বলিউডে অনেক দিন ধরেই একটা প্রশ্ন ঘুরছিল—আবার কবে হিন্দি সিনেমা আগের মতো বক্স অফিসে দাপট দেখাবে? সেই অপেক্ষার অবসান যেন ঘটাল ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’। মুক্তির প্রথম দিনেই এমন বিস্ফোরক ব্যবসা করে ছবিটি শুধু দর্শকদেরই চমকে দেয়নি, বরং বহু পুরনো রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস গড়েছে।
চলুন সহজ করে পুরো বিষয়টা বুঝি।
ছবিটি দেশজুড়ে প্রায় ২১,৭২৮টি স্ক্রিনে মুক্তি পেয়েছে। এত বিশাল রিলিজ সাধারণত বড় বাজেটের সিনেমার ক্ষেত্রেই দেখা যায়। কিন্তু আসল চমকটা হলো আয়ের অঙ্কে।
প্রথম দিনেই ভারতে ছবিটি আয় করেছে প্রায় ১০২.৫৫ কোটি টাকা। ভাবতে পারেন? একটা সিনেমা মাত্র ২৪ ঘণ্টায় ১০০ কোটির বেশি আয় করছে—এটা সত্যিই বিরল ঘটনা।
এই সাফল্যের পেছনে কয়েকটা বড় কারণ আছে—
- আগের ‘ধুরন্ধর’ ছবির জনপ্রিয়তা
- রণবীর সিংয়ের স্টার পাওয়ার
- অ্যাকশন ও গল্পের প্রতি দর্শকের আগ্রহ
- আগাম বুকিংয়ের বিশাল চাহিদা
যেমন ধরুন, অনেকেই সিনেমা রিলিজের আগেই টিকিট কেটে ফেলেছিলেন—এটা স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয় যে ছবির জন্য দর্শকের অপেক্ষা কতটা ছিল।
শুধু ভারতেই নয়, আন্তর্জাতিক বাজারেও ছবিটি দারুণ পারফর্ম করেছে।
বিশেষ করে উত্তর আমেরিকায় ছবিটি প্রথম দিনেই প্রায় ৯ মিলিয়ন ডলার আয় করেছে। সব মিলিয়ে বিশ্বজুড়ে প্রথম দিনের আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৪০ কোটির কাছাকাছি।
এটা মানে দাঁড়ায়—এই সিনেমা শুধু ভারতেই নয়, বিশ্বব্যাপী দর্শকদের মন জয় করেছে।
একটা সহজ উদাহরণ দিলে—ধরুন, আপনি একটা গান বানালেন আর সেটা শুধু আপনার শহরে না, পুরো পৃথিবীতে ভাইরাল হয়ে গেল। ঠিক তেমনটাই হয়েছে এই সিনেমার ক্ষেত্রে।
গত কয়েক বছর ধরে দক্ষিণী সিনেমা যেমন ‘পুষ্পা’, ‘আরআরআর’, ‘কেজিএফ’ আর ‘বাহুবলী’ বক্স অফিসে রাজত্ব করছিল। বলিউড অনেকটাই পিছিয়ে ছিল।
কিন্তু এবার ছবিটা পাল্টে গেছে।
‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’ প্রথম দিনের আয় দিয়ে টপকে গেছে এইসব বড় সিনেমাকে—
- পুষ্পা ২: দ্য রুল — ১৬৪.২৫ কোটি
- আরআরআর — ১৩৩ কোটি
- বাহুবলী ২ — ১২১ কোটি
- কেজিএফ ২ — ১১৬ কোটি
এই তালিকায় জায়গা করে নিয়ে ‘ধুরন্ধর’ এখন নতুন মাইলস্টোন।
এটা শুধু একটা সিনেমার সাফল্য না—এটা বলিউডের জন্য একটা বড় প্রত্যাবর্তন।
আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—এই সিনেমাটি সেন্সর বোর্ড থেকে A সার্টিফিকেট পেয়েছে।
মানে, সব বয়সের দর্শকের জন্য নয়। তবুও এত বড় ব্যবসা করা সত্যিই বিরল।
সাধারণত A সার্টিফিকেট পাওয়া ছবির দর্শকসংখ্যা কম থাকে। কিন্তু এখানে ঠিক উল্টোটা হয়েছে।
এর মানে হলো—দর্শক গল্প আর কনটেন্টের জন্য হলে যাচ্ছে, শুধু ফ্যামিলি এন্টারটেইনমেন্টের জন্য নয়।
রিলিজের দিন সবকিছু একেবারে নিখুঁত ছিল না। কিছু জায়গায় যান্ত্রিক সমস্যার কারণে শো বাতিল করতে হয়েছে।
কিন্তু তবুও ছবির আয় থামেনি।
এটা দেখায়—যদি দর্শকের আগ্রহ সত্যিই বেশি থাকে, তাহলে ছোটখাটো সমস্যা বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না।
একটা সময় রণবীর সিংয়ের ক্যারিয়ার একটু ধীর হয়ে গিয়েছিল। বড় হিট আসছিল না।
কিন্তু ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’ যেন সব বদলে দিল।
এই ছবির মাধ্যমে তিনি আবার প্রমাণ করলেন—তিনি এখনও বক্স অফিসের সবচেয়ে বড় তারকাদের একজন।
সহজভাবে বললে, এটা তার জন্য একটা ‘কমব্যাক’।
রিলিজের আগেই ছবিটি ঝড় তুলেছিল অ্যাডভান্স বুকিংয়ে।
অনেক থিয়েটারেই টিকিট আগেই হাউসফুল হয়ে যায়।
১৮ মার্চ পেইড প্রিভিউ শোতেও দর্শকদের প্রতিক্রিয়া ছিল দারুণ। তখনই বোঝা গিয়েছিল—ছবিটি বড় কিছু করতে চলেছে।
এই প্রশ্নটা স্বাভাবিক—এত মানুষ কেন সিনেমাটা দেখতে যাচ্ছে?
কারণগুলো সহজ—
- শক্তিশালী গল্প
- দারুণ অ্যাকশন দৃশ্য
- আবেগ আর থ্রিলের মিশেল
- রণবীর সিংয়ের পারফরম্যান্স
ধরুন, একটা সিনেমা যেখানে আপনি একসাথে উত্তেজনা, আবেগ আর চমক পাচ্ছেন—তাহলে সেটা মিস করতে মন চায় না।
অনেক দিন ধরেই বলা হচ্ছিল—বলিউডের দিন শেষ?
কিন্তু ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’ সেই ধারণাকে ভুল প্রমাণ করেছে।
এখন আবার বলিউড আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছে।
এই সাফল্য ভবিষ্যতের আরও বড় প্রজেক্টের পথ খুলে দিতে পারে।
সব মিলিয়ে বলা যায়—‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’ শুধু একটা সিনেমা নয়, এটা একটা ঘটনা।
এক দিনে ২০০ কোটির কাছাকাছি আয়, আন্তর্জাতিক সাফল্য, দক্ষিণী সিনেমার রেকর্ড ভাঙা—সব মিলিয়ে এটা সত্যিই ইতিহাস।
আর যদি আপনি এখনও সিনেমাটা না দেখে থাকেন, তাহলে একটা প্রশ্ন—এত মানুষ যখন দেখছে, আপনি কেন মিস করবেন?



