Homeক্যান্টনমেন্টে জামায়াত প্রার্থী নিয়ে তোলপাড় : এক্স-ফোর্সেস অ্যাসোসিয়েশনের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

ক্যান্টনমেন্টে জামায়াত প্রার্থী নিয়ে তোলপাড় : এক্স-ফোর্সেস অ্যাসোসিয়েশনের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

Share

ঢাকা-১৭ আসনে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য প্রার্থী ডা. এস এম খালিদুজ্জামানকে ঘিরে সাম্প্রতিক এক ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় গানম্যানসহ প্রবেশের চেষ্টা ও সেখানে দায়িত্বরত সেনাসদস্যদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডার পর বিষয়টি নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ‘এক্স-ফোর্সেস অ্যাসোসিয়েশন’। সংগঠনটি আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রকাশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার আলটিমেটাম দিয়েছে। অন্যথায় ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় তাকে পিএনজি বা অবাঞ্ছিত ঘোষণা করার জোরালো দাবি তুলেছে তারা।

ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন ডা. খালিদুজ্জামান কয়েকজন সহযোগী ও সশস্ত্র গানম্যান নিয়ে ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় প্রবেশের চেষ্টা করেন। নিরাপত্তা বিধির কারণে দায়িত্বপ্রাপ্ত সেনাসদস্যরা তাকে অস্ত্রসহ ভেতরে যেতে বাধা দেন। এখানেই শুরু হয় কথাকাটি। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, বিষয়টি শান্তভাবে সমাধান করা সম্ভব হলেও প্রার্থীর আচরণ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।

ক্যান্টনমেন্ট একটি সংবেদনশীল রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা এলাকা। এখানে প্রবেশের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম ও শৃঙ্খলা মানা বাধ্যতামূলক। রাজনৈতিক পরিচয় থাকলেও এসব নিয়মের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই—এটাই প্রচলিত রীতি।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) এক্স-ফোর্সেস অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট লেফটেন্যান্ট সাইফুল্লাহ খান সাইফ (অব.) স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ঘটনার কড়া সমালোচনা করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ডা. খালিদুজ্জামান অস্ত্রসহ ক্যান্টনমেন্টে ঢোকার চেষ্টা করেন এবং বাধা পেলে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেন। পাশাপাশি তিনি সেনাসদস্যদের উদ্দেশে অবমাননাকর ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ তোলা হয়।

সংগঠনটির ভাষ্য অনুযায়ী, এ ধরনের আচরণ শুধু ব্যক্তিগত শিষ্টাচারের লঙ্ঘন নয়; বরং এটি সামরিক বাহিনীর মনোবল, মর্যাদা এবং রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলার ওপর সরাসরি আঘাত।

এক্স-ফোর্সেস অ্যাসোসিয়েশন স্পষ্টভাবে জানায়, সামরিক বাহিনীর সম্মান ও জাতীয় নিরাপত্তা প্রশ্নে তারা কোনো ধরনের আপস করবে না। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ক্যান্টনমেন্ট কোনো রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের জায়গা নয়। এটি একটি সংরক্ষিত এলাকা, যেখানে আইন ও নিরাপত্তা বিধান সর্বোচ্চ গুরুত্ব পায়।

সংগঠনটির মতে, রাজনৈতিক পরিচয় বা নির্বাচনী প্রার্থী হওয়া কাউকে সংবিধান ও আইনের ঊর্ধ্বে দাঁড়ানোর অধিকার দেয় না। বরং একজন জনপ্রতিনিধি বা প্রার্থীর কাছ থেকে আরও দায়িত্বশীল আচরণ প্রত্যাশিত।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ডা. খালিদুজ্জামান যদি আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তার আচরণের জন্য প্রকাশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা না চান এবং ভবিষ্যতে এমন আচরণ না করার অঙ্গীকার না করেন, তাহলে তাকে ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় পিএনজি (পারসোনা নন গ্রেটা) বা অবাঞ্ছিত ঘোষণা করার দাবি জানানো হবে।

এই আলটিমেটাম রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এটি শুধু একটি ব্যক্তিগত ঘটনার প্রতিক্রিয়া নয়; বরং সামগ্রিকভাবে শৃঙ্খলা ও আইন মানার বার্তা।

ঘটনার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ৭ মিনিট ৩৬ সেকেন্ডের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, ক্যান্টনমেন্টে প্রবেশের সময় সেনাসদস্যদের সঙ্গে ডা. খালিদুজ্জামানের তর্ক-বিতর্ক। এক সেনাসদস্য তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেন যে অস্ত্র নিয়ে ক্যান্টনমেন্টে প্রবেশ নিষিদ্ধ।

ভিডিওতে প্রার্থীকে বলতে শোনা যায়, অন্য রাজনৈতিক নেতাদের ক্ষেত্রে নাকি ভিন্ন আচরণ করা হয়—এমন অভিযোগও তিনি তোলেন। এসব মন্তব্য সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। অনেকেই এটিকে দায়িত্বজ্ঞানহীন ও উসকানিমূলক বক্তব্য হিসেবে দেখছেন।

ভিডিওতে আরও দেখা যায়, ডা. খালিদুজ্জামান সেনাসদস্যদের উদ্দেশে অভিযোগ করেন যে তারা দেশকে ধ্বংসের পথে নিয়ে যাচ্ছেন এবং ব্যক্তিস্বার্থে সরকার ও প্রশাসনকে বিতর্কিত করছেন। এমন বক্তব্যকে অনেকেই অগ্রহণযোগ্য ও আপত্তিকর বলে মন্তব্য করেছেন।

পরবর্তীতে তিনি মোবাইল ফোনে এক সেনা কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেন। সেখান থেকেও কোনো বিশেষ নির্দেশনা না পেয়ে তিনি শেষ পর্যন্ত গাড়িতে উঠে স্থান ত্যাগ করেন।

ঘটনার দিন দুপুরে ডা. খালিদুজ্জামান তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি পোস্ট দিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি পুরো ঘটনাকে ‘ভুল বোঝাবুঝি’ হিসেবে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেন। তবে এক্স-ফোর্সেস অ্যাসোসিয়েশন তার এই দুঃখ প্রকাশকে যথেষ্ট মনে করেনি।

সংগঠনটির মতে, শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাধারণ দুঃখ প্রকাশ যথেষ্ট নয়। প্রকাশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়া এবং ভবিষ্যতে এমন আচরণ না করার স্পষ্ট অঙ্গীকার জরুরি।

এই ঘটনা আবারও রাজনীতিতে শিষ্টাচার ও দায়িত্বশীল আচরণের প্রশ্ন সামনে এনেছে। বিশেষ করে নির্বাচনের সময় প্রার্থীদের আচরণ জনমনে বড় প্রভাব ফেলে। ক্যান্টনমেন্টের মতো সংবেদনশীল এলাকায় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ থাকলে তা রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিকর হতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, এক্স-ফোর্সেস অ্যাসোসিয়েশনের এই কঠোর অবস্থান ভবিষ্যতে রাজনৈতিক নেতাদের জন্য একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে। এতে করে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও সামরিক বাহিনীর মর্যাদা রক্ষায় আরও সচেতনতা তৈরি হবে।

@ এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি। বাইরের কোন সাইটের তথ্যের জন্য যশোর খবর কতৃপক্ষ দায়বদ্ধ নয়।

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন