Homeনির্বাচনসমতাভিত্তিক ও জ্ঞাননির্ভর রাষ্ট্র গড়ার প্রত্যয়: ডা. জুবাইদা রহমানের রাজনৈতিক বার্তা

সমতাভিত্তিক ও জ্ঞাননির্ভর রাষ্ট্র গড়ার প্রত্যয়: ডা. জুবাইদা রহমানের রাজনৈতিক বার্তা

Share

বাংলাদেশের রাজনীতিতে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে সমতাভিত্তিক রাষ্ট্র, শ্রমের মর্যাদা এবং জ্ঞাননির্ভর সমাজ গঠনের অঙ্গীকার। বিএনপি ক্ষমতায় এলে এমন একটি রাষ্ট্র উপহার দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে সাধারণ মানুষের কথা, শ্রমজীবী মানুষের অধিকার এবং ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের রূপরেখা।

ঢাকার হাতিরঝিলের অ্যাম্ফিথিয়েটারে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি স্পষ্ট করে বলেন, রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে থাকতে হবে জনগণকে। ক্ষমতার আগে জনতা এবং ব্যক্তির আগে দেশ—এই দর্শন নিয়েই বিএনপি এগোতে চায়।

ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, একটি রাষ্ট্র তখনই এগিয়ে যায়, যখন সেখানে শ্রমের যথাযথ মর্যাদা থাকে। শুধু বড় বড় প্রকল্প নয়, একজন কৃষক, একজন শ্রমিক, একজন শিক্ষক কিংবা একজন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তার অবদানকেও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিতে হয়। তাঁর মতে, শ্রমকে অবহেলা করে কখনো টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।

তিনি আরও বলেন, মেধার সঠিক মূল্যায়ন না হলে সমাজে হতাশা বাড়ে। মেধাবীরা দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। বিএনপি এমন বাংলাদেশ গড়তে চায়, যেখানে যোগ্যতা ও দক্ষতাই হবে এগিয়ে যাওয়ার প্রধান চাবিকাঠি। পরিচয় নয়, কাজই হবে পরিচয়ের মাপকাঠি।

অনেকের কাছেই “সমতাভিত্তিক রাষ্ট্র” কথাটি শুনতে ভালো লাগলেও এর বাস্তব অর্থ পরিষ্কার নয়। ডা. জুবাইদা রহমান এই ধারণাকে সহজভাবে ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, সমতাভিত্তিক রাষ্ট্র মানে সবাই এক রকম হবে না। বরং সবাই সমান সুযোগ পাবে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কাজ এবং ন্যায্য বিচার—এই মৌলিক অধিকারগুলো নিশ্চিত করাই সমতাভিত্তিক রাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, শোষণের আগে অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। কেউ যেন শুধুমাত্র ক্ষমতাবান হওয়ার কারণে সুবিধা না পায়, আবার কেউ গরিব হওয়ার কারণে বঞ্চিত না হয়। এই ভারসাম্যই রাষ্ট্রকে শক্তিশালী করে।

ডা. জুবাইদা রহমানের বক্তব্যে বারবার উঠে এসেছে একটি বাক্য—নেতার আগে জনতা। তিনি বলেন, রাজনীতি যদি জনগণের জন্য না হয়, তাহলে সেই রাজনীতি অর্থহীন। একজন নেতা তখনই সফল, যখন সাধারণ মানুষ নিরাপদ ও সম্মানিত বোধ করে।

তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে মানুষের কথা শোনা হবে। জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। রাজনীতি হবে পরিকল্পনাভিত্তিক, আবেগনির্ভর নয়। এতে করে দীর্ঘমেয়াদে সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব হবে।

বাংলাদেশের অন্যতম বড় সমস্যা হলো পরিকল্পনার অভাব। ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, সমস্যা চিহ্নিত না করে সমাধান সম্ভব নয়। বিএনপি এই জায়গায় গুরুত্ব দিতে চায়। প্রতিটি খাতের সমস্যা আলাদাভাবে বিশ্লেষণ করে বাস্তবসম্মত সমাধানের পথ বের করা হবে।

তিনি বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, শিল্প ও কৃষি—সব খাতেই সমন্বিত পরিকল্পনা দরকার। এক খাতের উন্নয়ন অন্য খাতের সঙ্গে যুক্ত না হলে সামগ্রিক উন্নয়ন আসে না। এই সমন্বয়ই বিএনপির রাজনীতির মূল শক্তি হতে চায়।

ডা. জুবাইদা রহমান তাঁর বক্তব্যে আশার কথাও শোনান। তিনি বলেন, এখন বাংলাদেশের জন্য একটি নতুন সূর্যোদয়ের সময়। দীর্ঘদিনের সমস্যা থাকলেও সঠিক নেতৃত্ব ও পরিকল্পনা থাকলে তা সমাধান সম্ভব।

তিনি বলেন, “আমরা বলি আমার আগে আমরা, আমাদের আগে দেশ।” এই দর্শন শুধু স্লোগান নয়, বরং একটি রাজনৈতিক অঙ্গীকার। ব্যক্তি স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে দল ও দেশকে অগ্রাধিকার দেওয়ার মানসিকতাই পরিবর্তনের পথ দেখাতে পারে।

মতবিনিময় সভায় জানানো হয়, বিএনপি শিগগিরই তাদের নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করতে যাচ্ছে। এই ইশতেহারে সমাজের সব শ্রেণি ও পেশার মানুষের সমস্যাগুলো স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হবে। শুধু সমস্যা নয়, থাকবে বাস্তবভিত্তিক সমাধানের রূপরেখাও।

ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, ইশতেহার হবে মানুষের কথা বলার দলিল। এটি কাগজে সীমাবদ্ধ থাকবে না। বাস্তবায়নের জন্য দলীয়ভাবে প্রস্তুতি নেওয়া হবে। মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো হবে, যাতে নীতিনির্ধারণে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়।

ডা. জুবাইদা রহমান নিজে একজন নারী হিসেবে রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন। তিনি বলেন, নারীদের অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো রাষ্ট্রই পূর্ণতা পায় না। বিএনপি নারীদের ক্ষমতায়নে বিশ্বাস করে এবং ভবিষ্যতে আরও বেশি নারী নেতৃত্ব তৈরি করতে চায়।

তিনি বলেন, অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতি মানে শুধু নারী নয়, তরুণ, সংখ্যালঘু, প্রতিবন্ধী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কণ্ঠস্বর শোনা। সবাইকে সঙ্গে নিয়েই সমতাভিত্তিক রাষ্ট্র গড়া সম্ভব।

ডা. জুবাইদা রহমানের বক্তব্যে স্পষ্ট একটি বার্তা পাওয়া যায়। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে তারা শুধু সরকার গঠন নয়, রাষ্ট্রের চরিত্র বদলাতে চায়। শ্রমের মর্যাদা, মেধার মূল্যায়ন এবং সমান সুযোগের ভিত্তিতে একটি জ্ঞাননির্ভর রাষ্ট্র গড়াই তাদের লক্ষ্য।

এই অঙ্গীকার কতটা বাস্তবায়ন হবে, তা সময়ই বলে দেবে। তবে তাঁর কথায় যে প্রত্যাশা ও আশার কথা উঠে এসেছে, তা নিঃসন্দেহে দেশের রাজনীতিতে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। জনগণের আগে নেতা নয়—এই দর্শন যদি বাস্তবে রূপ পায়, তাহলে বাংলাদেশ সত্যিই একটি সমতাভিত্তিক রাষ্ট্রের পথে এগোতে পারে।

@ এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি। বাইরের কোন সাইটের তথ্যের জন্য যশোর খবর কতৃপক্ষ দায়বদ্ধ নয়।

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন