ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ বা Indian Premier League (আইপিএল) মানেই নতুন তারকার জন্ম। কিন্তু এমন ঘটনা খুব কমই দেখা যায়, যেখানে মাত্র ১৫ বছর বয়সেই একজন ক্রিকেটার পুরো টুর্নামেন্টের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে। ঠিক সেটাই করে দেখাচ্ছেন Vaibhav Suryavanshi—একজন তরুণ প্রতিভা, যিনি ইতোমধ্যেই ক্রিকেটবিশ্বকে চমকে দিয়েছেন।
ভাবতে পারো, তোমার বয়স যদি ১৫ হয় আর তুমি স্কুলে পড়ো—এই সময়েই কেউ আইপিএলের মতো বিশাল মঞ্চে নেমে রেকর্ড গড়ে ফেলছে! বৈভব সূর্যবংশী ঠিক সেটাই করেছেন।
জন্মদিনের মাত্র তিন দিন পরেই তিনি ১৭ বলে ৫২ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন। এতে ছিল চারটি চার ও পাঁচটি বিশাল ছক্কা। প্রতিপক্ষ ছিল শক্তিশালী Chennai Super Kings—যারা আইপিএলের অন্যতম সফল দল।
এই ইনিংস শুধু ম্যাচ জেতায়নি, বরং সবাইকে বুঝিয়ে দিয়েছে—এই ছেলেটা অন্যরকম।
গুয়াহাটির Barsapara Cricket Stadium-এর উইকেট সাধারণত ব্যাটিংয়ের জন্য সহজ নয়। সেখানে যেখানে অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানরা রান করতে হিমশিম খাচ্ছিলেন, পুরো দল ১২৭ রানে অলআউট হয়ে যায়, সেখানে বৈভব অনায়াসে চার-ছক্কা হাঁকাচ্ছিলেন।
এটা অনেকটা এমন—যেখানে সবাই হেঁটে যেতে ভয় পাচ্ছে, সেখানে সে দৌড়ে পার হয়ে যাচ্ছে!
বৈভবের ব্যাটিংয়ের পেছনে ছিল পরিষ্কার পরিকল্পনা। তিনি নিজেই বলেছেন, পাওয়ারপ্লে’তে যত বেশি রান তোলা যায়, সেটাই ছিল তাদের মূল লক্ষ্য।
তার কথায়, শুরুতে উইকেট ধীর মনে হলেও পরে বল পুরোনো হলে ব্যাটে ভালোভাবে আসতে শুরু করে। তখনই তিনি সুযোগটা কাজে লাগান।
তার সঙ্গে ছিলেন Yashasvi Jaiswal—যিনি তাকে একদম সহজ ভাষায় বলেছিলেন, “বল ভালো এলে মারো, ভয় পেও না।”
এই আত্মবিশ্বাসই আসলে বড় পার্থক্য গড়ে দেয়।
Rajasthan Royals শুরু থেকেই বৈভবের ওপর ভরসা রেখেছে। দলের অধিনায়ক Riyan Parag স্পষ্ট করে বলেছেন—পুরো টুর্নামেন্টেই বৈভব খেলবে, বাইরে কে কী বলছে সেটা নিয়ে ভাবার দরকার নেই।
একজন তরুণ খেলোয়াড়ের জন্য এই ধরনের সমর্থন খুব গুরুত্বপূর্ণ। এটা তাকে আরও নির্ভীক করে তোলে।
আইপিএলেই শুধু নয়, আন্তর্জাতিক পর্যায়েও বৈভব নিজের সামর্থ্য দেখিয়েছেন। ICC Under-19 Cricket World Cup-এ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তিনি ৮০ বলে ১৭৫ রান করেন।
এছাড়া পুরো টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ড (৩০টি) তার দখলে। এত কম বয়সে এই ধরনের পারফরম্যান্স সত্যিই বিরল।
২০২৫ সালের আইপিএলে অভিষেক হয় বৈভবের, তখন তার বয়স ছিল মাত্র ১৪ বছর। সেই মৌসুমেই তিনি ৩৫ বলে সেঞ্চুরি করে আইপিএলের ইতিহাসে দ্বিতীয় দ্রুততম শতক গড়েন।
সেই ইনিংসে ছিল ১১টি ছক্কা ও ৭টি চার। পুরো মৌসুমে ২০৬.৫৫ স্ট্রাইক রেটে ২৫২ রান করেন তিনি।
এটা দেখে অনেকেই বুঝে গিয়েছিলেন—এই ছেলেটা ভবিষ্যতে বড় কিছু করতে যাচ্ছে।
বৈভবের পারফরম্যান্স দেখে ক্রিকেট বিশ্বের অনেক বড় নাম তার প্রশংসা করেছেন।
Harsha Bhogle বলেছেন, এই ছেলেটির জন্য দর্শকরা মাঠে আসবে এবং তার খেলা দেখার জন্য অপেক্ষা করবে।
Irfan Pathan সরাসরি বলেছেন—এত কম বয়সে এমন প্রতিভা তিনি আগে দেখেননি।
Mohammad Kaif প্রথমে সন্দিহান থাকলেও পরে স্বীকার করেছেন—বৈভব এখন পরবর্তী স্তরে যাওয়ার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।
Rajeev Shukla বৈভবকে “ক্রিকেট জাদুকর” বলে অভিহিত করেছেন। তার মতে, শিশুসুলভ চেহারার আড়ালে লুকিয়ে আছে এক ভয়ংকর ব্যাটসম্যান।
এমনকি Chris Gayle-এর মতো বিধ্বংসী ব্যাটসম্যানও তার সঙ্গে নিজের তুলনা টেনেছেন—যা সত্যিই বড় ব্যাপার।
Rahul Dravid-ই প্রথম বৈভবকে বড় মঞ্চে তুলে আনেন। তার মতে, বৈভবের প্রতিভা শেখানো যায় না—এটা জন্মগত।
তিনি সবসময় বৈভবকে নিজের স্বাভাবিক খেলা খেলতে বলেছেন। আর সেই স্বাভাবিক খেলাই তাকে আজকের জায়গায় নিয়ে এসেছে।
সবশেষে একটা মজার বিষয়—বৈভব কিন্তু জন্মদিনে বোলারদের না, ভয় পেয়েছিলেন সতীর্থদের! কেক মাখানোর ভয়ে তিনি আগেই ঘুমিয়ে পড়েছিলেন।
এটা দেখায়, মাঠে যতটা ভয়ংকর, বাইরে ততটাই সাধারণ একটা ছেলে।
সবকিছু মিলিয়ে একটা জিনিস পরিষ্কার—বৈভব সূর্যবংশী শুধু একটা নাম না, এটা একটা সম্ভাবনা।
যেভাবে সে খেলছে, মনে হচ্ছে ভবিষ্যতে আইপিএল তো বটেই, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও বড় তারকা হয়ে উঠবে।
এক কথায় বললে, এখনই যদি এমন খেলে, সামনে কী করবে—ভাবলেই রোমাঞ্চ লাগে!



