Homeরাজনীতিনতুন সরকারে বড় চমক: অমিত প্রতিমন্ত্রী, একই মন্ত্রিসভায় মামা-ভাগ্নে!

নতুন সরকারে বড় চমক: অমিত প্রতিমন্ত্রী, একই মন্ত্রিসভায় মামা-ভাগ্নে!

Share

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দেশের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। তারেক রহমান–এর নেতৃত্বে গঠিত নতুন মন্ত্রিসভা এখন আলোচনা ও বিশ্লেষণের কেন্দ্রবিন্দু। অভিজ্ঞতা আর তারুণ্যের মিশেলে সাজানো এই মন্ত্রিসভায় এসেছে চমক, এসেছে আবেগ, এসেছে রাজনৈতিক বার্তা। বিশেষ করে যশোরের অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং সিরাজগঞ্জের মামা-ভাগ্নের একসঙ্গে মন্ত্রিসভায় স্থান পাওয়া নিয়ে মানুষের কৌতূহল এখন তুঙ্গে।

যশোর-৩ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে বিজয়ী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এখন জাতীয় রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ মুখ। তিনি শুধু একজন নবীন সংসদ সদস্য নন, তিনি একটি রাজনৈতিক ঐতিহ্যের ধারক। তার বাবা তরিকুল ইসলাম ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও যশোরের প্রভাবশালী নেতা। বাবার রাজনৈতিক উত্তরাধিকারকে সামনে রেখে এবার অমিত নিজেই মন্ত্রিসভায় জায়গা করে নিয়েছেন।

নবগঠিত সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে তিনি শপথ নিয়েছেন। এই মন্ত্রণালয় দেশের অর্থনীতি ও শিল্পখাতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিদ্যুৎ মানে উন্নয়ন, জ্বালানি মানে উৎপাদন, আর খনিজ সম্পদ মানে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। ফলে অমিতের কাঁধে দায়িত্বও অনেক বড়।

যশোরে এই খবরে যেন উৎসবের আমেজ। দলীয় নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ সমর্থক—সবাই এটাকে জেলার জন্য বড় অর্জন হিসেবে দেখছেন।

অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের শিক্ষাজীবনও বেশ উজ্জ্বল। ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে কৃতিত্বের সঙ্গে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়–এর বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগে ভর্তি হন। সেখান থেকে প্রথম শ্রেণিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

শুধু এখানেই থেমে থাকেননি। উচ্চতর ব্যবসায় শিক্ষা নিতে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ সম্পন্ন করেন। অর্থাৎ একদিকে বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা, অন্যদিকে ব্যবস্থাপনা জ্ঞান—দুটোর সমন্বয় তার প্রোফাইলকে আলাদা করে তোলে।

রাজনীতির পাশাপাশি তিনি ব্যবসা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয়। তিনি ‘দৈনিক লোকসমাজ’ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে প্রশাসন, ব্যবসা ও জনসংযোগ—তিন ক্ষেত্রেই তার অভিজ্ঞতা রয়েছে।

গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে তিনি ২ লাখ ১ হাজার ৩৩৯ ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এই বিপুল ভোট শুধু জনপ্রিয়তার ইঙ্গিত নয়, এটি তার প্রতি জনগণের আস্থার প্রতিফলন। যশোর-৩ আসনে তার এই জয়কে অনেকেই ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের প্রস্তুতি হিসেবে দেখছেন।

এবার আসি সিরাজগঞ্জের কথায়। এই জেলায় ঘটেছে এক বিরল ঘটনা। সম্পর্কে মামা ও ভাগ্নে—দুজনই সংসদ সদস্য এবং দুজনই একই মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছেন। স্থানীয় রাজনীতিতে এমন নজির আগে দেখা যায়নি।

ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু সিরাজগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য। তিনি এবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন।

এর আগে ২০০১ সালে তিনি বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। অর্থাৎ এই মন্ত্রণালয়ে তার আগের অভিজ্ঞতা আছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি সংগঠন পরিচালনা, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং জাতীয় পর্যায়ের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। এবার পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়ে তিনি আবারও সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানোর সুযোগ পাচ্ছেন।

অন্যদিকে তার ভাগ্নে এম এ মুহিত সিরাজগঞ্জ-৬ (শাহজাদপুর) আসন থেকে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী ডা. এম এ মতিন–এর ছেলে।

মুহিত ডাক ও টেলিযোগাযোগ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। একসঙ্গে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ খাতের দায়িত্ব পাওয়া নিঃসন্দেহে বড় আস্থা ও প্রত্যাশার ইঙ্গিত দেয়।

নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধি হিসেবে তার সামনে চ্যালেঞ্জও কম নয়। প্রযুক্তি খাত মানে ডিজিটাল রূপান্তর, স্বাস্থ্য খাত মানে মানুষের মৌলিক সেবা, আর ডাক ও টেলিযোগাযোগ মানে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন। ফলে তার কাজ সরাসরি সাধারণ মানুষের জীবনে প্রভাব ফেলবে।

তারেক রহমানের নতুন মন্ত্রিসভা শুধু দায়িত্ব বণ্টনের তালিকা নয়, এটি একটি রাজনৈতিক বার্তা। এখানে যেমন রয়েছে অভিজ্ঞ নেতাদের জায়গা, তেমনি রয়েছে তরুণ ও শিক্ষিত মুখের অন্তর্ভুক্তি। যশোরে অমিতের অন্তর্ভুক্তি একদিকে পারিবারিক রাজনৈতিক ধারাবাহিকতার প্রতীক, অন্যদিকে শিক্ষিত তরুণ নেতৃত্বের উত্থান। সিরাজগঞ্জে মামা-ভাগ্নের উপস্থিতি দলীয় ঐক্য ও পারিবারিক রাজনৈতিক প্রভাবের সমন্বয়কে সামনে এনেছে।

এই মন্ত্রিসভা কতটা সফল হবে, তা নির্ভর করবে কাজের ওপর। জনগণ এখন প্রতিশ্রুতি নয়, ফলাফল দেখতে চায়। বিদ্যুৎ সরবরাহ, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা—এসব খাতে দৃশ্যমান অগ্রগতি হলে তবেই এই মন্ত্রিসভা স্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারবে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, নতুন সরকারে যশোর ও সিরাজগঞ্জের প্রতিনিধিত্ব এখন আলোচনার কেন্দ্রে। সময়ই বলে দেবে, এই নতুন মুখ ও পুরোনো অভিজ্ঞতার সমন্বয় দেশের রাজনীতিতে কতটা ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।


Discover more from Jashore Khabor

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

@ এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি। বাইরের কোন সাইটের তথ্যের জন্য যশোর খবর কতৃপক্ষ দায়বদ্ধ নয়।

Table of contents [hide]

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন