Homeআবহাওয়াবিদায়ের আগে শীতের কামব্যাক! কলকাতায় নামল ১৪ ডিগ্রি তাপমাত্রা

বিদায়ের আগে শীতের কামব্যাক! কলকাতায় নামল ১৪ ডিগ্রি তাপমাত্রা

Share

কলকাতার আবহাওয়ায় আবারও এক অদ্ভুত মিল। ঠিক ১৪ দিন পর ফের শহরের তাপমাত্রা নেমে এল ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। আরও আশ্চর্যের বিষয়, আগের বার যেমন শনিবার ছিল, এবারও তাই।

শীত যেন বিদায়ের আগে শেষ মুহূর্তে ব্যাট হাতে নেমে পুরো দাপট দেখাচ্ছে। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস বলছে, আগামী ২৪ ঘণ্টাতেও তাপমাত্রার খুব একটা পরিবর্তন হবে না। রাত ও সকালে শীতের আমেজ টের পাওয়া যাবে।

চলতি শীতের মরশুমে কলকাতায় আবারও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৪ ডিগ্রিতে নেমেছে। স্বাভাবিকের তুলনায় রাত ও দিনের তাপমাত্রা এখন কিছুটা নিচের দিকেই রয়েছে। ভোরের দিকে হালকা শিশির পড়ছে। কোথাও কোথাও কুয়াশাও দেখা যেতে পারে। বিশেষ করে সকালের দিকে রাস্তাঘাটে বেরোলে শীতের কামড় ভালোভাবেই অনুভূত হচ্ছে।

শহরের মানুষ ভাবতেই পারেননি, ফেব্রুয়ারির শুরুতে এমন ঠান্ডা আবার ফিরবে। অনেকেই তো গরম জামাকাপড় তুলে রাখতে শুরু করেছিলেন। কিন্তু শীত আবার মনে করিয়ে দিল, সে এখনও পুরোপুরি বিদায় নেয়নি।

এই ঠান্ডা বাড়ার পিছনে প্রধান কারণ উত্তুরে হাওয়ার অবাধ প্রবেশ। উত্তর দিক থেকে ঠান্ডা ও শুষ্ক হাওয়া দক্ষিণবঙ্গের দিকে নেমে আসছে। সেই হাওয়ার প্রভাবেই রাতের তাপমাত্রা দ্রুত কমছে। দিনের বেলাতেও রোদ থাকলেও গরম তেমন অনুভূত হচ্ছে না।

আবহাওয়াবিদদের মতে, এই ধরনের পরিস্থিতি শীতের শেষ ভাগে মাঝেমধ্যেই দেখা যায়। বিদায়ের আগে শীত কয়েক দিন জোরালো উপস্থিতি জানান দেয়। এবছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি।

কলকাতা ছাড়াও দক্ষিণবঙ্গের অন্যান্য জেলাগুলিতেও তাপমাত্রা কম থাকবে। সব জেলাতেই শুষ্ক আবহাওয়া বজায় থাকবে বলে জানানো হয়েছে। বৃষ্টির কোনও সম্ভাবনা নেই।

কুয়াশার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি রয়েছে পশ্চিম বর্ধমান ও বীরভূমের কিছু অংশে। সকালের দিকে দৃশ্যমানতা কমতে পারে। তাই যানবাহন চালানোর সময় সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছে আবহাওয়া দপ্তর।

দক্ষিণবঙ্গের গ্রামাঞ্চলে শীতের প্রভাব শহরের তুলনায় আরও বেশি অনুভূত হচ্ছে। ভোরবেলা মাঠঘাটে কুয়াশার চাদর পড়ছে। চাষিরা সকালে কাজে বেরোতে গিয়ে ঠান্ডার জন্য বাড়তি জামা গায়ে দিচ্ছেন।

ভালো খবর হলো, আগামী সাত দিনে দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির কোনও সম্ভাবনা নেই। আবহাওয়া থাকবে পুরোপুরি শুষ্ক। তবে শীতের এই দাপট খুব বেশি দিন থাকবে না।

আবহাওয়া অফিস জানাচ্ছে, আগামী সপ্তাহের শুরু থেকেই ধীরে ধীরে তাপমাত্রা বাড়তে পারে। দিনের বেলায় রোদের তেজ বাড়বে। রাতের ঠান্ডাও একটু একটু করে কমবে। তবে শীত পুরোপুরি বিদায় নিতে আরও কয়েক দিন সময় নেবে।

উত্তরবঙ্গের আবহাওয়ায় আপাতত কোনও বড় পরিবর্তন নেই। সব জেলাতেই হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশার সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী তিন থেকে চার দিন এই কুয়াশা চলতে পারে।

চার থেকে পাঁচ দিন পর্যন্ত সর্বনিম্ন তাপমাত্রায় বিশেষ হেরফের হবে না বলেই পূর্বাভাস। পাহাড় ও সমতল—দু’জায়গাতেই শীতের প্রভাব বজায় থাকবে।

দার্জিলিং এবং পার্বত্য এলাকাগুলিতে শীতের দাপট এখনও প্রবল। রবিবার পর্যন্ত সেখানে তাপমাত্রা ৫ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যেই ঘোরাফেরা করবে। ভোর ও রাতে কনকনে ঠান্ডা অনুভূত হবে।

পর্যটকদের জন্য এটি একদিকে আনন্দের, আবার অন্যদিকে সতর্কতার বিষয়। পাহাড়ে বেড়াতে গেলে অবশ্যই গরম পোশাক সঙ্গে রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন স্থানীয়রা।

মালদহ-সহ উত্তরবঙ্গের নিচের দিকের জেলাগুলিতে তাপমাত্রা থাকবে ১৩ থেকে ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে। সকালের দিকে কুয়াশা বেশি হতে পারে। দিনের বেলায় আকাশ পরিষ্কার থাকলেও ঠান্ডার অনুভূতি পুরোপুরি যাবে না।

এই জেলাগুলিতে শীতের মরশুমে এমন আবহাওয়া সাধারণ হলেও, ফেব্রুয়ারির শুরুতে তাপমাত্রা এতটা নিচে নামা অনেকের কাছেই একটু চমক জাগাচ্ছে।

শীতের এই শেষ দাপটে শহরের চা দোকানগুলোতে আবার ভিড় বাড়ছে। সকালে গরম চা হাতে দাঁড়িয়ে অনেকেই বলছেন, “ভেবেছিলাম শীত শেষ, আবার দেখি সোয়েটার বের করতে হচ্ছে।”

স্কুলপড়ুয়া বাচ্চাদের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। ভোরের দিকে স্কুল বাস ধরতে গিয়ে ঠান্ডায় কাঁপছে তারা। বয়স্ক মানুষদের জন্য এই সময়টা একটু বেশি কষ্টকর হয়ে উঠছে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গে শীত বিদায়ের আগে শেষবারের মতো নিজের শক্তি দেখাচ্ছে। ১৪ দিন পর ফের ১৪ ডিগ্রির এই সমাপতন যেন শীতের এক মজার বিদায়বার্তা।

আগামী কয়েক দিন রাত ও সকালে ঠান্ডা থাকলেও, ধীরে ধীরে তাপমাত্রা বাড়বে। শীতের এই শেষ মুহূর্তগুলো উপভোগ করার এটাই সুযোগ। কারণ খুব শিগগিরই গরম আবার নিজের জায়গা করে নেবে, আর শীত চলে যাবে স্মৃতির পাতায়।

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন