Homeযশোর খবর‘জাগরণের মহাপ্রাণ’: আজাদুল কবির আরজু স্মরণে জেসিএফ-এর শোকসভা

‘জাগরণের মহাপ্রাণ’: আজাদুল কবির আরজু স্মরণে জেসিএফ-এর শোকসভা

Share

জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশন (জেসিএফ)-এর প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক মরহুম মো. আজাদুল কবির আরজু’র স্মরণে এক আবেগঘন শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মানবকল্যাণে আজীবন নিবেদিত এই মানুষটির অবদান স্মরণ করতে সোমবার ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বিকেলে যশোর শহরের মুজিব সড়কে অবস্থিত জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজন করা হয় এই শোকসভা। শোকসভাটির শিরোনাম ছিল ‘জাগরণের মহাপ্রাণ’, যা তাঁর জীবন ও কর্মের সঙ্গে গভীরভাবে মিলে যায়।

বেলা সাড়ে তিনটায় শুরু হওয়া শোকসভার শুরুতেই মরহুম আজাদুল কবির আরজু’র স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। পুরো মিলনায়তনে তখন এক ধরনের নীরব ভার নেমে আসে। সেই নিরবতায় যেন ফুটে ওঠে একজন মানুষের দীর্ঘ সংগ্রামের গল্প, মানুষের জন্য বাঁচার গল্প। নিরবতা শেষে স্বাগত বক্তব্য রাখেন জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের নবনিযুক্ত নির্বাহী পরিচালক মেরীনা আখতার। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে আরজু’র আদর্শ, নেতৃত্ব এবং মানবিক মূল্যবোধের কথা।

জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের পরিচালক (কর্মসূচি) কাজী মাজেদ নওয়াজ শোকসভাটি সঞ্চালনা করেন। সভাপতিত্ব করেন সংস্থার সভাপতি অধ্যাপক খন্দকার কামরুল ইসলাম। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, আজাদুল কবির আরজু শুধু একজন সংগঠক নন, তিনি ছিলেন একটি চিন্তার নাম। তিনি আমাদের শিখিয়েছেন কীভাবে মানুষের পাশে দাঁড়াতে হয়, কীভাবে উন্নয়নকে মানুষের মর্যাদার সঙ্গে যুক্ত করতে হয়।

শোকসভায় মরহুম আজাদুল কবির আরজু’র স্মৃতিচারণ করে বক্তব্য রাখেন তাঁর দীর্ঘদিনের সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীরা। তাঁদের বক্তব্যে উঠে আসে আরজু’র ব্যক্তিত্বের নানা দিক। বক্তব্য দেন জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের কার্যনির্বাহী পরিষদ সদস্য এবং দৈনিক গ্রামের কাগজের প্রকাশক ও সম্পাদক মবিনুল ইসলাম মবিন। তিনি বলেন, আরজু ছিলেন এমন একজন মানুষ, যিনি নিজে আড়ালে থেকে অন্যদের সামনে এগিয়ে দিতেন।

সাধারণ পরিষদ সদস্য আবুল হোসেন বলেন, আরজু’র সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে তিনি শিখেছেন মানুষের কথা মন দিয়ে শোনা কতটা জরুরি। অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান সাবু স্মরণ করেন, কীভাবে আইনি সহায়তা থেকে শুরু করে সামাজিক আন্দোলনে আরজু সবসময় সক্রিয় ছিলেন। শ্রাবণী সুর ও প্রশান্ত কুমার বসু তাঁদের বক্তব্যে বলেন, আরজু’র নেতৃত্বে কাজ করা মানে ছিল প্রতিদিন নতুন করে অনুপ্রাণিত হওয়া।

জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের পরিচালক (এমএফপি) আজিজুল হক বলেন, আজাদুল কবির আরজু ছিলেন প্রকৃত অর্থেই মানবতার ফেরিওয়ালা। তিনি জীবনের শেষদিন পর্যন্ত মানুষের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন। তাঁর কাছে উন্নয়ন মানে শুধু অবকাঠামো নয়, উন্নয়ন মানে মানুষের মর্যাদা, অধিকার এবং সম্মান।

পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) বিশ্বজীৎ কুমার ঘোষ বলেন, আরজু আমাদের শিখিয়েছেন স্বচ্ছতা আর দায়বদ্ধতার সঙ্গে কাজ করতে। তিনি কখনোই সংখ্যাকে মানুষের ওপরে স্থান দেননি। সবসময় বলতেন, মানুষ ভালো থাকলেই প্রকল্প সফল।

শোকসভায় বক্তারা একবাক্যে স্বীকার করেন, আজাদুল কবির আরজু ছিলেন ‘উন্নয়নের কবি’। উন্নয়ন নিয়ে যে মানবিক ভাবনা আজ জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের কাজের ভিত্তি, তার বীজ বপন করেছিলেন তিনিই। বক্তারা বলেন, আরজু স্বপ্ন দেখতেন এমন এক সমাজের, যেখানে মানুষ চোখ খুলেও স্বপ্ন হারাবে না। চোখ খুললেও যেন দেখা যায়, সেই স্বপ্ন নিয়েই আমরা এখনো সংগ্রামের মাঠে আছি।

তাঁর সেই স্বপ্ন যেন বৃথা না যায়, এটাই ছিল বক্তাদের মূল আহ্বান। তাঁরা বলেন, আরজু আমাদের যে চিন্তা দিয়ে গেছেন, সেটাই আমাদের শক্তি। সেই চিন্তাকে ধারণ করেই আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে।

শোকসভা শেষে মরহুম মো. আজাদুল কবির আরজু’র রুহের মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া পরিচালনা করেন অধ্যাপক খন্দকার কামরুল ইসলাম। দোয়ায় তাঁর পরিবারের সদস্য, সহকর্মী এবং শুভানুধ্যায়ীদের জন্য ধৈর্য ও শক্তি কামনা করা হয়।

উল্লেখ্য, ২৪ জানুয়ারি ২০২৬ শনিবার দুপুর ১টা ০৫ মিনিটে যশোর শহরের পশ্চিম বারান্দীপাড়ার নিজ বাসভবনে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন মো. আজাদুল কবির আরজু। দ্রুত তাঁকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭২ বছর।

তিন দফা জানাজা শেষে তাঁর শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী মরহুম আজাদুল কবির আরজু’র মরদেহ মেডিকেল শিক্ষার্থীদের শিক্ষার স্বার্থে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দান করা হয়। মৃত্যুর পরও মানুষের উপকারে আসার এই সিদ্ধান্ত তাঁর জীবনদর্শনেরই প্রতিফলন।

আজাদুল কবির আরজু নেই, কিন্তু তাঁর কাজ, চিন্তা আর আদর্শ থেকে যাবে। জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশন আজ যে অবস্থানে পৌঁছেছে, তার পেছনে রয়েছে তাঁর অক্লান্ত পরিশ্রম ও স্বপ্ন। এই শোকসভা শুধু শোক প্রকাশের জায়গা ছিল না, এটি ছিল নতুন করে অঙ্গীকার করার মঞ্চ। অঙ্গীকার ছিল, মানবতার ফেরিওয়ালার দেখানো পথে হাঁটার, মানুষের জন্য কাজ করার, আরজু’র স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখার।

@ এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি। বাইরের কোন সাইটের তথ্যের জন্য যশোর খবর কতৃপক্ষ দায়বদ্ধ নয়।

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন