ভারতীয় ক্রিকেটে এক নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে মহিলাদের আইপিএল। মাত্র কয়েক বছরের মধ্যেই এই টুর্নামেন্ট জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছে গেছে। দর্শক, স্পনসর আর বিনিয়োগ—সব দিক থেকেই মহিলাদের আইপিএল এখন বিসিসিআইয়ের অন্যতম বড় প্রকল্প। ঠিক এই সময়েই উঠে এল বড় খবর। আইপিএলের সবচেয়ে সফল ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর একটি চেন্নাই সুপার কিংস কি এবার মহিলাদের আইপিএলেও পা রাখতে চলেছে? সাম্প্রতিক ইঙ্গিত বলছে, সেই সম্ভাবনা একেবারেই উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
মহিলাদের আইপিএল শুরু হয়েছিল পাঁচটি দল নিয়ে। প্রথম চারটি মরসুমেই এই পাঁচ দল অংশ নেয় এবং প্রতিটি মরসুমেই উত্তেজনা ছিল চোখে পড়ার মতো। মুম্বই ইন্ডিয়ান্স, দিল্লি ক্যাপিটালস, রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু, গুজরাত জায়ান্টস ও ইউপি ওয়ারিয়র্জ়—এই দলগুলোই এত দিন মহিলাদের আইপিএলের মুখ। মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি ব্র্যান্ড ভ্যালু ও দর্শকসংখ্যা দ্রুত বেড়েছে, যা বিসিসিআইকে ভবিষ্যৎ নিয়ে আরও বড় স্বপ্ন দেখতে উৎসাহ দিয়েছে।
বিসিসিআই শুরু থেকেই জানিয়েছে, মহিলাদের আইপিএলকে ধাপে ধাপে বড় করার পরিকল্পনা রয়েছে। শুধু দল বাড়ানো নয়, হোম-অ্যাওয়ে ফরম্যাট চালু করার কথাও ভাবছে বোর্ড। এর ফলে প্রতিযোগিতার সময়সীমা বাড়বে, ম্যাচের সংখ্যা বাড়বে এবং স্থানীয় দর্শকদের সঙ্গে দলগুলোর সংযোগ আরও মজবুত হবে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজির দরজা খুলে যাবে, আর সেখানেই ঢুকতে চাইছে একাধিক বড় আইপিএল দল।
চেন্নাই সুপার কিংস মানেই ধারাবাহিকতা, পরিকল্পনা আর সাফল্য। মহেন্দ্র সিংহ ধোনির নেতৃত্বে এই দল আইপিএলের ইতিহাসে নিজেদের জায়গা পাকাপাকি করে ফেলেছে। শুধু ট্রফি জেতাই নয়, বিশ্বস্ত সমর্থকগোষ্ঠী গড়ে তোলাও চেন্নাইয়ের বড় শক্তি। তাই এই ফ্র্যাঞ্চাইজি যদি মহিলাদের আইপিএলেও নামে, তা হলে টুর্নামেন্টের জনপ্রিয়তা যে আরও কয়েক ধাপ বেড়ে যাবে, তা বলাই যায়।
সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে চেন্নাই সুপার কিংসের সিইও কাশী বিশ্বনাথন যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি পরিষ্কার জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে মহিলাদের ক্রিকেটে বিনিয়োগ করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের। এখনই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত না হলেও, চেন্নাই সুপার কিংস ফ্র্যাঞ্চাইজিকে আরও বড় করার লক্ষ্যেই এই ভাবনা। তাঁর কথায়, মহিলাদের ক্রিকেটই তাঁদের প্রথম অগ্রাধিকার, যদিও অন্য খেলাতেও বিনিয়োগের সম্ভাবনা উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।
