Homeস্পোটস ওয়ার্ল্ডক্রিকেটবিশ্বকাপের শুরুতেই চমক! নোরা ফতেহির পারফরম্যান্সে কাঁপবে ওয়াংখেড়ে

বিশ্বকাপের শুরুতেই চমক! নোরা ফতেহির পারফরম্যান্সে কাঁপবে ওয়াংখেড়ে

Share

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ মানেই শুধু ক্রিকেট নয়। এটি বিনোদন, আবেগ আর বৈশ্বিক সংস্কৃতির এক বিশাল উৎসব। সেই উৎসবের শুরুটা হতে চলেছে আরও ঝলমলে, আরও স্মরণীয়। এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে মুম্বইয়ের ঐতিহাসিক ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে।

এই মঞ্চে পারফর্ম করবেন বলিউডের জনপ্রিয় নৃত্যশিল্পী ও অভিনেত্রী নোরা ফতেহি। তাঁর সঙ্গে থাকছেন সংগীতজগতের আরও বড় নাম। সব মিলিয়ে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান এবার ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য এক পূর্ণাঙ্গ বিনোদনের প্যাকেজ।

৭ ফেব্রুয়ারি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে খেলতে নামবে গত আসরের চ্যাম্পিয়ন ও এবারের আয়োজক ভারত। প্রতিপক্ষ হিসেবে থাকছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এই ম্যাচের আগেই আয়োজন করা হয়েছে জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড চাইছে বিশ্বকাপের শুরুটা এমনভাবে হোক, যা দর্শকদের মনে দীর্ঘদিন গেঁথে থাকবে। সেই লক্ষ্যেই ক্রিকেটের সঙ্গে সংগীত ও নৃত্যের এক দুর্দান্ত মেলবন্ধন তৈরি করা হয়েছে।

ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়াম এমনিতেই আবেগের জায়গা। এই মাঠে ভারতের বহু স্মরণীয় জয় এসেছে। বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ এবং তার আগে তারকাখচিত অনুষ্ঠান মিলিয়ে ওয়াংখেড়ে সেদিন পরিণত হবে উৎসবের শহরে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণ হিসেবে থাকছেন নোরা ফতেহি। তাঁর নাচ মানেই শক্তি, গ্ল্যামার আর আন্তর্জাতিক মানের পারফরম্যান্স। বলিউডের পাশাপাশি বিশ্বমঞ্চেও নোরা নিজের জায়গা তৈরি করেছেন। তাঁর স্টেজ পারফরম্যান্স মানেই দর্শকদের জন্য আলাদা এক অভিজ্ঞতা।

নোরা ফতেহি এর আগেও বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে পারফর্ম করেছেন। ২০২২ সালে ফিফা বিশ্বকাপের সময় কাতারে আয়োজিত ফ্যান ফেস্টিভ্যালে তাঁকে দেখা গিয়েছিল। সেই বিশ্বকাপের অফিসিয়াল অ্যান্থেম ‘লাইট দ্য স্কাই’ গানে হিন্দি অংশে কণ্ঠ দিয়েছিলেন নোরা। সেই গানেই তিনি পারফর্মও করেন। ফলে বিশ্বকাপের মঞ্চ তাঁর কাছে নতুন নয়। এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও তিনি সেই অভিজ্ঞতা ও আত্মবিশ্বাস নিয়েই মঞ্চে উঠবেন।

নোরা ফতেহির সঙ্গে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে থাকছেন জনপ্রিয় র‌্যাপার ও গায়ক বাদশা। তাঁর গান মানেই তরুণ প্রজন্মের উন্মাদনা। স্টেডিয়ামের গ্যালারি থেকে শুরু করে টিভির পর্দা, সব জায়গাতেই বাদশার পারফরম্যান্স বাড়তি উত্তেজনা ছড়াবে।

এছাড়া উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে থাকবেন বিশ্বখ্যাত যন্ত্রবাদক শিবমণি। ভারতীয় মার্গ সংগীতকে যিনি আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিয়ে গেছেন, সেই শিবমণির উপস্থিতি অনুষ্ঠানকে দেবে আলাদা মাত্রা। তাঁর সঙ্গে থাকবেন তরুণ সেতার বাদক ঋষভ রিখিরাম শর্মা। এই দুই প্রজন্মের শিল্পীর মেলবন্ধনে ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতের সঙ্গে আধুনিক সাউন্ডের এক সুন্দর সংযোগ তৈরি হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মূল ভাবনা রাখা হয়েছে ভারতীয় সংস্কৃতিকে আধুনিকভাবে তুলে ধরা। তাই একদিকে থাকবে মার্গ সংগীতের গভীরতা, অন্যদিকে থাকবে পপ ও সমসাময়িক সংগীতের গতি। এই মিশ্রণ বিশ্বজুড়ে দর্শকদের কাছে ভারতীয় সংস্কৃতির শক্ত অবস্থান তুলে ধরবে।

