটি আর মুছে ফেলা যাবে না।

কাদের জন্য সবচেয়ে বেশি কাজে লাগবে এই সুবিধা

এই নতুন ফিচারটি সবচেয়ে বেশি কাজে লাগবে সেইসব ব্যবহারকারীদের, যাঁরা অনেক বছর আগে জিমেল অ্যাকাউন্ট খুলেছেন। বিশেষ করে যাঁদের ইমেল ঠিকানার নাম এখন আর পেশাদার মনে হয় না।

ছাত্রজীবনে বানানো অ্যাকাউন্ট নিয়ে কর্মজীবনে ঢোকা মানুষদের জন্য এটি সত্যিই বড় স্বস্তি। একই সঙ্গে ফ্রিল্যান্সার, ব্যবসায়ী বা কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্যও এই সুবিধা খুবই কার্যকর।

ব্যবহারকারীদের জন্য গুগলের বড় পদক্ষেপ

দীর্ঘ ২০ বছর পর জিমেল ঠিকানা পরিবর্তনের সুযোগ দেওয়া গুগলের একটি সাহসী ও ব্যবহারবান্ধব সিদ্ধান্ত। এতে বোঝা যায়, গুগল ধীরে ধীরে ব্যবহারকারীদের বাস্তব সমস্যাগুলোকে গুরুত্ব দিচ্ছে।

একটি ছোট পরিবর্তন হলেও এর প্রভাব কিন্তু অনেক বড়। কারণ, এতে করে নতুন অ্যাকাউন্ট খোলার ঝামেলা কমবে, ডেটা হারানোর ভয় থাকবে না, আর ব্যবহারকারীরা স্বাচ্ছন্দ্যে নিজেদের পছন্দের ইমেল ঠিকানা ব্যবহার করতে পারবেন।

সব মিলিয়ে বলা যায়, জিমেল ব্যবহারকারীদের জন্য এটি নিঃসন্দেহে দারুণ সুখবর। যদি আপনারও পুরনো জিমেল ঠিকানাটি আর পছন্দ না হয়, তাহলে একটু অপেক্ষা করুন। খুব শিগগিরই আপনার অ্যাকাউন্টেও আসতে পারে এই সুবিধা।

@ এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি। বাইরের কোন সাইটের তথ্যের জন্য যশোর খবর কতৃপক্ষ দায়বদ্ধ নয়।

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন