মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝে আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এলেন Donald Trump। ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত, হরমুজ প্রণালী নিয়ে টানাপোড়েন, আর সম্ভাব্য নতুন ‘ডিল’—সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে যেন এক নতুন নাটকীয় অধ্যায় শুরু হয়েছে।
সম্প্রতি দেওয়া এক বক্তব্যে ট্রাম্প এমন কিছু মন্তব্য করেছেন, যা বিশ্বজুড়ে কৌতূহল এবং উদ্বেগ—দুটোই তৈরি করেছে। তিনি দাবি করেছেন, আলোচনার মাধ্যমে ইরান যুদ্ধ থামাতে রাজি হতে পারে, এমনকি তাদের পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচিও ছেড়ে দিতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথগুলোর একটি হলো Strait of Hormuz। বিশ্বের বড় অংশের তেল পরিবহন এই পথ দিয়ে হয়। তাই এই প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যে কোনো উত্তেজনা পুরো বিশ্ব অর্থনীতিকে কাঁপিয়ে দিতে পারে।
এই প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প এমন একটি প্রস্তাব দিয়েছেন, যা অনেকের কাছেই অবাক করার মতো। তিনি বলেন, যুদ্ধ শেষে যদি পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়, তাহলে এই প্রণালী তিনি নিজে এবং ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা—আয়াতোল্লাহ—মিলে যৌথভাবে পরিচালনা করতে পারেন।
তার কথায়, “হয়তো আমি, আমি এবং… যিনি পরবর্তী আয়াতোল্লাহ হবেন—আমরা মিলে বিষয়টি দেখব।”
এমন মন্তব্য আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে খুবই অস্বাভাবিক, কারণ সাধারণত এ ধরনের কৌশলগত স্থানের নিয়ন্ত্রণ রাষ্ট্রের হাতে থাকে, ব্যক্তির নয়।
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, আলোচনায় ভালো অগ্রগতি হলে ইরান তাদের পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচি বন্ধ করতে রাজি হতে পারে।
এখানে বিষয়টা একটু সহজ করে বলি—অনেকদিন ধরেই বিশ্বশক্তিগুলো চাইছে ইরান যেন পরমাণু অস্ত্র না বানায়। কারণ সেটা হলে পুরো অঞ্চল আরও অস্থিতিশীল হয়ে যেতে পারে।
ট্রাম্প বলছেন, নতুন কোনো চুক্তির মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব। তবে তিনি এটাও পরিষ্কার করেছেন, সবকিছু নির্ভর করছে আসন্ন আলোচনার ফলাফলের ওপর।
ট্রাম্পের ভাষায়, যদি আলোচনা ভালোভাবে এগোয়, তাহলে এক সপ্তাহের মধ্যেই যুদ্ধ শেষ হয়ে যেতে পারে।
কিন্তু একইসঙ্গে তিনি কড়া হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন—যদি সমঝোতা না হয়, তাহলে হামলা অব্যাহত থাকবে। তার সরাসরি মন্তব্য, “না হলে আমরা বোমা হামলা চালিয়ে যাব।”
এই ধরনের বক্তব্য সাধারণ মানুষের কাছে একটু কঠিন মনে হতে পারে, কিন্তু আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এটা অনেক সময় চাপ তৈরি করার কৌশল হিসেবেও ব্যবহার হয়।
অন্যদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন একেবারেই ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেছে। তারা দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্র আসলে ইরানের পাল্টা হামলার আশঙ্কায় পিছু হটেছে।
তাদের মতে, ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধ্বংস করার হুমকি দিলেও শেষ পর্যন্ত ট্রাম্প নিজেই সেই অবস্থান থেকে সরে এসেছেন।
এই ধরনের পাল্টাপাল্টি দাবি সাধারণত সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে দেখা যায়, যেখানে দুই পক্ষই নিজেদের শক্তিশালী দেখাতে চায়।
এর আগে ট্রাম্প ইরানকে ৪৮ ঘণ্টার একটি আলটিমেটাম দেন। তিনি বলেন, যদি Strait of Hormuz পুরোপুরি খুলে না দেওয়া হয়, তাহলে ইরানের জ্বালানি খাতে নতুন করে হামলা চালানো হবে।
এই ঘোষণার পরপরই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ওঠানামা শুরু করে। কারণ এই প্রণালী বন্ধ হয়ে গেলে বিশ্বজুড়ে তেলের সরবরাহে বড় ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
ট্রাম্প স্বীকার করেছেন, তিনি নিশ্চিত নন যে ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা Mojtaba Khamenei জীবিত আছেন কিনা।
খবর অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারির এক বিমান হামলায় তার বাবা নিহত হওয়ার পর মোজতবা খামেনেই আহত হন। এরপর থেকে তিনি জনসমক্ষে খুব একটা দেখা দেননি।
এই পরিস্থিতি ইরানের ভেতরেও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। কে পরবর্তী নেতা হবেন, সেটাও এখন বড় প্রশ্ন।
সবচেয়ে নাটকীয় ঘটনা ঘটে যখন ট্রাম্প তার নিজস্ব প্ল্যাটফর্মে ঘোষণা দেন—যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর সামরিক হামলা পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত রাখবে।
তিনি জানান, গত কয়েক দিনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে খুব ভালো এবং ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। এই আলোচনা মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত পুরোপুরি শেষ করার পথ খুলে দিতে পারে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এর অংশ হিসেবে তিনি মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগকে নির্দেশ দেন, ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর সব হামলা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে।
ট্রাম্পের এই ঘোষণার পরপরই বিশ্ববাজারে বড় পরিবর্তন দেখা যায়। তেলের দাম হঠাৎ কমে যায়, আর শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।
এটা খুব স্বাভাবিক—যুদ্ধের আশঙ্কা কমলে বিনিয়োগকারীরা একটু স্বস্তি পায়, আর বাজারে সেই প্রভাব পড়ে।
এই পুরো পরিস্থিতি এখন অনেকটাই নির্ভর করছে আলোচনার ওপর। যদি সত্যিই কোনো সমঝোতা হয়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের স্থিতিশীলতা ফিরতে পারে।
কিন্তু যদি আলোচনা ভেঙে যায়, তাহলে আবারও সংঘাত তীব্র হতে পারে।
এক কথায় বললে, এখন যেন একটা টানটান অপেক্ষার সময় চলছে—যেখানে একদিকে শান্তির আশা, আর অন্যদিকে যুদ্ধের আশঙ্কা—দুটোই পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আছে।
পুরো ঘটনাটা এমন—যেন দুই পক্ষ একে অপরকে বোঝানোর চেষ্টা করছে, কিন্তু কেউই পুরোপুরি পিছু হটতে রাজি নয়।
Donald Trump তার কড়া ভাষা ও অদ্ভুত প্রস্তাব দিয়ে আলোচনাকে নতুন দিকে নিয়ে গেছেন। অন্যদিকে ইরানও নিজেদের অবস্থান থেকে সরছে না।
এখন দেখার বিষয়, শেষ পর্যন্ত এই নাটকীয় পরিস্থিতি শান্তিতে গড়ায়, নাকি আরও বড় সংঘাতে রূপ নেয়।



