Homeবিজ্ঞান ও প্রযুক্তিচ্যাটজিপিটিএআই দুনিয়ায় ইতিহাস! ওপেনএআইয়ের ২০০০ কোটি ডলারের রেকর্ড

এআই দুনিয়ায় ইতিহাস! ওপেনএআইয়ের ২০০০ কোটি ডলারের রেকর্ড

এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকলে এআই শিল্পে ওপেনএআইয়ের নেতৃত্ব আরও সুসংহত হবে এবং প্রযুক্তি বিশ্বের গতিপথ নির্ধারণে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

Share

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির বিশ্বে ওপেনএআই এখন আর শুধু একটি পরিচিত নাম নয়, বরং এক শক্তিশালী অর্থনৈতিক বাস্তবতা। ২০২৫ সালে এসে প্রতিষ্ঠানটি বার্ষিক আয়ে ২০০০ কোটি ডলারের ঐতিহাসিক মাইলফলক ছুঁয়ে ফেলেছে। চ্যাটজিপিটির নির্মাতা এই সংস্থার এমন অভাবনীয় উত্থান প্রযুক্তি দুনিয়ায় নতুন করে আলোচনার ঝড় তুলেছে।

রোববার এক আনুষ্ঠানিক ব্লগ পোস্টে ওপেনএআইয়ের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা সারাহ ফ্রায়ার এই তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি জানান, মাত্র এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানির রাজস্ব তিন গুণেরও বেশি বেড়েছে। এই সাফল্য শুধু আর্থিক নয়, বরং এআই শিল্পের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনাও স্পষ্ট করে দিয়েছে।

এক বছরে তিন গুণ আয় বৃদ্ধি, কীভাবে সম্ভব হলো

২০২৪ সালে ওপেনএআইয়ের মোট আয় ছিল প্রায় ৬০০ কোটি ডলার। সেই জায়গা থেকে ২০২৫ সালে এসে আয় দাঁড়িয়েছে ২০০০ কোটি ডলারে। এমন লাফিয়ে ওঠা প্রবৃদ্ধির পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হলো কম্পিউটিং সক্ষমতার ব্যাপক সম্প্রসারণ।

এআই মডেল চালাতে যে বিশাল প্রসেসিং পাওয়ার প্রয়োজন, ওপেনএআই সেই জায়গায় বড় বিনিয়োগ করেছে। উন্নত ডেটা সেন্টার, শক্তিশালী চিপ এবং মাইক্রোসফটের ক্লাউড অবকাঠামোর সহায়তায় প্রতিষ্ঠানটি তাদের সেবার পরিসর দ্রুত বাড়াতে পেরেছে। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এই আর্থিক সাফল্যের বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

কম্পিউটিং শক্তিতে বিশাল লাফ

সারাহ ফ্রায়ার জানান, ২০২৪ সালে ওপেনএআইয়ের কম্পিউটিং সক্ষমতা ছিল মাত্র শূন্য দশমিক ছয় গিগাওয়াট। এক বছরের মধ্যেই তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক দশমিক নয় গিগাওয়াটে। এই বৃদ্ধি শুধু সংখ্যার খেলাই নয়, বরং আরও শক্তিশালী ও দ্রুতগতির এআই মডেল তৈরির ভিত্তি তৈরি করেছে।

এই বাড়তি শক্তির ফলে চ্যাটজিপিটি এখন আরও বেশি ব্যবহারকারীকে একসঙ্গে সেবা দিতে পারছে। লেখা, ছবি তৈরি, ভয়েস সাপোর্ট এবং কোডিং—সব ক্ষেত্রেই ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতা আগের চেয়ে অনেক মসৃণ হয়েছে।

ব্যবহারকারীর রেকর্ড বৃদ্ধি এবং মাইক্রোসফটের ভূমিকা

মাইক্রোসফটের সমর্থনপুষ্ট ওপেনএআইয়ের দৈনিক ও সাপ্তাহিক সক্রিয় ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রতিনিয়ত নতুন রেকর্ড গড়ছে। শিক্ষা, ব্যবসা, গবেষণা থেকে শুরু করে সাধারণ দৈনন্দিন কাজেও মানুষ এখন চ্যাটজিপিটির ওপর ভরসা করছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মাইক্রোসফটের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারিত্ব ওপেনএআইকে দ্রুত স্কেল করতে সাহায্য করেছে। ক্লাউড অবকাঠামো ও এন্টারপ্রাইজ গ্রাহকদের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ এই প্রবৃদ্ধিকে আরও ত্বরান্বিত করেছে।

বিজ্ঞাপন থেকে নতুন আয়ের পথ খুলছে ওপেনএআই

এআই প্রযুক্তি উন্নয়নে বিপুল খরচ সামাল দিতে ওপেনএআই নতুন আয়ের উৎস খুঁজছে। সেই লক্ষ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের কিছু ব্যবহারকারীর জন্য চ্যাটজিপিটিতে বিজ্ঞাপন দেখানোর ঘোষণা দিয়েছে কোম্পানিটি।

