ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে যশোর শহরের কোতোয়ালি মডেল থানার পুরাতন ভবন। সেখানে নির্মাণ করা হবে আধুনিক চারতলা ভবন। ইতোমধ্যে এ সংক্রান্ত সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে এবং এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ থেকেই ভাঙার কাজ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
পরে নির্মাণ কাজ শুরু হবে। ১১ কোটি ৭২ লাখ টাকা ব্যয়ে চারতলা বিশিষ্ট একটি আধুনিক ভবন নির্মাণ করা হবে, যার ফাউন্ডেশন থাকবে ছয়তলা পর্যন্ত। এর সার্বিক দেখভালের দায়িত্বে রয়েছে যশোরের গণপূর্ত অধিদপ্তর।
নতুন ভবন নির্মাণের কাজ চলাকালীন কোতোয়ালি থানার সকল কার্যক্রম সাময়িকভাবে চাঁচড়া পুলিশ ফাঁড়ি ভবন থেকে পরিচালিত হবে। অপরদিকে, চাঁচড়া পুলিশ ফাঁড়ির কার্যক্রম স্থানান্তর করা হবে কোতোয়ালি থানা ভবনের পাশে নবনির্মিত একতলা ভবনে।
সূত্র জানায়, ছয়তলা ফাউন্ডেশনের ভবনটি প্রথমে চারতলা করা হবে, যার প্রতি ফ্লোরে সাড়ে ছয় হাজার স্কয়ার ফিট জায়গা থাকবে। প্রথম তলায় থাকবে অভ্যর্থনা কক্ষ।
এছাড়া বিভিন্ন অফিসিয়াল কার্যক্রম পরিচালিত হবে সেখানে। দ্বিতীয় তলায় হবে হাজতখানা এবং একই সঙ্গে অফিসিয়াল কার্যক্রম চলবে। তৃতীয় তলার অর্ধেক অংশে অফিসিয়াল কার্যক্রম এবং বাকি অংশে থাকবে মহিলা ব্যারাক। চতুর্থ তলার পুরো অংশই থাকবে পুরুষ ব্যারাক।
গণপূর্ত অধিদপ্তর যশোর বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম জানান, সারাদেশে ১০৭টি থানা ভেঙে নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তারই অংশ হিসেবে যশোরে কোতোয়ালি থানা ভবন ভাঙা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, ৬০-এর দশকে নির্মিত কোতোয়ালি থানার পুরাতন ভবনটি দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে।
তিনি বলেন, ইতোমধ্যে ঝিনাইদহের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দরপত্রের মাধ্যমে কাজটি পেয়েছে। থানা কর্তৃপক্ষ ভবন হস্তান্তর করলেই তারা নির্মাণ কাজ শুরু করবে। দেড় থেকে দুই বছরের মধ্যে নতুন ভবনের নির্মাণ কাজ শেষ করে তা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ মাসুম খান বলেন, থানার কার্যক্রম নির্বিঘœ রাখতে অস্থায়ী স্থানান্তরের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। ৫ এপ্রিলের মধ্যেই পুরাতন ভবন খালি করে চাঁচড়া পুলিশ ফাঁড়িতে স্থানান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে।
আবাসন সমস্যার বিষয়ে তিনি বলেন, ভালো কিছু পেতে হলে কিছুটা ত্যাগ স্বীকার করতে হয়। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, নতুন ভবন নির্মাণের কাজ শেষ হলে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানা আরও আধুনিক ও কার্যকর সেবাদান সক্ষমতায় উন্নীত হবে।