বর্তমানে মহিলাদের আইপিএলে অংশ নেওয়া পাঁচ দলের মধ্যে চারটিরই পুরুষদের আইপিএল দল রয়েছে। শুধু ইউপি ওয়ারিয়র্জ় ব্যতিক্রম। অন্য দিকে, কলকাতা নাইট রাইডার্স, চেন্নাই সুপার কিংস, সানরাইজার্স হায়দরাবাদ, রাজস্থান রয়্যালস, পঞ্জাব কিংস এবং লখনউ সুপার জায়ান্টস—এই ছয়টি জনপ্রিয় আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজির এখনও কোনও মহিলাদের দল নেই। বিসিসিআই যদি দল বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়, তবে এই দলগুলোর মধ্যেই প্রবল প্রতিযোগিতা দেখা যেতে পারে।
চলতি মহিলাদের আইপিএলের আগে নিলামের দিন দিল্লি ক্যাপিটালসের মালিক পার্থ জিন্দলও বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছিলেন। তিনি জানান, বিসিসিআই মহিলাদের আইপিএলকে আরও বড় আকার দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। হোম-অ্যাওয়ে ফরম্যাট চালু হলে শুধু দল নয়, ম্যাচের সংখ্যাও বাড়বে। এর ফলে টুর্নামেন্ট আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও জনপ্রিয় হয়ে উঠবে। এই মন্তব্যই নতুন দল যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাকে আরও জোরালো করেছে।
চেন্নাই সুপার কিংস যদি মহিলাদের আইপিএলে নামে, তা হলে একাধিক দিক থেকে লাভ হবে। প্রথমত, দক্ষিণ ভারতের বিশাল সমর্থকগোষ্ঠী মহিলাদের ক্রিকেটের সঙ্গে আরও বেশি যুক্ত হবে। দ্বিতীয়ত, স্পনসরশিপ ও ব্রডকাস্টিং ভ্যালু বাড়বে। তৃতীয়ত, তরুণ মহিলা ক্রিকেটাররা আরও বেশি সুযোগ ও অনুপ্রেরণা পাবে। চেন্নাইয়ের মতো সংগঠিত ও অভিজ্ঞ ফ্র্যাঞ্চাইজির হাত ধরে মহিলাদের আইপিএল আরও পেশাদার হয়ে উঠতে পারে।
চেন্নাই সুপার কিংস সব সময়ই নিজেদের ব্র্যান্ডকে দীর্ঘমেয়াদে দেখেছে। শুধু একটি দল নয়, একটি শক্তিশালী স্পোর্টস ফ্র্যাঞ্চাইজি হয়ে ওঠাই তাদের লক্ষ্য। মহিলাদের ক্রিকেটে বিনিয়োগ সেই লক্ষ্যপূরণেরই অংশ। এর মাধ্যমে তারা সামাজিক দিক থেকেও ইতিবাচক বার্তা দিতে পারবে—মহিলাদের খেলাধুলায় সমান গুরুত্ব দেওয়ার বার্তা।
সব পরিকল্পনা, ইঙ্গিত আর আলোচনার পর শেষ সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে বিসিসিআইয়ের উপর। কবে দল বাড়ানো হবে, কয়টি নতুন দল আসবে এবং কারা সেই সুযোগ পাবে—এই প্রশ্নগুলোর উত্তর সময়ই দেবে। তবে এক কথা নিশ্চিত, মহিলাদের আইপিএল ধীরে ধীরে আরও বড় মঞ্চে পৌঁছচ্ছে। আর সেই যাত্রাপথে চেন্নাই সুপার কিংসের নাম যুক্ত হলে, উত্তেজনা যে নতুন উচ্চতায় পৌঁছবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
সব মিলিয়ে বলা যায়, মহিলাদের আইপিএলে চেন্নাই সুপার কিংসের প্রবেশ এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা। পরিকল্পনা চলছে, ইঙ্গিত মিলছে, আর সমর্থকরাও মুখিয়ে আছে। এবার দেখার, ধোনিদের ফ্র্যাঞ্চাইজি কবে মহিলাদের ক্রিকেটের মঞ্চে নিজেদের হলুদ জার্সি তুলে ধরে।

