আইপিএলের শুরুতেই যেন ছন্দ খুঁজে পাচ্ছে না Chennai Super Kings। ২০০ রানের বিশাল স্কোর করেও পরাজয়—এই বাস্তবতা দলটাকে আরও চাপে ফেলে দিয়েছে। অন্যদিকে Punjab Kings দারুণ আত্মবিশ্বাস নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে হারিয়ে তারা এখন লিগের শুরুতেই নিজেদের অবস্থান শক্ত করছে।
এই ম্যাচটা যেন ছিল ব্যাটিংয়ের উৎসব। দুই দলই দারুণ খেলেছে, কিন্তু শেষ হাসিটা হেসেছে পাঞ্জাব। চলুন পুরো ম্যাচটা সহজভাবে বুঝে নিই।
ব্যাট হাতে শুরুটা ভালোই করেছিল চেন্নাই। যদিও শুরুতেই একটা ধাক্কা খেতে হয়, তবুও দল থেমে থাকেনি। পাওয়ার প্লেতেই দ্রুত রান তুলতে শুরু করে তারা।
এই ম্যাচে সবচেয়ে চোখে পড়ার মতো পারফরম্যান্স এসেছে আয়ুষ মাত্রের ব্যাট থেকে। তিনি ৪৩ বলে ৭৩ রান করে একাই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো ইনিংস খেলেন। তাঁর ব্যাটিংয়ে ছিল আত্মবিশ্বাস, ছিল আগ্রাসন। ৬টি চার আর ৫টি ছক্কা—মানে দর্শকরা বসে বসে শুধু উপভোগই করেছে।
একটা সময় মনে হচ্ছিল, আজ চেন্নাই ২২০-২৩০ রানের কাছাকাছি চলে যাবে।
আয়ুষের সঙ্গে রুতুরাজও ভালো সঙ্গ দেন। ছোট ছোট পার্টনারশিপে দল এগিয়ে যেতে থাকে। এরপর শেষ দিকে শিবম দুবে এসে যেন গেমটা আরও ত্বরান্বিত করে দেন।
তিনি ৪৫ রানে অপরাজিত থাকেন এবং শেষ কয়েক ওভারে দ্রুত রান তুলে দলকে ২০০ পার করান। সঙ্গে সরফরাজ খানের ছোট কিন্তু ঝড়ো ইনিংস—মাত্র ১২ বলে ৩২ রান—দলকে ২০৯ রানের বড় স্কোরে পৌঁছে দেয়।
একটা সাধারণ ম্যাচে এই স্কোর মানেই প্রায় জয় নিশ্চিত ধরা হয়। কিন্তু এই ম্যাচটা ছিল একটু আলাদা।
চেন্নাই ২০৯ করার পর মনে হচ্ছিল কাজটা সহজ হবে না পাঞ্জাবের জন্য। কিন্তু শুরু থেকেই অন্য পরিকল্পনা নিয়ে নামে তারা।
প্রথম বলেই বাউন্ডারি, পরের বলেই ছক্কা—এইভাবে শুরু করেন প্রিয়াংশু আর্য। মাত্র ১১ বলে ৩৯ রান করে তিনি ম্যাচের গতি একেবারে বদলে দেন।
ভাবুন, মাত্র ৪ ওভারেই স্কোর ৬০ পার! তখন থেকেই বোঝা যাচ্ছিল, ম্যাচটা একেবারে হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে চেন্নাইয়ের।
প্রভসিমরন সিং ভালো খেলছিলেন, কিন্তু একটি ভুল বোঝাবুঝিতে রানআউট হয়ে ফিরে যান ৪৩ রানে। এই জায়গাটা একটু টার্নিং পয়েন্ট হতে পারত।
কিন্তু দল থামেনি। কুপার কনোলিও ৩৬ রানের কার্যকর ইনিংস খেলেন। ফলে রান রেট কখনওই কমেনি।
১৩ ওভার শেষে পাঞ্জাবের স্কোর ছিল ১৪৩/৩—মানে তারা পুরোপুরি ম্যাচের নিয়ন্ত্রণে।
এই ম্যাচে আসল পার্থক্য গড়ে দিয়েছেন অধিনায়ক Shreyas Iyer। তিনি ঠিক সময়টায় ইনিংসটা ধরে রেখেছেন।
অর্ধশতরান করে দলকে জয়ের পথে এগিয়ে দেন। তাঁর ইনিংসে ছিল তিনটি ছক্কা আর চারটি চার। খুব ঝুঁকি না নিয়ে, আবার গতি বজায় রেখে তিনি খেলেছেন—যেটা একটা চেজিং ইনিংসে খুব দরকার হয়।
শেষ দিকে তিনি আউট হলেও ততক্ষণে ম্যাচ প্রায় পাঞ্জাবের পকেটে।
শেষ পর্যন্ত ৮ বল বাকি থাকতেই ৫ উইকেটে জয় তুলে নেয় পাঞ্জাব। এত বড় টার্গেট এমন সহজে তাড়া করে নেওয়া সত্যিই প্রশংসনীয়।
অন্যদিকে চেন্নাইয়ের জন্য এটা বড় হতাশার ম্যাচ। কারণ ২০০+ রান করেও হার—এটা দলের আত্মবিশ্বাসে বড় ধাক্কা দেয়।
এই ম্যাচে একটা বিষয় বারবার সামনে এসেছে—MS Dhoni মাঠে নেই। চেন্নাইয়ের মতো দলের জন্য এটা বড় ফ্যাক্টর।
ধোনি শুধু একজন খেলোয়াড় নন, তিনি মাঠে থাকলে পুরো দলের মানসিকতা বদলে যায়। সিদ্ধান্ত নেওয়া, চাপ সামলানো—এই জায়গাগুলোতে তাঁর অভিজ্ঞতা বিশাল ভূমিকা রাখে।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, তাঁর অনুপস্থিতিতে দল কি সেই স্থিরতা হারাচ্ছে?
অন্যদিকে পাঞ্জাব কিংস এই জয় থেকে অনেক কিছু পেয়েছে। তারা শুধু জেতেনি, বড় দলের বিরুদ্ধে জিতেছে। এটা তাদের আত্মবিশ্বাস কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেবে।
লম্বা টুর্নামেন্টে শুরুটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। এই ধরনের জয় দলকে এগিয়ে যাওয়ার শক্তি দেয়।
এই ম্যাচটা এক কথায় ব্যাটিংয়ের লড়াই। দুই দলই ভালো খেলেছে, কিন্তু ছোট ছোট মুহূর্তগুলোই পার্থক্য গড়ে দিয়েছে।
চেন্নাইয়ের জন্য এখন সময় ঘুরে দাঁড়ানোর। আর পাঞ্জাবের জন্য—এই ধারাটা ধরে রাখার।
ক্রিকেটে এমন ম্যাচই সবচেয়ে মজার—শেষ বল পর্যন্ত কিছুই নিশ্চিত থাকে না।
Discover more from Jashore Khabor
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

