Homeনির্বাচননড়াইলে প্রেস ব্রিফিং: নির্বাচন ঘিরে নিরাপত্তায় পুলিশের বিশেষ প্রস্তুতি জানালেন ডিআইজি

নড়াইলে প্রেস ব্রিফিং: নির্বাচন ঘিরে নিরাপত্তায় পুলিশের বিশেষ প্রস্তুতি জানালেন ডিআইজি

Share

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ ঘিরে নড়াইলসহ খুলনা অঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ প্রশাসন ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। এই প্রস্তুতির নানা দিক তুলে ধরতে নড়া্ইল জেলা পুলিশের উদ্যোগে এক বিশেষ প্রেস ব্রিফিং আয়োজন করা হয়।

এতে খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. রেজাউল হক পিপিএম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সার্বিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা, গোয়েন্দা তৎপরতা এবং ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিয়ে বিস্তারিত বক্তব্য দেন।

এই ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা তৈরি করা, ভোটারদের নিরাপদে ভোটকেন্দ্রে আসার পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধে পুলিশের প্রস্তুতির বার্তা দেওয়া হয়।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নড়াইল পুলিশ সুপারের সম্মেলন কক্ষে এই প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নড়াইল জেলার পুলিশ সুপার, পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডিআইজি রেজাউল হক বলেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে পুরো খুলনা রেঞ্জের পুলিশ সদস্যরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নির্বাচনী পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখা এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, জনগণের নিরাপত্তার সঙ্গে কোনো ধরনের আপস করা হবে না।

তিনি আরও বলেন, ভোটের দিন যাতে সাধারণ মানুষ নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারেন, সে জন্য প্রতিটি এলাকায় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পুলিশ বাহিনী মাঠপর্যায়ে সক্রিয়ভাবে কাজ করবে এবং যেকোনো অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি দ্রুত মোকাবিলা করার জন্য প্রস্তুত থাকবে।

ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিয়ে বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন ডিআইজি। তিনি জানান, প্রতিটি কেন্দ্রকে নিরাপত্তার আওতায় রাখতে পুলিশ, আনসার ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করবে। কেন্দ্রভিত্তিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়।

তিনি বলেন, ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ ও বের হওয়ার সময় ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। নারী, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ভোটারদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হবে। এই উদ্যোগের ফলে মানুষ নিশ্চিন্তে ভোট দিতে পারবেন এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া স্বাভাবিকভাবে সম্পন্ন হবে।

ডিআইজি রেজাউল হক স্পষ্ট ভাষায় হুঁশিয়ারি দেন যে, যেকোনো ধরনের নাশকতা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা কঠোর হাতে দমন করা হবে। নির্বাচন ঘিরে কেউ যদি অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে চায়, তাহলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সদস্যরা দিন-রাত কাজ করছেন। সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে সেখানে বাড়তি নজরদারি চালানো হচ্ছে। যাতে আগে থেকেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।

নির্বাচনকে সামনে রেখে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। ডিআইজি জানান, যেকোনো ধরনের গোপন পরিকল্পনা বা অশান্তির আশঙ্কা থাকলে তা আগেই শনাক্ত করার জন্য গোয়েন্দা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

পুলিশের পাশাপাশি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এর ফলে যেকোনো ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি আগে থেকেই মোকাবিলা করা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, এই সমন্বিত উদ্যোগ নির্বাচনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বড় ভূমিকা রাখবে।

বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বড় একটি প্রভাবশালী মাধ্যম। তাই নির্বাচন ঘিরে গুজব বা উস্কানিমূলক পোস্ট ছড়িয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার চেষ্টা হতে পারে। এই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে ডিআইজি জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশেষ নজরদারি রাখা হচ্ছে।

তিনি বলেন, কেউ যদি মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে বা অশান্তি উস্কে দেয়, তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জনগণকেও তিনি সতর্ক থাকার আহ্বান জানান এবং যাচাই না করা তথ্য শেয়ার না করার পরামর্শ দেন।

প্রেস ব্রিফিংয়ে ডিআইজি রেজাউল হক বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে অবাধ, সুষ্ঠু এবং শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করা পুলিশের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। জনগণের আস্থা ধরে রাখতে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ ভূমিকা রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, ভোটাররা যাতে কোনো ভয় বা চাপ ছাড়া নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সেই পরিবেশ তৈরি করাই পুলিশের মূল দায়িত্ব। এজন্য প্রতিটি স্তরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

ব্রিফিং শেষে ডিআইজি উপস্থিত সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। সাংবাদিকরা নিরাপত্তা পরিকল্পনা, ভোটকেন্দ্রের প্রস্তুতি এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন।

তিনি বলেন, জনগণের সহযোগিতা ছাড়া কোনো বড় আয়োজন সফল করা সম্ভব নয়। তাই সবাইকে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। কোনো সন্দেহজনক কার্যকলাপ চোখে পড়লে দ্রুত পুলিশকে জানাতে বলেন।

নড়াইল জেলা পুলিশ ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করেছে। বিভিন্ন এলাকায় টহল জোরদার করা হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বাড়তি নজরদারি রাখা হয়েছে। নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই এই কার্যক্রম আরও বাড়ানো হবে।

পুলিশ সুপারও ব্রিফিংয়ে জানান, জেলার প্রতিটি থানা ও ফাঁড়িকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনী এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ সদস্যরা সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন।

@ এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি। বাইরের কোন সাইটের তথ্যের জন্য যশোর খবর কতৃপক্ষ দায়বদ্ধ নয়।

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন