Homeট্রেন্ডিং নিউজ‘ওসিডি’ ট্রেলার রিভিউ, জয়া আহসানের সাইকোলজিক্যাল থ্রিলারে লুকোনো ভয়ঙ্কর গল্প

‘ওসিডি’ ট্রেলার রিভিউ, জয়া আহসানের সাইকোলজিক্যাল থ্রিলারে লুকোনো ভয়ঙ্কর গল্প

সৌকর্য ঘোষালের সংবেদনশীল নির্মাণ আর নতুন মুখ আর্শিয়ার উপস্থিতি—সব মিলিয়ে ‘ওসিডি’ ইতিমধ্যেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

Share

মানুষের মনের ভেতর লুকিয়ে থাকা ক্ষত অনেক সময় বাইরে থেকে বোঝা যায় না। ছোটবেলার কোনও অন্ধকার অভিজ্ঞতা কীভাবে ধীরে ধীরে একজন মানুষকে বদলে দেয়, কীভাবে স্বাভাবিক জীবন থেকে তাকে ঠেলে দেয় ভয়ংকর এক পথে—সেই কথাই বলছে সৌকর্য ঘোষালের নতুন সিনেমা ‘ওসিডি’। সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া ট্রেলারেই স্পষ্ট, এটি শুধু আর পাঁচটা থ্রিলার নয়। এটি একেবারে ভেতরের ক্ষত নিয়ে কথা বলে। সেই ক্ষত যেটা সারাজীবন বয়ে বেড়াতে হয়।

‘ওসিডি’ শব্দটার সঙ্গে আমরা অনেকেই পরিচিত। অবসেসিভ কম্পালসিভ ডিসঅর্ডার। সহজ করে বললে, কোনও একটা কাজ বা অভ্যাস নিয়ে অস্বাভাবিক মাত্রার টান। পরিচ্ছন্নতার নেশা তার মধ্যে অন্যতম। কিন্তু এই সিনেমা দেখাচ্ছে, এই নেশার পেছনেও লুকিয়ে থাকতে পারে গভীর যন্ত্রণা, ভয় আর রাগ। ট্রেলার জুড়ে সেই ইঙ্গিতই বারবার ধাক্কা দেয়।

শৈশবের ক্ষত আর মানসিক বিকার

‘ওসিডি’ সিনেমার মূল গল্প ঘুরছে শিশু নির্যাতনের দীর্ঘমেয়াদি মানসিক প্রভাবকে ঘিরে। ছোটবেলায় ঘটে যাওয়া কোনও ভয়ানক অভিজ্ঞতা কীভাবে একজন শিশুর মননে গেঁথে যায়, পরিচালক সেই বিষয়টাকেই সামনে এনেছেন। এখানে নির্যাতন শুধু শারীরিক নয়, মানসিকও। আর সেই মানসিক আঘাতই ভবিষ্যতে রূপ নেয় ভয়ংকর প্রতিশোধস্পৃহায়।

অনেক সময় আমরা বলি, “ও তো ছোটবেলার কথা, ভুলে যাবে।” কিন্তু বাস্তবে তা হয় না। সেই কথাই ট্রেলারের প্রতিটা দৃশ্যে ফুটে উঠেছে। একের পর এক অপরাধের পেছনে যে একটা পরিষ্কার ‘ব্লু প্রিন্ট’ থাকতে পারে, সেটা দেখানোর চেষ্টা করেছেন সৌকর্য ঘোষাল। পরিচ্ছন্নতার প্রতি অস্বাভাবিক আসক্তি এখানে শুধু রোগ নয়, এক ধরনের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা।

জয়া আহসানের শ্বেতা চরিত্র

এই সিনেমায় জয়া আহসান অভিনয় করেছেন শ্বেতা নামের এক চিকিৎসকের ভূমিকায়। বাইরে থেকে তিনি ভীষণ পরিপাটি, শান্ত, নিজের কাজে দক্ষ। কিন্তু তাঁর ভেতরের জগৎ একেবারেই অন্যরকম। অতীতের ধূসর স্মৃতি তাঁকে ছেড়ে যায় না। যেন মনের কোণে সবসময় জমে থাকে কালো মেঘ।

শ্বেতার জীবনের সবচেয়ে বড় সমস্যা, তিনি নিজেই নিজের অতীত থেকে পালাতে পারেন না। সেই অতীত যখন আচমকা অন্য একজন জেনে ফেলে, তখন পরিস্থিতি ভয়ংকর হয়ে ওঠে। ট্রেলারে দেখা যায়, সেই মুহূর্ত থেকেই শ্বেতার আচরণ বদলে যেতে শুরু করে। আশেপাশের মানুষজন, যারা তাঁর বিপক্ষে দাঁড়ায় বা প্রশ্ন তোলে, তাদের প্রতিই জন্ম নেয় তীব্র বিতৃষ্ণা।

মনস্তাত্ত্বিক থ্রিলারের নতুন রূপ

‘ওসিডি’কে শুধু থ্রিলার বললে ভুল হবে। এটি একেবারে মনস্তাত্ত্বিক থ্রিলার। এখানে খুন বা অপরাধের পাশাপাশি গুরুত্ব পেয়েছে মানুষের মানসিক অবস্থার বিশ্লেষণ। কেন কেউ অপরাধ করে, কী তাকে সেই পথে ঠেলে দেয়—এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতে চেয়েছেন নির্মাতারা।

ট্রেলার দেখে বোঝা যায়, সিনেমার গল্প এগিয়েছে নির্যাতিত শিশুর দৃষ্টিভঙ্গি থেকে। এই জায়গাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বেশিরভাগ সময় গল্পগুলো বড়দের চোখ দিয়ে বলা হয়। এখানে সেই চেনা ছক ভেঙে ভুক্তভোগীর মানসিক যাত্রাকেই সামনে আনা হয়েছে।

আর্শিয়া মুখোপাধ্যায়ের বড়পর্দায় অভিষেক

এই সিনেমার আরেকটা বড় আকর্ষণ আর্শিয়া মুখোপাধ্যায়। টেলিভিশনের দর্শকদের কাছে সে ‘ভূতু’ নামেই বেশি পরিচিত। ‘ওসিডি’র হাত ধরেই সে প্রথমবার বড়পর্দায় পা রাখতে চলেছে। ট্রেলারেই স্পষ্ট, আর্শিয়ার চরিত্রটা মোটেও ছোট বা পাশ কাটানো নয়। গল্পের গুরুত্বপূর্ণ এক অংশ সে।

প্রথম ছবিতেই জয়া আহসান, কৌশিক সেন, অনসূয়া মজুমদার, কনীনিকা বন্দ্যোপাধ্যায়দের মতো অভিজ্ঞ অভিনেতাদের সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করা আর্শিয়ার জন্য নিঃসন্দেহে বড় প্রাপ্তি। তার অভিনয়ের ঝলক ট্রেলারে কৌতূহল আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

পরিচ্ছন্নতার নেশা আর অপরাধের যোগসূত্র

‘ওসিডি’ সিনেমার সবচেয়ে শক্তিশালী দিক হলো পরিচ্ছন্নতার নেশাকে যেভাবে অপরাধের সঙ্গে জুড়ে দেখানো হয়েছে। এখানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা শুধু অভ্যাস নয়, এটি এক ধরনের মানসিক প্রতিরক্ষা। শ্বেতা যেন নিজের চারপাশ পরিষ্কার রেখে নিজের ভেতরের অগোছালো স্মৃতিগুলো ঢেকে রাখতে চান।

এই ধারণাটা খুব বাস্তব। অনেক মানুষই জীবনের কোনও অংশে নিয়ন্ত্রণ হারালে অন্য কোনও জায়গায় অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ দেখাতে শুরু করে। সিনেমাটি সেই মনস্তাত্ত্বিক সত্যিটাই পর্দায় তুলে ধরছে।

মুক্তির তারিখ আর প্রত্যাশা

আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি মুক্তি পাচ্ছে ‘ওসিডি’। মুক্তির আগেই ট্রেলার দর্শকদের মধ্যে কৌতূহলের পারদ চড়িয়ে দিয়েছে। যারা মানসিক থ্রিলার পছন্দ করেন, যারা গল্পের গভীরে ঢুকে মানুষের মন বুঝতে চান, তাঁদের জন্য এই সিনেমা আলাদা কিছু হতে চলেছে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, ‘ওসিডি’ শুধু একটি সিনেমা নয়। এটি এক ধরনের সতর্কবার্তা। শৈশবের ক্ষতকে হালকা করে দেখলে ভবিষ্যতে তার ফল কতটা ভয়ংকর হতে পারে, সেই কথাই মনে করিয়ে দেয় এই ছবি। জয়া আহসানের শক্তিশালী অভিনয়, সৌকর্য ঘোষালের সংবেদনশীল নির্মাণ আর নতুন মুখ আর্শিয়ার উপস্থিতি—সব মিলিয়ে ‘ওসিডি’ ইতিমধ্যেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

@ এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি। বাইরের কোন সাইটের তথ্যের জন্য যশোর খবর কতৃপক্ষ দায়বদ্ধ নয়।

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন