যশোরে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের আকস্মিক তেলপাম্প পরিদর্শনের পর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযান চালিয়ে জরিমানা আদায় করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৭ মার্চ ২০২৬) রাত ১০টার দিকে সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সোহাইব হাসান আকন্দের নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে একটি পাম্পকে ৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
জানা যায়, শহরের ঢাকা রোড এলাকায় অবস্থিত মনির উদ্দিন তেলপাম্পে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
এ সময় পাম্পে থাকা বিদেশি মবিলে আমদানিকারকের সিল না থাকা এবং দ্রব্যমূল্যের তালিকা প্রদর্শন না করার অভিযোগে এ জরিমানা আদায় করা হয়। একই সঙ্গে পাম্প কর্তৃপক্ষকে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে। অভিযানে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর যশোরের সহকারী পরিচালক মো. সেলিমুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে শুক্রবার রাত পৌনে ৮টার দিকে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত যশোর শহরের মনিহার বাসস্ট্যান্ড এলাকার মনির উদ্দিন ফিলিং স্টেশন ও যাত্রীক পেট্রোলিয়াম সার্ভিস পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে তিনি পাম্প দুটির তেল মজুদ, আমদানি ও বিক্রির রশিদপত্র খতিয়ে দেখেন এবং বিভিন্ন অসঙ্গতি শনাক্ত করেন। তাৎক্ষণিকভাবে তিনি জেলা প্রশাসককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।
এদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি তেল সংকটের গুজব ও অতিরিক্ত মজুদের প্রবণতায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পাম্প মালিকদের দাবি, ডিজেলের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও পেট্রোল ও অকটেনের ঘাটতি রয়েছে। ফলে অনেক পাম্পে ‘তেল নেই’ সাইনবোর্ড ঝুলতে দেখা যাচ্ছে।
তবে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, দেশে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে এবং সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। তিনি চালকদের উদ্দেশ্যে অহেতুক আতঙ্কিত না হয়ে প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল মজুদ না করার আহ্বান জানান।

যাত্রীক ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক ইকরাম হোসেন জানান, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় এবং কিছু চালকের অতিরিক্ত তেল সংগ্রহের প্রবণতায় সাধারণ ভোক্তারা ভোগান্তিতে পড়ছেন।
প্রতিমন্ত্রীর এ ঝটিকা পরিদর্শন ও পরবর্তী অভিযানকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। তাদের আশা, এ ধরনের তৎপরতা অব্যাহত থাকলে তেলপাম্পে অনিয়ম কমবে এবং বাজার পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হবে।