শিল্পীদের সঙ্গে তাঁদের পুরো টিমও উপস্থিত থাকবে। আলো, সাউন্ড, মঞ্চসজ্জা সবকিছু মিলিয়ে অনুষ্ঠানটি হবে আন্তর্জাতিক মানের। আয়োজকদের দাবি, ক্রিকেট মাঠে এমন আয়োজন আগে খুব কমই দেখা গেছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আরেকটি বড় আকর্ষণ হতে যাচ্ছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের অফিসিয়াল থিম সং ‘ফিল দ্য থ্রিল’। এই গানটি রচনা ও সুর করেছেন জনপ্রিয় সংগীত পরিচালক অনিরুধ রবিচন্দর। গানটি নিজেই গাইবেন অনিরুধ। তাঁর সুর মানেই তরুণদের মধ্যে আলাদা উত্তেজনা।

এই থিম সংয়ের মাধ্যমে বিশ্বকাপের মূল বার্তা তুলে ধরা হবে। ক্রিকেটের রোমাঞ্চ, জয়-পরাজয়ের টানাপোড়েন আর দর্শকদের আবেগ একসঙ্গে ধরা পড়বে এই গানে। উদ্বোধনী মঞ্চে প্রথমবার এই গান প্রকাশ পাওয়ায় উত্তেজনা আরও বেড়ে গেছে।

একই দিনে কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও স্কটল্যান্ড বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলতে নামবে। সেই ম্যাচের জন্য ইতিমধ্যেই দুই দল কলকাতায় পৌঁছেছে। তবুও দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের নজর বেশি থাকবে মুম্বইয়ের দিকে। কারণ ভারতের প্রথম ম্যাচ এবং তার আগে এই জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠান।

ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়াম সেদিন শুধু ক্রিকেটের মাঠ নয়, বরং এক বিশাল বিনোদন কেন্দ্র হয়ে উঠবে। স্টেডিয়ামের বাইরে ও ভেতরে থাকবে উৎসবের আমেজ। দর্শকরা ম্যাচ দেখতে এসে পাবেন এক পূর্ণাঙ্গ শোয়ের অভিজ্ঞতা।

সম্প্রতি নোরা ফতেহিকে ঘিরে ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও আলোচনা চলছে। মরোক্কান ফুটবলার আশরাফ হাকিমির সঙ্গে তাঁর প্রেমের গুঞ্জন শোনা গেছে। শোনা যায়, নোরা নাকি প্রেমিকের খেলা দেখতে মরক্কো পর্যন্ত গিয়েছিলেন। এসব খবর তাঁকে আরও বেশি আলোচনায় এনেছে। তবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নোরা থাকবেন পুরোপুরি পেশাদার শিল্পীর ভূমিকায়। তাঁর লক্ষ্য একটাই, বিশ্বকাপের মঞ্চে দর্শকদের সেরা বিনোদন উপহার দেওয়া।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান প্রমাণ করে দিয়েছে, আধুনিক ক্রিকেট শুধু মাঠের খেলায় সীমাবদ্ধ নেই। এটি এখন একটি বৈশ্বিক সংস্কৃতির অংশ। সংগীত, নৃত্য, আলো আর আবেগ মিলিয়ে ক্রিকেট হয়ে উঠেছে এক বিশাল উৎসব।

৭ ফেব্রুয়ারি ওয়াংখেড়েতে যে দৃশ্য তৈরি হতে চলেছে, তা শুধু ভারতের জন্য নয়, পুরো ক্রিকেটবিশ্বের জন্যই বিশেষ। নোরা ফতেহির নাচ, বাদশার গান, শিবমণির যন্ত্রসংগীত আর অনিরুধের থিম সং মিলিয়ে বিশ্বকাপের শুরুটা হবে রোমাঞ্চে ভরা। ক্রিকেটপ্রেমীরা তাই শুধু ম্যাচ নয়, এক স্মরণীয় সন্ধ্যার অপেক্ষায় দিন গুনছেন।

@ এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি। বাইরের কোন সাইটের তথ্যের জন্য যশোর খবর কতৃপক্ষ দায়বদ্ধ নয়।

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন