বলিউডে এখন একটাই নাম ঘুরছে—ধুরন্ধর ২: দ্য রিভেঞ্জ। মুক্তির পর থেকেই সিনেমাটা যেন থামতেই জানে না। আপনি যদি ভাবেন, “আরে এত সিনেমা তো আসে!”, তাহলে একটু থামুন—এই ছবিটা কিন্তু অন্যরকম। কারণ এটা শুধু একটা সিনেমা না, এটা এখন একটা ঘটনা।
১৯ মার্চ বড় পর্দায় আসার পর থেকেই দর্শকদের মধ্যে এক ধরনের উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। আর সেই উত্তেজনাই বক্স অফিসে রূপ নিচ্ছে একের পর এক রেকর্ডে। প্রথম সপ্তাহ পেরোতেই বিশ্বব্যাপী আয় ছুঁয়ে ফেলেছে হাজার কোটির ঘর। এখন প্রশ্ন একটাই—এটা কি থামবে, নাকি আরও বড় ইতিহাস গড়বে?
একটা সহজ উদাহরণ দিই—যেমন কোনো সিরিজের প্রথম সিজন ভালো লাগে, আর দ্বিতীয় সিজন যদি তার থেকেও বেশি জমে যায়, তখনই সেটা “ক্রেজ” হয়ে যায়। ঠিক তেমনটাই হয়েছে এখানে।
প্রথম পার্ট ধুরন্ধর ইতিমধ্যেই দর্শকদের মন জয় করেছিল। তাই দ্বিতীয় পার্ট নিয়ে প্রত্যাশা ছিল আকাশছোঁয়া। আর সেই প্রত্যাশা শুধু পূরণই নয়, বরং ছাড়িয়ে গেছে অনেক দূর।
এই ছবিতে রণবীর সিং নিজের অভিনয়ের এক নতুন দিক দেখিয়েছেন। অ্যাকশন, ইমোশন, ডায়লগ—সবকিছুতেই তিনি যেন আলাদা লেভেলে গেছেন। অনেকেই বলছেন, এটা তাঁর ক্যারিয়ারের সেরা পারফরম্যান্সগুলোর একটা।
বক্স অফিসের হিসাব বলছে, ছবিটি বিশ্বব্যাপী প্রায় ১০০৬ কোটির বেশি আয় করেছে। এই তথ্য সামনে এনেছে ট্র্যাকার Sacnilk।
শুধু বিশ্বজুড়ে নয়, ভারতে প্রথম সাত দিনেই ছবির আয় ছাড়িয়ে গেছে ৬০০ কোটির গণ্ডি। মানে বুঝতেই পারছেন, শুধু শহরে না—গ্রাম, ছোট শহর, মাল্টিপ্লেক্স, সিঙ্গেল স্ক্রিন—সব জায়গাতেই চলছে একই উন্মাদনা।
আরেকটা বড় কারণ হলো ছবির স্টোরি আর প্রেজেন্টেশন। আজকের দর্শক শুধু গান-নাচে খুশি হয় না। তারা গল্প চায়, থ্রিল চায়, আর বাস্তবতার ছোঁয়া চায়। ‘ধুরন্ধর ২’ ঠিক সেটাই দিয়েছে।
বলিউডে বড় বড় রেকর্ড মানেই কিছু পরিচিত নাম—পাঠান, জওয়ান, দঙ্গল।
এই সিনেমাগুলো একসময় বক্স অফিসে রাজত্ব করেছিল। কিন্তু এখন ‘ধুরন্ধর ২’ সেই তালিকায় শুধু ঢুকেই পড়েনি, অনেক ক্ষেত্রে এগিয়েও গেছে।
এটা ভাবলে অবাক লাগতেই পারে—কারণ এত বড় বড় ব্লকবাস্টারের রেকর্ড ভাঙা কোনো সহজ ব্যাপার নয়। কিন্তু দর্শকের ভালোবাসা থাকলে অসম্ভবও সম্ভব হয়ে যায়—এই ছবিটাই তার প্রমাণ।
এখন আসল প্রশ্নটা এখানে। পুষ্পা ২: দ্য রুল—এই সিনেমাটা মুক্তির প্রথম সপ্তাহেই বিশ্বব্যাপী প্রায় ১০১১ কোটি আয় করেছিল।
এই ছবিতে আল্লু অর্জুন-এর অভিনয় দর্শকদের পাগল করে দিয়েছিল। তাই সেই রেকর্ড ভাঙা মানে বিশাল চ্যালেঞ্জ।
‘ধুরন্ধর ২’ যদিও ইতিমধ্যে হাজার কোটির ক্লাবে ঢুকে গেছে, কিন্তু প্রথম সপ্তাহের তুলনায় এখনও সামান্য পিছিয়ে আছে ‘পুষ্পা ২’-এর থেকে।
তবে এখানেই মজাটা। কারণ সিনেমাটা এখনও চলছে, এবং যদি এই গতিতে এগোতে থাকে, তাহলে খুব সহজেই ‘পুষ্পা ২’-এর রেকর্ড ছুঁয়ে ফেলতে বা ছাড়িয়ে যেতে পারে।
সাধারণ দর্শকের পাশাপাশি ইন্ডাস্ট্রির বড় বড় তারকারাও এই সিনেমার প্রশংসা করছেন।
আলিয়া ভাট, শিল্পা শেট্টি, সিদ্ধার্থ মলহোত্রা—এরা সবাই প্রকাশ্যে ছবির প্রশংসা করেছেন।
দক্ষিণ ভারতের সুপারস্টার রজনীকান্ত, রাম চরণ, মহেশ বাবু—তাঁরাও এই সিনেমা দেখে মুগ্ধ।
ভাবুন তো, বলিউড আর টলিউড—দুই ইন্ডাস্ট্রির তারকারাই একসঙ্গে কোনো সিনেমার প্রশংসা করছে। এটা কিন্তু খুব কমই দেখা যায়।
কঙ্গনা রানাওয়াত এই সিনেমাকে শুধু বিনোদন হিসেবে দেখেননি। তিনি বলেছেন, এই ধরনের সিনেমা নতুন ভারত গড়ার অনুপ্রেরণা দিতে পারে।
অন্যদিকে আমিশা প্যাটেল পরিচালক আদিত্য ধর-এর কাজের ভীষণ প্রশংসা করেছেন। তাঁর মতে, এটা কোনো “প্রজেক্ট” না—এটা একটা সত্যিকারের সিনেমা।
এই কথাগুলো শুনলে বোঝা যায়, ছবিটা শুধু বক্স অফিস হিট না—এটা একটা গভীর প্রভাবও ফেলছে।
ভিকি কৌশল-ও এই সিনেমা নিয়ে বেশ উত্তেজিত। তিনি বলেছেন, বড় পর্দায় এই সিক্যুয়েল দেখার জন্য তিনি অপেক্ষা করছেন।
এটা আসলে সাধারণ দর্শকের অনুভূতিরই প্রতিফলন। কারণ অনেকেই এখনো সিনেমা হলে যাওয়ার প্ল্যান করছেন, শুধু এই ছবিটা দেখার জন্য।
সোজা কথা বললে, ‘ধুরন্ধর ২’ এখনো তার পুরো দৌড় শেষ করেনি। এটা এখনও চলছে, আর দর্শকের আগ্রহও কমেনি।
আপনি যদি ভাবেন, “এটা কি সত্যিই ‘পুষ্পা ২’-কে হারাতে পারবে?”—তাহলে উত্তরটা এখনো নিশ্চিত না। কিন্তু সম্ভাবনা একেবারেই উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
কারণ একটা জিনিস পরিষ্কার—যখন একটা সিনেমা মানুষের মনে জায়গা করে নেয়, তখন সেটা শুধু রেকর্ড ভাঙে না, ইতিহাস তৈরি করে।
আর ‘ধুরন্ধর ২’ ঠিক সেই দিকেই এগোচ্ছে।



