বাংলাদেশের প্রযুক্তি অগ্রযাত্রায় আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল ডিজিটাল ডিভাইস অ্যান্ড ইনোভেশন এক্সপো ২০২৬। রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আজ ২৮ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে এই বহুল প্রত্যাশিত প্রযুক্তি প্রদর্শনী। দেশের ডিজিটাল রূপান্তরের স্বপ্নকে সামনে রেখে আয়োজিত এই এক্সপোতে প্লাটিনাম স্পনসর হিসেবে অংশগ্রহণ করেছে বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি ব্র্যান্ড স্যামসাং।
চার দিনব্যাপী এই আয়োজন বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতে উদ্ভাবন, উন্নয়ন ও সম্ভাবনার একটি বড় মঞ্চ তৈরি করেছে। সরকার, বেসরকারি খাত, স্টার্টআপ ও আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত অংশগ্রহণে এক্সপোটি ইতোমধ্যেই প্রযুক্তিপ্রেমীদের নজর কাড়তে শুরু করেছে।
‘টেকিং বাংলাদেশ টু দ্য ওয়ার্ল্ড’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত ডিজিটাল ডিভাইস অ্যান্ড ইনোভেশন এক্সপো ২০২৬ দেশের অন্যতম বৃহৎ প্রযুক্তি আয়োজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এক্সপোর উদ্বোধন করেন মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নীতিনির্ধারক, আইসিটি খাতের শীর্ষ নেতৃত্ব, প্রযুক্তি উদ্যোক্তা, উদ্ভাবক এবং দেশি-বিদেশি প্রযুক্তি ব্র্যান্ডের প্রতিনিধিরা।
এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য হলো বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতে অর্জিত সাফল্য তুলে ধরা এবং ভবিষ্যতের সম্ভাবনাকে বিশ্বদরবারে উপস্থাপন করা। একই সঙ্গে তরুণ প্রজন্মকে প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবনে উৎসাহিত করাও এই এক্সপোর অন্যতম উদ্দেশ্য।
ডিজিটাল ডিভাইস অ্যান্ড ইনোভেশন এক্সপো ২০২৬-এ প্লাটিনাম স্পনসর হিসেবে স্যামসাংয়ের অংশগ্রহণ এই আয়োজনকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। এক্সপো প্রাঙ্গণে স্যামসাং তাদের সর্বশেষ প্রযুক্তির স্মার্টফোন, ট্যাবলেট এবং আধুনিক ডিজিটাল ডিভাইস প্রদর্শন করছে।
বিশেষ করে উদ্বোধনী দিনে স্যামসাংয়ের স্টলে দর্শনার্থীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। কারণ প্রতিষ্ঠানটি আধুনিক বিভিন্ন ডিভাইসে সর্বোচ্চ ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিশেষ ছাড় ঘোষণা করেছে। এই বিশেষ অফার প্রযুক্তিপ্রেমীদের জন্য এক্সপোর বড় আকর্ষণে পরিণত হয়েছে।
এ উপলক্ষে স্যামসাং ইলেকট্রনিকস বাংলাদেশ ব্রাঞ্চ অফিসের এমএক্স ডিভিশনের ডিরেক্টর ও হেড অব বিজনেস মোহাম্মদ মাসুদুল হক ভূঁইয়া বলেন, ডিজিটাল ডিভাইস অ্যান্ড ইনোভেশন এক্সপো বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ গঠনে প্রযুক্তির ভূমিকা তুলে ধরার একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম।
তিনি আরও জানান, প্লাটিনাম স্পনসর হিসেবে এমন একটি উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হতে পেরে স্যামসাং গর্বিত। এই আয়োজন উদ্ভাবন, অন্তর্ভুক্তি এবং ডিজিটাল ক্ষমতায়নের প্রতি স্যামসাংয়ের অঙ্গীকারকে প্রতিফলিত করে। তার মতে, বৈশ্বিক প্রযুক্তি অঙ্গনে বাংলাদেশ আরও অনেক দূর এগিয়ে যেতে সক্ষম, আর সেই যাত্রায় দীর্ঘমেয়াদি অংশীদার হিসেবে স্যামসাং পাশে থাকতে চায়।
আইসিটি ডিভিশন, বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক অথরিটি এবং বাংলাদেশ কম্পিউটার সোসাইটির যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ডিজিটাল ডিভাইস অ্যান্ড ইনোভেশন এক্সপো ২০২৬। আয়োজকরা আশা করছেন, আগামী তিন দিনে প্রায় তিন লাখ দর্শনার্থীর সমাগম হবে এই প্রদর্শনীতে।
এই বিশাল আয়োজন প্রমাণ করে যে, বাংলাদেশের প্রযুক্তি খাত এখন আর কেবল স্থানীয় পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নয়, বরং আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও নিজের অবস্থান শক্ত করছে।
ডিডিআইই ২০২৬-এ রয়েছে ১৩০টিরও বেশি প্যাভিলিয়ন ও স্টল। এক্সপোটি বিভিন্ন থিমভিত্তিক জোনে ভাগ করা হয়েছে, যাতে দর্শনার্থীরা সহজেই নিজেদের আগ্রহ অনুযায়ী প্রযুক্তি ও সেবা সম্পর্কে জানতে পারেন।
এই জোনগুলোর মধ্যে রয়েছে উদ্ভাবন ও স্টার্টআপ জোন, ডিজিটাল লাইফস্টাইল জোন, স্থানীয় উৎপাদন জোন, আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড জোন, মেগা সেল জোন, সেমিনার জোন এবং বি২বি ম্যাচমেকিং জোন। প্রতিটি জোনেই নতুন প্রযুক্তি, স্মার্ট সল্যুশন এবং ভবিষ্যতমুখী ধারণা উপস্থাপন করা হচ্ছে।
এ বছর ডিজিটাল ডিভাইস অ্যান্ড ইনোভেশন এক্সপোতে অংশ নিয়েছে ১০০টিরও বেশি দেশি ও বিদেশি আইসিটি প্রতিষ্ঠান। পাশাপাশি রয়েছে স্টার্টআপ, বিশ্ববিদ্যালয় এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানের সক্রিয় অংশগ্রহণ।
এই অংশগ্রহণের মাধ্যমে ডিজিটাল ডিভাইস, স্মার্ট সল্যুশন, উৎপাদন সক্ষমতা এবং নতুন প্রযুক্তির অগ্রগতি তুলে ধরা হচ্ছে। বিশেষ করে স্থানীয় উৎপাদন ও দেশীয় উদ্ভাবনকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যা বাংলাদেশের প্রযুক্তি খাতের জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা।
ডিডিআইই ২০২৬-এ শক্তিশালী উপস্থিতির মাধ্যমে স্যামসাং আবারও প্রমাণ করছে যে, তারা বাংলাদেশের প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের অন্যতম চালিকাশক্তি। শুধু পণ্য বিক্রির মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে প্রতিষ্ঠানটি দেশের ডিজিটাল ইকোসিস্টেম শক্তিশালী করতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।
স্থানীয় উদ্ভাবনকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া, তরুণদের প্রযুক্তিতে দক্ষ করে তোলা এবং ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি বাড়ানোর লক্ষ্যেই স্যামসাং দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে কাজ করে যাচ্ছে।
ডিজিটাল ডিভাইস অ্যান্ড ইনোভেশন এক্সপো ২০২৬ চলবে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত। এই সময়ের মধ্যে দর্শনার্থীরা আধুনিক প্রযুক্তির সরাসরি অভিজ্ঞতা নিতে পারবেন। পাশাপাশি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বিশেষ অফার, নতুন পণ্যের প্রদর্শনী এবং জ্ঞানভিত্তিক সেমিনার ও সেশন উপভোগ করার সুযোগ থাকছে।
প্রযুক্তিতে আগ্রহী শিক্ষার্থী, উদ্যোক্তা কিংবা সাধারণ দর্শনার্থী, সবার জন্যই এই এক্সপো একটি অনন্য অভিজ্ঞতা হয়ে উঠতে যাচ্ছে। বাংলাদেশের ডিজিটাল ভবিষ্যৎ কেমন হতে পারে, তার একটি স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে এই আয়োজন থেকেই।
Discover more from Jashore Khabor
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

