Homeযশোর খবর“আমার বাবাকে ফিরিয়ে দেন”- যশোরে অপহৃত বাবার জন্য ছোট্ট হৃদার কান্না

“আমার বাবাকে ফিরিয়ে দেন”- যশোরে অপহৃত বাবার জন্য ছোট্ট হৃদার কান্না

Share

অপহৃত স্বামীর সন্ধান দাবিতে সংবাদ সম্মেলনে কাঁদছিলেন স্ত্রী রেশমা খাতুন। তখন মাইক্রোফোনের সামনে বসে আধো আধো বোলে ছোট্ট শিশু হৃদা বলছিল, ‘আমার বাবাকে ফিরিয়ে দেন, আমার বাবা আমাকে অনেক আদর করে। আমি শুধু বাবাকে ফিরে পেতে চাই। আমার বাবাকে ধরে নিয়ে গেছে। আমার বাবার জন্য আমার খুব পরাণ পোড়ছে। বাবাকে ছাড়া একটুও ভাল্লাগে না আমার। কিচ্ছু ভাল্লাগে না।’

অপহৃত পিতাকে ফিরে পেতে ছোট্ট শিশুর এই আকুতিতে রেশমা খাতুন ও তার বড় দুই মেয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। একটি পরিবারের এই কান্নায় এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয় প্রেসক্লাব যশোরের কনফারেন্স রুমে।

অপহৃত স্বামী জাহাঙ্গীর আলমের (৪৮) সন্ধান দাবিতে বুধবার দুপুরে প্রেসক্লাব যশোরে এই সংবাদ সম্মেলন করেন স্ত্রী রেশমা খাতুন। জাহাঙ্গীর আলম যশোর শহরের শংকরপুরস্থ ভেটেরিনারি হাসপাতালের সামনে আর আর মেডিকেল নামে ভেটেরিনারি ওষুধের ব্যবসা করেন। তিন সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে শহরতলি সুজলপুর এলাকাতে বসবাস করেন তিনি। গত সোমবার রাতে নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে বাড়ি ফেরার পথে কয়েক দুর্বৃত্ত সাদা প্রাইভেট কারে জাহাঙ্গীরকে তুলে নিয়ে যায়।

এরপর স্বামীর মুঠোফোন দিয়ে পরিবারের কাছে চাওয়া হয় এক কোটি টাকার মুক্তিপণ। এই ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবার থানায় অভিযোগ দিলেও পুলিশ এখনও জাহাঙ্গীরকে উদ্ধার করতে পারেনি। এই অবস্থায় বুধবার বিকালে জাহাঙ্গীরকে জীবিত উদ্ধার ও অপহরণকারীদের বিচারের দাবি জানিয়ে প্রেস ক্লাব যশোরে সংবাদ সম্মেলন করেন স্ত্রী রেশমা খাতুন। অপহরণের তিন দিন পার হলেও স্বামীকে না পাওয়ায় উৎকণ্ঠায় পরিবারটি।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত সোমবার (২ মার্চ) রাতে জাহাঙ্গীর দোকান বন্ধ করে তাঁর ব্যবহৃত মোটরসাইকেলে করে খোলাডাঙ্গা কদমতলার বাসায় ফিরছিলেন। পথে চাঁচড়া রায়পাড়া পীরবাড়ি মোড়ে পৌঁছালে একটি প্রাইভেট কারে কয়েকজন এসে গতিরোধ এবং তাঁকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। অপহরণের পরে জাহাঙ্গীর আলমের ব্যবহৃত ফোন নম্বর থেকে রাত ১০টার দিকে তাঁর স্ত্রীর ফোনে কল করে এক কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। নইলে তাঁকে হত্যা করা হবে মর্মে হুমকি দেওয়া হয়। এর পর থেকে মোবাইল ফোনটি বন্ধ রয়েছে।

কান্নাজড়িত কন্ঠে জাহাঙ্গীরের স্ত্রী রেশমা খাতুন বলেন, ‘সাত বছর ধরে শংকরপুর ভেটেরিনারি হাসপাতালের সামনে ওষুধের ব্যবসা করে আসছেন তাঁর স্বামী। রাতে তারাবি পড়ে দোকান বন্ধ করে বাড়িতে ফেরেন প্রতিদিন। তবে সোমবার আর ফেরেননি। তিনি না ফেরায় তিন সন্তানকে নিয়ে আমি দুঃচিন্তায় রয়েছি। আমার বড় মেয়ে সামনে এসএসসি পরীক্ষা দিবে; এমন অবস্থায় সেও তার বাবাকে নিয়ে দুঃচিন্তায় রয়েছে। আমরা প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। তিন দিন পার হয়ে গেছে; তার সন্ধান পাচ্ছি না। আমরা চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমার স্বামীকে দ্রæত জীবিত উদ্ধার ও অপহরণকারীদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবি জানাচ্ছি।’

যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) আবুল বাশার বলেন, ‘ভুক্তভোগী পরিবার এ ঘটনায় অভিযোগ দিলে আমরা মামলা হিসেবে রেকর্ড করেছি। অপহৃত ব্যবসায়ীকে উদ্ধারে পুলিশের কয়েকটি টিম কাজ শুরু করেছে। ব্যবসা, না পূর্বে কোন শত্রæতার জেরে এটি ঘটেছে বা এর পিছনের অন্য কোন উদ্দেশ্য রয়েছে কিনা; সেটি অনুসন্ধান করা হচ্ছে। আমরা ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখছি। আশা করি, দ্রæত উদ্ধার করতে পারব।’

@ এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি। বাইরের কোন সাইটের তথ্যের জন্য যশোর খবর কতৃপক্ষ দায়বদ্ধ নয়।

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন