Homeনির্বাচনযশোর-৩ এ ধানের শীষের গণজোয়ার: অনিন্দ্য ইসলাম অমিতকে ঘিরে ঐক্যের বার্তা

যশোর-৩ এ ধানের শীষের গণজোয়ার: অনিন্দ্য ইসলাম অমিতকে ঘিরে ঐক্যের বার্তা

উন্নয়ন কেবল অবকাঠামোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। প্রকৃত উন্নয়ন তখনই সম্ভব, যখন মানুষ নিরাপদ বোধ করবে এবং সামাজিক বন্ধন দৃঢ় হবে।

Share

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে যশোর-৩ (সদর) আসনে নির্বাচনী মাঠে স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান এক শক্তিশালী গণজোয়ার। বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের পক্ষে ধানের শীষ প্রতীকে যে ব্যাপক জনসমর্থন তৈরি হয়েছে, তা এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। ধর্ম-বর্ণ, নারী-পুরুষ, পেশা নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষ একটি নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও উন্নত যশোর গড়ার প্রত্যাশায় ঐক্যবদ্ধ হচ্ছেন। এই ঐক্যের মূল সুর একটাই—কিশোর গ্যাং, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজমুক্ত যশোর।

নির্বাচনী প্রচারণার শুরু থেকেই অনিন্দ্য ইসলাম অমিত মাঠে সক্রিয়। তিনি কেবল পথসভা বা পোস্টারনির্ভর প্রচারণায় সীমাবদ্ধ থাকেননি। বরং পাড়া-মহল্লায় ঘুরে ঘুরে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেছেন। যশোর পৌরসভার ১ ও ২ নম্বর ওয়ার্ডে তিনি বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের খোঁজ নিয়েছেন, তাদের সমস্যার কথা শুনেছেন এবং আগামী দিনের যশোর কেমন হওয়া উচিত—সে বিষয়ে মতামত নিয়েছেন। এই সরাসরি সংযোগ ভোটারদের কাছে তাকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলেছে।

মানুষের কথা শোনার এই উদ্যোগে অনেকেই নিজেদের দীর্ঘদিনের না বলা কষ্ট ও প্রত্যাশা প্রকাশের সুযোগ পেয়েছেন। এতে প্রচারণা পরিণত হয়েছে এক ধরনের গণসংলাপে, যেখানে প্রার্থী ও ভোটার একই লক্ষ্যে কথা বলছেন।

রাঙ্গামাটি গ্যারেজ মোড় এলাকায় গণসংযোগকালে স্থানীয় বাসিন্দা মুক্তি রানীর বক্তব্য নির্বাচনী পরিবেশে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। তিনি বলেন, যশোরে এমন একটি সমাজ দরকার যেখানে হিন্দু-মুসলিম সবাই নিরাপদে ও শান্তিতে বসবাস করতে পারবে। তার কথায় উঠে আসে অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের পিতা তরিকুল ইসলামের স্মৃতি। তিনি জানান, তরিকুল ইসলাম অতীতে যশোরে যে সম্প্রীতির পরিবেশ তৈরি করেছিলেন, সেটিই আজ মানুষ আবারও ফিরে পেতে চায়।

মুক্তি রানীর বক্তব্য শেষ হওয়ার আগেই কার্তিক চন্দ্র একই সুরে কথা বলেন। পূজা উদযাপন পরিষদের সাবেক নেতা হিসেবে তার অভিজ্ঞতা থেকে তিনি জানান, সংকটের সময় তরিকুল ইসলাম সবসময় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। ধর্মীয় নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় তার ভূমিকা স্থানীয়দের মনে গভীর ছাপ রেখে গেছে।

কার্তিক চন্দ্র আরও স্মরণ করেন বাবরি মসজিদ ইস্যুকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার সময়কার কথা। সেই কঠিন সময়ে তরিকুল ইসলাম ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত থেকে জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছিলেন। স্থানীয়দের মতে, সেই নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা এখন অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের মধ্যেও দেখা যাচ্ছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর যশোরে যখন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, তখন অনিন্দ্য ইসলাম অমিত স্থানীয় বাসিন্দাদের বাড়িঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় উপাসনালয়ের নিরাপত্তায় ভূমিকা রাখেন বলে অনেকেই জানান। এই বাস্তব অভিজ্ঞতাই ভোটারদের আস্থাকে আরও দৃঢ় করেছে।

বারান্দীপাড়া কদমতলার মোড়ে স্থানীয় বাসিন্দা কামাল হোসেনের বক্তব্যে উঠে আসে যশোরের আরেকটি বড় সমস্যা। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, কিশোর গ্যাং, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির কারণে সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে অনিরাপদ জীবন কাটিয়েছে। অতীতে এই সমস্যাগুলো যখন নিয়ন্ত্রণে ছিল, তখন যশোর ছিল বসবাসের জন্য শান্ত একটি শহর।

কামাল হোসেনের মতে, তরিকুল ইসলামের সময় যশোরে যে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা ছিল, মানুষ আজও সেটি স্মরণ করে। তিনি বিশ্বাস করেন, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত সেই পথ অনুসরণ করে যশোরকে আবারও নিরাপদ শহরে রূপ দিতে পারবেন। এই বিশ্বাসই ধানের শীষের পক্ষে জনসমর্থনকে আরও শক্তিশালী করছে।

দিনভর প্রচার-প্রচারণা শেষে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত নিজেও ভোটারদের সাড়া নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, প্রচারণার প্রথম দিন থেকেই যে আন্তরিক সাড়া পাচ্ছেন, তা তার কল্পনার চেয়েও বেশি। নারী-পুরুষ, তরুণ-বৃদ্ধ, সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষ ধানের শীষকে তাদের আস্থার প্রতীক হিসেবে দেখছেন।

তার ভাষায়, ধানের শীষ শুধু একটি প্রতীক নয়; এটি উন্নয়ন, গণতন্ত্র ও সামাজিক সৌহার্দ্যের প্রতিচ্ছবি। তিনি দৃঢ় কণ্ঠে জানান, সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকলে ভোট বিপ্লবের মাধ্যমে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত হবে।

অনিন্দ্য ইসলাম অমিত তার বক্তব্যে ব্যক্তিগত অঙ্গীকারও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, প্রয়াত পিতার মতোই তিনি মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করতে চান। তার লক্ষ্য একটি এমন যশোর গড়া, যেখানে কিশোর গ্যাং থাকবে না, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির কোনো স্থান থাকবে না, এবং যেখানে সাম্য ও সম্প্রীতির পরিবেশ বজায় থাকবে।

তিনি মনে করেন, উন্নয়ন কেবল অবকাঠামোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। প্রকৃত উন্নয়ন তখনই সম্ভব, যখন মানুষ নিরাপদ বোধ করবে এবং সামাজিক বন্ধন দৃঢ় হবে। এই দর্শন থেকেই তিনি তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি সাজিয়েছেন।

প্রচারণার দ্বিতীয় দিনে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত মোল্লাপাড়া, বারান্দীপাড়া বৌ বাজার, সিটি কলেজ পাড়া, রাঙ্গামাটি গ্যারেজ মোড়, বারান্দীপাড়া কদমতলা, পন্ডিতপুকুর পাড় ও খালদার রোডসহ বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করেন। প্রতিটি এলাকাতেই স্থানীয়দের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো।

এই কর্মসূচিতে তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন নগর বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম চৌধুরী মুল্লুক চাঁদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুজ্জামান মাসুম, বিএনপি নেতা ও সাবেক কাউন্সিলর শেখ রাশেদ আব্বাস রাজ, সালাউদ্দিন, বাংলাদেশ মোটর পার্টস ও টায়ার টিউব ব্যবসায়ী সমিতি যশোর সার্কেলের সভাপতি শাহিনুর হোসেন ঠান্ডু, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব রাজিদুর রহমান সাগরসহ আরও অনেকে। দলীয় নেতাকর্মীদের এই সক্রিয় উপস্থিতি প্রচারণাকে আরও সংগঠিত করেছে।

@ এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি। বাইরের কোন সাইটের তথ্যের জন্য যশোর খবর কতৃপক্ষ দায়বদ্ধ নয়।

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন