Homeস্পোটস ওয়ার্ল্ডআইপিএল স্পেশালরোহিতের ঝড়ে উড়ল KKR : ২২০ রানও বাঁচাতে পারল না নাইটরা!

রোহিতের ঝড়ে উড়ল KKR : ২২০ রানও বাঁচাতে পারল না নাইটরা!

Share

আইপিএল ২০২৬-এর শুরুতেই এক হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল দুই জনপ্রিয় দল—কলকাতা নাইট রাইডার্স (KKR) এবং মুম্বই ইন্ডিয়ান্স (MI)। ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে ক্রিকেটপ্রেমীরা দেখেছেন রানবন্যা, আগ্রাসী ব্যাটিং এবং দুর্বল বোলিংয়ের চিত্র।

শেষ পর্যন্ত রোহিত শর্মার দুর্দান্ত ইনিংসের সৌজন্যে সহজ জয় তুলে নেয় মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। অন্যদিকে, কেকেআরের বোলিং দুর্বলতা আবারও সামনে চলে আসে, যা তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

কলকাতা নাইট রাইডার্স: ২২০/৪
মুম্বই ইন্ডিয়ান্স: ২২৪/৪
ফলাফল: মুম্বই ইন্ডিয়ান্স ৬ উইকেটে জয়ী

টসে জিতে মুম্বই অধিনায়ক হার্দিক পাণ্ডিয়া প্রথমে ব্যাট করতে পাঠান কেকেআরকে। শুরুটা ছিল দারুণ। অজিঙ্ক রাহানে ও ফিন অ্যালেন শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে খেলতে থাকেন। মাত্র চার ওভারেই দল তুলে ফেলে ৫০-এর বেশি রান। মনে হচ্ছিল, বড় স্কোর আসছে।

রাহানে বিশেষভাবে নজর কাড়েন। তার শট সিলেকশন, টাইমিং—সবকিছুই ছিল নিখুঁত। অন্যদিকে, ফিন অ্যালেনও দ্রুত রান তুলছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করেই ম্যাচে টার্নিং পয়েন্ট আসে।

শার্দূল ঠাকুর নিজের স্লোয়ার বল দিয়ে অ্যালেনকে আউট করে দেন। এরপর একে একে গুরুত্বপূর্ণ উইকেট পড়তে থাকে। ২৫ কোটির ক্যামেরন গ্রিন বড় কিছু করতে পারেননি, দ্রুত আউট হয়ে যান। রাহানে যদিও ৬৭ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন, কিন্তু তিনিও শার্দূলের বলে ধরা পড়েন।

মাঝের ধাক্কা সামলে কেকেআরের স্কোরকে শক্ত জায়গায় নিয়ে যান অঙ্গকৃষ রঘুবংশী। তরুণ এই ব্যাটার দারুণ আত্মবিশ্বাস নিয়ে খেলেন এবং দলের রান ২০০ পার করতে সাহায্য করেন। রিঙ্কু সিং-ও শেষের দিকে গুরুত্বপূর্ণ ৩৩ রান যোগ করেন।

সব মিলিয়ে ২২০ রানের বড় স্কোর দাঁড় করায় কেকেআর, যা সাধারণত টি-টোয়েন্টিতে জয়ের জন্য যথেষ্ট বলে ধরা হয়। কিন্তু ওয়াংখেড়ের পিচে বিষয়টা একেবারেই আলাদা।

ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামের পিচ সবসময় ব্যাটারদের সাহায্য করে। এখানে বড় স্কোর তাড়া করা নতুন কিছু নয়। এই ম্যাচেও সেটাই দেখা গেল।

২২০ রানের লক্ষ্য নিয়ে ব্যাট করতে নেমে মুম্বই শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ছিল। কারণ তাদের দলে ছিলেন একজন বিশেষ ব্যাটার—রোহিত শর্মা।

অনেকদিন টি-টোয়েন্টি না খেললেও রোহিত শর্মা যেন নিজের ক্লাস ভুলে যাননি। ফিট এবং আগের থেকে আরও চনমনে রোহিতকে দেখে অনেকেই অবাক হয়েছেন। কিন্তু তার ব্যাটিং দেখলে বোঝা যায়—তিনি এখনও আগের মতোই বিপজ্জনক।

রোহিত ৭৮ রানের এক দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন। তার ব্যাট থেকে আসে ৬টি ছক্কা ও ৬টি চার। তার পুল শট, কভার ড্রাইভ—সবকিছু ছিল চোখ জুড়ানো।

মনে হচ্ছিল, তিনি শতরান করেই ফিরবেন। কিন্তু অনুকূল রায়ের অসাধারণ ক্যাচ তাকে থামিয়ে দেয়। তবুও, ম্যাচের ভাগ্য তখনই প্রায় ঠিক হয়ে গিয়েছিল।

রোহিতের সঙ্গে জুটি বেঁধে রায়ান রিকেলটনও দারুণ খেলেন। তিনি মাত্র ৪৩ বলে ৮১ রান করেন। তার ইনিংসে ছিল চারটি চার এবং আটটি বিশাল ছয়।

দুজনের ব্যাটে মাত্র ১২ ওভারের মধ্যেই মুম্বই পৌঁছে যায় ১৫০ রানের কাছাকাছি। এখান থেকেই বোঝা যাচ্ছিল, ম্যাচ মুম্বইয়ের হাতেই চলে গেছে।

শেষ পর্যন্ত হার্দিক পাণ্ডিয়ার নেতৃত্বে মুম্বই ৫ বল বাকি থাকতে ম্যাচ জিতে নেয়। হাতে ছিল ৬টি উইকেট। এত বড় লক্ষ্য তাড়া করে এই সহজ জয় দলের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়াবে।

এই ম্যাচে কেকেআরের সবচেয়ে বড় সমস্যা ছিল তাদের বোলিং। ২২০ রান করার পরও তারা ম্যাচ জিততে পারেনি, যা স্পষ্ট করে দেয় বোলিং ইউনিট কতটা দুর্বল।

ব্লেসিং মুজারাবানি নিজের ওভার শেষ করতে পারেননি। বৈভব অরোরা প্রচুর রান দিয়েছেন। বরুণ চক্রবর্তীও প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি—৪ ওভারে ৪৮ রান দিয়েছেন।

তরুণ বোলারদের উপর এত চাপ থাকলে তারা ভালো পারফর্ম করতে পারবে না—এটা খুব স্বাভাবিক।

ম্যাচে কেকেআরের সবচেয়ে বড় ঘাটতি ছিল আন্দ্রে রাসেলের অনুপস্থিতি। তিনি থাকলে ফিনিশিং হোক বা বোলিং—দুটো ক্ষেত্রেই দলের ভারসাম্য অনেক ভালো থাকত।

সমর্থকরাও স্পষ্টভাবে বুঝতে পারছেন, রাসেল ছাড়া দল অনেকটাই দুর্বল হয়ে গেছে।

অজিঙ্ক রাহানে এই ম্যাচে ভালো খেললেও পরে চোট পেয়ে মাঠের বাইরে চলে যান। তার চোট কতটা গুরুতর, সেটা এখনও পরিষ্কার নয়।

যদি তিনি দীর্ঘ সময়ের জন্য বাইরে থাকেন, তাহলে কেকেআরের সমস্যা আরও বাড়বে। কারণ তিনি শুধু ব্যাটিং নয়, নেতৃত্বের দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

এই ম্যাচের পর কেকেআরের সামনে অনেক প্রশ্ন উঠে এসেছে। ব্যাটিং ভালো হলেও বোলিং যদি ঠিক না হয়, তাহলে বড় স্কোরও কাজে আসবে না।

দলকে দ্রুত নিজেদের ভুল শুধরে নিতে হবে। বিশেষ করে বোলিং বিভাগে নতুন পরিকল্পনা করতে হবে। না হলে আইপিএল ২০২৬ তাদের জন্য কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

এই ম্যাচে আমরা দেখলাম, শুধু বড় রান করলেই জয় নিশ্চিত হয় না। ক্রিকেটে ভারসাম্যটাই আসল। মুম্বই ইন্ডিয়ান্স সেই ভারসাম্য বজায় রেখেই জয় তুলে নিয়েছে।

আর রোহিত শর্মা আবারও প্রমাণ করলেন—তিনি এখনও “হিটম্যান”, এবং বড় মঞ্চে তিনি সবসময়ই বড় কিছু করতে পারেন।

কেকেআরের জন্য এখন সময় নিজেদের ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়ার। কারণ আইপিএলের মতো টুর্নামেন্টে প্রতিটি ম্যাচই গুরুত্বপূর্ণ।


Discover more from Jashore Khabor

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

@ এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি। বাইরের কোন সাইটের তথ্যের জন্য যশোর খবর কতৃপক্ষ দায়বদ্ধ নয়।

Table of contents [hide]

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন