আগুন লাগা ঢাকাগামী চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেনে প্রায় ৯০০ জন যাত্রী ছিলেন। তারা সবাই নিরাপদে আছেন, কেউ আহত বা নিহত হননি বলে বলে জানিয়েছেন রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের কর্মকর্তারা।
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল সূত্র জানিয়েছে, চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেনে ৮২৮টি আসন থাকলেও দাঁড়ানোসহ মোট ৯০০ জন যাত্রী ছিলেন।
বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, ‘চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেনটি সকাল ৬টায় চট্টগ্রাম স্টেশন ছাড়ার কথা থাকলেও আজ ২০ মিনিট বিলম্বে ৬টা ২০ মিনিটে চট্টগ্রাম স্টেশন ছেড়ে গেছে।
৬টা ৪৩ মিনিটে আগুন লাগার বিষয়টি জানতে পেরে ফায়ার সার্ভিসসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়। এরপর ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আগুনে ট্রেনটির পাওয়ার কার (বিদ্যুৎ সরবরাহ করা বগি) ও একটি এসি বগি পুড়ে গেছে। কোনও যাত্রী হতাহত হননি। ট্রেনটির পাওয়ার কার ও একটি এসি বগি পুড়ে গেছে। পরে একটি নতুন পাওয়ার কার ও একটি এসি বগি সংযোজন করে ১০টা ৪৫ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেছে।’
চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনের নিরাপত্তা বাহিনীর ইন্সপেক্টর আমান উল্লাহ বলেন, ‘চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেনে আগুন লাগার ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। সব যাত্রী নিরাপদে নেমে যেতে সক্ষম হয়েছে।’
এর আগে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকাল সোয়া ৬টার দিকে সীতাকুণ্ডের ফৌজদারহাট স্টেশনের কাছে ট্রেনটিতে আগুন লাগে। ট্রেনটি চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়ার পর কোনও এক পর্যায়ে আগুনের সূত্রপাত হয় এবং দুটি বগিতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে।
কুমিরা ফায়ার স্টেশনের সহকারী কর্মকর্তা এহসান আলী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আগুন লাগার খবর পেয়ে সকাল ৬টা ৫৫ মিনিটে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।
সকাল ৮টা ৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। আগুনে ট্রেনের পাওয়ার কার ও একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বগি পুড়ে গেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে ইঞ্জিনের ওভারহিট থেকে এ ট্রেনে আগুন লেগে থাকতে পারে। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ক্ষতির বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে জানা যাবে।’
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের সূত্র জানিয়েছে, চট্টলা এক্সপ্রেসে পাওয়ার কারসহ ১৮টি বগি ছিল। পেছন দিক থেকে ছয় নম্বরে থাকা পাওয়ার কার এবং একটি এসি বগি আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন।