এই পদক্ষেপকে অনেকেই স্বাভাবিক ব্যবসায়িক কৌশল হিসেবে দেখছেন। বিনামূল্যে বা কম খরচে উন্নত এআই সেবা দিতে হলে বিজ্ঞাপনভিত্তিক মডেল একটি কার্যকর সমাধান হতে পারে। তবে ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেদিকেও নজর রাখছে প্রতিষ্ঠানটি।

এআই এজেন্ট ও ওয়ার্কফ্লো অটোমেশনে ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ

বর্তমানে ওপেনএআই লেখা, ছবি, কণ্ঠস্বর ও কোডিং সেবায় নেতৃত্ব দিচ্ছে। তবে এখানেই থেমে থাকতে চায় না কোম্পানিটি। আগামী দিনে ‘এআই এজেন্ট’ এবং ‘ওয়ার্কফ্লো অটোমেশন’ প্রযুক্তির ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হবে।

এই প্রযুক্তির মাধ্যমে এআই নিজে থেকেই জটিল কাজের ধাপ বুঝে সম্পন্ন করতে পারবে। করপোরেট অফিস, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং শিল্পখাতে এর বাস্তব প্রয়োগ ব্যবসার ধরণই বদলে দিতে পারে।

হার্ডওয়্যার জগতে প্রবেশের প্রস্তুতি

সফ্টওয়্যারের গণ্ডি পেরিয়ে হার্ডওয়্যার দুনিয়ায় পা রাখতেও প্রস্তুত ওপেনএআই। কোম্পানির নীতি নির্ধারণ বিভাগের প্রধান ক্রিস লেহ্যান জানিয়েছেন, ২০২৬ সালের দ্বিতীয়ার্ধে নিজেদের তৈরি প্রথম ইলেকট্রনিক ডিভাইস বাজারে আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

এই উদ্যোগ সফল হলে ওপেনএআই শুধু সফ্টওয়্যার নির্মাতা নয়, বরং একটি পূর্ণাঙ্গ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে। এআই নির্ভর ডিভাইস বাজারে এলে ব্যবহারকারীর সঙ্গে প্রযুক্তির সম্পর্ক আরও গভীর হতে পারে।

স্বাস্থ্যসেবা ও বিজ্ঞানে এআইয়ের বাস্তব প্রয়োগ

২০২৬ সালের জন্য ওপেনএআইয়ের বড় লক্ষ্য হলো স্বাস্থ্যসেবা, বিজ্ঞান এবং বৃহৎ করপোরেট খাতে এআইয়ের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা। রোগ নির্ণয়, ওষুধ আবিষ্কার, গবেষণার তথ্য বিশ্লেষণ—সব ক্ষেত্রেই এআই বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই খাতগুলোতে সঠিকভাবে এআই প্রয়োগ করা গেলে মানবজীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে এবং ওপেনএআইয়ের প্রভাব আরও বিস্তৃত হবে।

‘হালকা’ ব্যালেন্স শিট কৌশল, ঝুঁকি কমানোর চেষ্টা

ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ওপেনএআই তাদের ব্যালেন্স শিট হালকা রাখার নীতি গ্রহণ করেছে। সারাহ ফ্রায়ার জানান, সবকিছুর মালিক হওয়ার বদলে বিভিন্ন হার্ডওয়্যার সরবরাহকারী ও অংশীদারদের সঙ্গে নমনীয় চুক্তিতে কাজ করতে চায় প্রতিষ্ঠানটি।

এই কৌশলের ফলে অতিরিক্ত আর্থিক চাপ এড়ানো সম্ভব হবে এবং দ্রুত নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনে মনোযোগ দেওয়া যাবে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত দীর্ঘমেয়াদে ওপেনএআইয়ের জন্য লাভজনক হবে।

বৈশ্বিক এআই বাজারে আধিপত্য আরও শক্ত হচ্ছে

সব মিলিয়ে ২০০০ কোটি ডলারের আয়ের মাইলফলক ওপেনএআইকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বৈশ্বিক বাজারে আরও শক্ত অবস্থানে নিয়ে গেছে। প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, ব্যবহারকারীর আস্থা এবং কৌশলগত পরিকল্পনার সমন্বয়ে প্রতিষ্ঠানটি ভবিষ্যতে আরও বড় চমক দিতে পারে।

বিশ্লেষকদের ধারণা, এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকলে এআই শিল্পে ওপেনএআইয়ের নেতৃত্ব আরও সুসংহত হবে এবং প্রযুক্তি বিশ্বের গতিপথ নির্ধারণে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সূত্র: রয়টার্স

@ এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি। বাইরের কোন সাইটের তথ্যের জন্য যশোর খবর কতৃপক্ষ দায়বদ্ধ নয়।

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন