Homeবিশেষ প্রতিবেদনযুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ বাণিজ্যচুক্তি ঘিরে উত্তাপ: বিএনপিকে সরাসরি দায় দিলেন আসিফ মাহমুদ

যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ বাণিজ্যচুক্তি ঘিরে উত্তাপ: বিএনপিকে সরাসরি দায় দিলেন আসিফ মাহমুদ

Share

বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া বাণিজ্যচুক্তি। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবার সরাসরি বিএনপির দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছে। দলটির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া দাবি করেছেন, এই চুক্তির বিষয়ে এনসিপিকে কোনো ধরনের আলোচনা বা তথ্য জানানো হয়নি। বরং পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়েছে বিএনপির সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মাধ্যমে।

মঙ্গলবার (২৬ মে) রাজধানীতে জাতীয় নাগরিক পার্টির কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব মন্তব্য করেন। এ সময় তিনি বলেন, চুক্তি নিয়ে রাজনৈতিক দায় এড়াতে বিভিন্ন পক্ষের ওপর দোষ চাপানোর চেষ্টা চলছে, যা জনগণ ভালোভাবে দেখছে।

সংবাদ সম্মেলনে আসিফ মাহমুদ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে বাণিজ্যচুক্তি হয়েছে, সে বিষয়ে এনসিপিকে কিছুই জানানো হয়নি। অথচ পরে বলা হচ্ছে, সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করেই চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। তার ভাষায়, “আমরা কোনো আলোচনা বা মতামত দেওয়ার সুযোগ পাইনি। পুরো বিষয়টি আমাদের অগোচরেই হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, এই চুক্তি সম্পন্ন করার জন্য সরকারের হাতে ৯০ দিনের সময় ছিল। কিন্তু সরকার অস্বাভাবিক দ্রুততায় মাত্র এক মাসের মধ্যেই চুক্তিটি সম্পন্ন করেছে। তার প্রশ্ন, যখন আরও দুই মাস সময় হাতে ছিল, তখন এত তাড়াহুড়ার প্রয়োজন কেন দেখা দিল?

আসিফ মাহমুদের অভিযোগ, এখন চুক্তির দায় এড়াতে বিএনপি বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দিকে আঙুল তুলছে। তিনি বলেন, “বারবার জামায়াত, এনসিপি, অন্তর্বর্তী সরকার কিংবা অন্যদের দায়ী করা হচ্ছে। অথচ বাস্তবে চুক্তি করেছেন আপনাদেরই পররাষ্ট্রমন্ত্রী।”

তার দাবি, জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে এমন বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে। এই ধরনের রাজনৈতিক কৌশল দেশের মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এনসিপির মুখপাত্র আরও বলেন, নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে এই চুক্তি সম্পন্ন হওয়ায় জনমনে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তিনি ইঙ্গিত করেন, রাজনৈতিক সমঝোতার অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে থাকতে পারে।

তার বক্তব্য অনুযায়ী, বর্তমানে দায়িত্বে থাকা পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বিএনপির সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় কাজ করেছেন বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে। ফলে জনগণের মধ্যে প্রশ্ন উঠছে— নির্বাচনের আগে দ্রুত চুক্তি করে তার দায় কি অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে?

সংবাদ সম্মেলনে আসিফ মাহমুদ সরাসরি বলেন, “তিনি তো বর্তমানে বিএনপির পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তাহলে এই চুক্তির দায়ও বিএনপিকেই নিতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, যদি চুক্তির কিছু অংশ দেশের স্বার্থবিরোধী হয়ে থাকে, তাহলে সরকারকে সেসব ধারা বাদ দিতে হবে। একই সঙ্গে তিনি উদাহরণ টেনে বলেন, বিশ্বের একাধিক দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা চুক্তি বাতিল করেছে। ফলে বাংলাদেশও প্রয়োজনে জাতীয় স্বার্থে পুনর্বিবেচনা করতে পারে।

এনসিপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দেশের রাজনীতিতে এখন দায় এড়ানোর প্রবণতা বাড়ছে। কোনো সিদ্ধান্তের ইতিবাচক ফল এলে সেটি নিজেদের কৃতিত্ব হিসেবে তুলে ধরা হয়, আর সমালোচনা তৈরি হলে দায় চাপানো হয় অন্যের ওপর।

আসিফ মাহমুদ বলেন, “মানুষ এখন অনেক সচেতন। তারা বুঝতে পারে কে কী করছে। তাই মানুষকে বিভ্রান্ত করে বেশিদিন রাজনীতি করা যাবে না।”

তার মতে, রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত নিজেদের সিদ্ধান্তের দায় স্বীকার করা এবং জনগণের সামনে স্বচ্ছ অবস্থান তুলে ধরা।

এই বাণিজ্যচুক্তিকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনায় এসেছে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, কূটনীতি এবং অর্থনৈতিক অংশীদারত্বের প্রশ্নে বাংলাদেশকে নানা ভারসাম্য রক্ষা করতে হচ্ছে।

এদিকে রাজনৈতিক দলগুলোর পারস্পরিক দোষারোপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। বিশেষ করে নির্বাচনের আগে এমন একটি চুক্তি হওয়ায় বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে।

সংবাদ সম্মেলনের শেষ দিকে এনসিপি জনগণের সামনে পুরো চুক্তির বিস্তারিত প্রকাশ করার দাবি জানায়। দলটির মতে, দেশের অর্থনীতি, বাণিজ্য এবং সার্বভৌম স্বার্থের সঙ্গে জড়িত যেকোনো আন্তর্জাতিক চুক্তি জনগণের জানার অধিকার রয়েছে।

আসিফ মাহমুদ বলেন, “চুক্তির কোন কোন অংশে বাংলাদেশ লাভবান হবে, কোথায় ঝুঁকি আছে— সেগুলো খোলাখুলিভাবে জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে।”

তার দাবি, গোপনীয়তা এবং রাজনৈতিক দায় চাপানোর সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে দেশের স্বার্থকে সবার আগে গুরুত্ব দিতে হবে।

@ এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি। বাইরের কোন সাইটের তথ্যের জন্য যশোর খবর কতৃপক্ষ দায়বদ্ধ নয়।

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন