আগের ম্যাচে ‘রিটায়ার্ড আউট’ হয়ে মাঠ ছাড়ার সময় হরলীন দেওলের চোখেই দেখা যাচ্ছিল, কোচ অভিষেক নায়ারের সিদ্ধান্তে তিনি খুশি নন। তবে ২৪ ঘণ্টা পর মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের বিরুদ্ধে সেই হরলীনই ছিলেন ম্যাচের নায়ক, যিনি ইউপি-কে জিতিয়ে আনলেন তাদের প্রথম জয়।
আগের ম্যাচে সবচেয়ে বেশি স্ট্রাইক রেটে রান করেও তাঁকে তুলে নেওয়া হয়েছিল। সেই ভুলে ইউপি-ওয়ারিয়র্জ ডুবেছিল। এবার হরলীন ব্যাট হাতে প্রতিশোধ নিলেন। চার নম্বরে নেমে একের পর এক শক্তিশালী শট খেললেন এবং ৩২ বলেই ৬৪ রান করে অপরাজিত থেকে দলকে ৭ উইকেটে জয় এনে দিলেন।
মুম্বইয়ের ইনিংস: শুরুতে ধীর, পরে শিবর-ব্রান্টের জুটি
প্রথমে ব্যাট করতে নেমে মুম্বই ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১৬১ রান করে। ওপেনিং জুটিতে আমনজ্যোৎ কৌর ৩৮ রান করেন, আর জি কমলিনি রান পাননি। প্রথম ৬ ওভারে পাওয়ার প্লে-তে রান তোলা কম ছিল, যা পরে দলের জন্য চাপ তৈরি করে।
মুম্বইয়ের অধিনায়ক হরমনপ্রীত ১৬ রানে আউট হন। তবে ন্যাট শিভার-ব্রান্ট ও নিকোলা ক্যারের জুটি দলের ইনিংসকে শক্তি দিয়েছে। শিভার-ব্রান্ট ৪৩ বলে ৬৫ রান করেন, আর ক্যারে অপরাজিত ৩২ রান করে। ইউপির শিখা পাণ্ডে, দীপ্তি শর্মা, ইকলেস্টোন ও আশা শোভানা একটি করে উইকেট নেন।
ইউপির রান তাড়া: হরলীন খেললেন প্রতিশোধী ব্যাটিং
রান তাড়া করতে নেমে পাওয়ার প্লে-তে ধীরগতিতে শুরু করে ইউপি। কিরণ নবগিরে ১০ রান করে আউট হন। অধিনায়ক মেগ ল্যানিং ২৫ রান করেন ২৬ বল খেলেও ইনিংসের গতি ধরে রাখতে পারেননি।
তখনই মাঠে নামলেন হরলীন। একের পর এক বড় শট খেলতে থাকেন। শবনম ইসমাইল, শিভার-ব্রান্টের মতো অভিজ্ঞ বোলারদের বিরুদ্ধে খেললেন সাবলীল এবং আত্মবিশ্বাসী শট। ফিবি লিচফিল্ড তাঁকে সঙ্গ দিলেন।
শেষ ছ’ওভারে দরকার ছিল ৫১ রান। হরমনপ্রীত সব রকম চেষ্টা করলেও হরলীনকে থামাতে পারলেন না। ৩২ বলেই হরলীন অর্ধশতরান পূর্ণ করেন। ১২টি চার মেরে প্রতিটি শটের সঙ্গে আত্মবিশ্বাস আরও বাড়ান।
জয় এবং মঞ্চে প্রতিশোধ
ম্যাচ শেষ হয় ইউপির ৭ উইকেটে জয়ে। হরলীন ৩৯ বলে অপরাজিত ৬৪ রান করে দলের প্রথম জয় নিশ্চিত করেন। আগের ম্যাচে কোচের ভুল সিদ্ধান্তের জবাব দিয়েছেন তিনি। প্রতিশোধী এই ইনিংসই তাকে ম্যাচের হিরো বানিয়েছে।
এই জয়ে ইউপি-র টুর্নামেন্টের খাতা খুলল। হরলীন প্রমাণ করলেন, কখনও হারানো আত্মবিশ্বাস ও ভুল সিদ্ধান্তকে ধ্বংস হতে দেওয়া যায় না, বরং সঠিক সময়ে তা প্রতিশোধের শক্তি হিসেবে কাজ করতে পারে।

