Homeযশোর খবরযশোরে প্রেমের ফাঁদে ভয়ংকর ঘটনা! ধর্ষণ, বিষ খাইয়ে হত্যাচেষ্টা

যশোরে প্রেমের ফাঁদে ভয়ংকর ঘটনা! ধর্ষণ, বিষ খাইয়ে হত্যাচেষ্টা

সেখানে একটি হোটেলে নিয়ে গিয়ে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তাকে ধর্ষণ করা হয়। টানা তিন দিন তিন রাত তাকে আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতন চালানো হয় বলে দাবি করেন তিনি।

Share

যশোরে প্রেমের সম্পর্কের প্রলোভনে ধর্ষণ,পরে বিষ খাইয়ে হত্যাচেষ্টা, অন্তরঙ্গ ছবি ছড়িয়ে দেওয়া ও ধারাবাহিক হুমকির অভিযোগ তুলে বিচার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন সোনিয়া আক্তার দিয়া নামে এক নারী।

শনিবার (৪ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে প্রেসক্লাব যশোরে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে তিনি আবেগঘন কণ্ঠে কষ্ট তাদের প্রতি নির্যাতন ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সোনিয়া আক্তার দিয়া জানান, তার বাড়ি যশোরের অভয়নগর উপজেলার পোতপাড়া গ্রামে। ২০২৪ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে যশোর শহরের শংকরপুর চোপদার পাড়ার শামীম আহমেদ মানুয়ার ছেলে এহসান আহমেদ ফয়সালের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। ধীরে ধীরে সেই পরিচয় গড়ে ওঠে প্রেমের সম্পর্কে।

তিনি অভিযোগ করেন, একপর্যায়ে ফয়সাল তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে ঘুরতে নিয়ে যান। সেখানে একটি হোটেলে নিয়ে গিয়ে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তাকে ধর্ষণ করা হয়। টানা তিন দিন তিন রাত তাকে আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতন চালানো হয় বলে দাবি করেন তিনি।

সোনিয়া বলেন, “আমি বারবার তাকে বিয়ের কথা বলেছি। কিন্তু সে শুধু সময়ক্ষেপণ করেছে। একসময় সরাসরি বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানায়। তখন আমি বুঝতে পারি, আমি প্রতারণার শিকার হয়েছি।”

পরবর্তীতে এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ১৫ মে যশোর কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন তিনি, যা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও অভিযোগ করেন, মামলা দায়েরের পর থেকেই তার ওপর শুরু হয় ভয়ভীতি ও চাপ সৃষ্টি। অভিযুক্ত ফয়সাল, তার পরিবার ও আত্মীয়স্বজন তাকে ডেকে নিয়ে মীমাংসার কথা বলে মামলা তুলে নিতে চাপ দেয়।

এতে রাজি না হওয়ায় তাকে জোরপূর্বক বিষ খাইয়ে অচেতন অবস্থায় ফেলে রাখা হয় বলে দাবি করেন তিনি। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। এ ঘটনায় তিনি ২০২৫ সালের ১১ সেপ্টেম্বর হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন।

তিনি আরও বলেন, “আমাকে বিভিন্ন সময় ফোনে ও সরাসরি হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। আমার বাসায় সন্ত্রাসী পাঠানো হয়েছে। আমাকে গুম ও এসিড নিক্ষেপের ভয় দেখানো হয়েছে। আমি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”

সোনিয়া অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত ফয়সাল তাদের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের কিছু ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর তিনি পর্নোগ্রাফি আইনে আরও একটি মামলা দায়ের করেন।

তিনি বলেন, “আমি একের পর এক মামলা করেছি বলে তারা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। এরপর তারা আমাকে ও আমার পরিবারকে বিভিন্নভাবে ফাঁসানোর চেষ্টা শুরু করে।”

সংবাদ সম্মেলনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি জানান, বর্তমানে তার পরিবার চরম হয়রানির শিকার। তার প্রতিবন্ধী পিতা ও ছোট ভাইদের নামেও মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। এমনকি তার এক ছোট ভাই সেই মামলায় কারাগারে রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, “আমরা যদি তাদের বাড়িতে হামলা করে ভাঙচুর করে থাকি, তাহলে সিসিটিভি ফুটেজ আছে—সেগুলো দেখে তদন্ত করা হোক। সত্য-মিথ্যা বের হয়ে আসবে।”

আবেগাপ্লুত হয়ে তিনি বলেন, “আমি একজন অসহায় ও গরিব মানুষ বলেই কি বিচার পাব না? আমার সঙ্গে যা হয়েছে, তা কোনো মেয়ের সঙ্গেই হওয়া উচিত নয়। আমার বাসায় হামলা হয়েছে, আমাকে ধর্ষণ করা হয়েছে, আমাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে—তবুও আসামিরা গ্রেফতার হচ্ছে না।”

তিনি আরও বলেন, “আমার প্রতিবন্ধী অসহায় পিতা ও ছোট ভাইদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে পুলিশ দিয়ে গ্রেফতার করানো হয়েছে। আমার পুরো পরিবার আজ অসহায় হয়ে পড়েছে।”

সংবাদ সম্মেলনে সোনিয়া আক্তার দিয়া প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়ে বলেন, ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে তার ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান তিনি।

শেষে তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, “আপনাদের লেখনীর মাধ্যমে প্রকৃত সত্য দেশবাসীর সামনে তুলে ধরুন। আমি ন্যায়বিচার চাই।”

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সোনিয়া আক্তার দিয়ার মা জুলি বেগম ও তার চাচা আজিজুল হক।


Discover more from Jashore Khabor

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

@ এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি। বাইরের কোন সাইটের তথ্যের জন্য যশোর খবর কতৃপক্ষ দায়বদ্ধ নয়।

Table of contents [hide]

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন