Homeএক্সক্লুসিভগরুও এত বুদ্ধিমান? সরঞ্জাম ব্যবহার করা ভেরোনিকার চমকপ্রদ কাহিনি

গরুও এত বুদ্ধিমান? সরঞ্জাম ব্যবহার করা ভেরোনিকার চমকপ্রদ কাহিনি

ভেরোনিকা শুধু একটি গরু নয়। সে একটি উদাহরণ। প্রকৃতি কতটা আশ্চর্য আর বিস্ময়কর হতে পারে, তার জীবন্ত প্রমাণ।

Share

মানুষ আর পশুর মধ্যে সবচেয়ে বড় পার্থক্য কী। আমরা অনেকেই বলব বুদ্ধি। বিশেষ করে যন্ত্র বা সরঞ্জাম ব্যবহার করার ক্ষমতা। এতদিন পর্যন্ত আমাদের বিশ্বাস ছিল, এই ক্ষমতা শুধু মানুষেরই আছে। কিছু বুদ্ধিমান প্রাণী শিখে নিতে পারে, কিন্তু গরু। না, গরু কখনও সরঞ্জাম ব্যবহার করতে পারে না। ঠিক এই ধারণাটাই ভেঙে দিয়েছে একটি গরু। তার নাম ভেরোনিকা।

এই ঘটনা শুধু মজার নয়। বিজ্ঞানের দিক থেকেও খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ভেরোনিকা প্রমাণ করেছে, গরুর মতো শান্ত আর সাধারণ মনে হওয়া প্রাণীর মধ্যেও লুকিয়ে আছে অসাধারণ বুদ্ধি।

গরু সম্পর্কে আমাদের চেনা ধারণা

গরু মানেই শান্ত, ধীর আর নিরীহ একটি প্রাণী। গ্রাম হোক বা শহরের আশপাশ, গরু আমরা সবাই দেখেছি। গৃহপালিত পশু হিসেবে গরুর সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক হাজার হাজার বছরের। মানুষ গরুকে খাওয়ায়, যত্ন নেয়, আশ্রয় দেয়। বদলে গরু দেয় দুধ, শক্তি আর শ্রম।

আমরা জানি, গরু নিজের শরীরের সাধারণ সমস্যা নিজের মতো করেই সামলায়। গায়ে মাছি বসলে লেজ নাড়ায়। খুব বিরক্ত হলে গুঁতিয়ে দেয়। চুলকানি হলে খুঁটির সঙ্গে গা ঘষে। কিন্তু এতদিন পর্যন্ত কেউ ভাবেনি, গরু নিজের প্রয়োজন মেটাতে আলাদা কোনও সরঞ্জাম ব্যবহার করতে পারে।

কারণ সরঞ্জাম ব্যবহার মানেই পরিকল্পনা, চিন্তা আর শেখার ক্ষমতা। এই তিনটি গুণ গরুর মধ্যে আছে বলে আমরা কখনও ভাবিনি।

গৃহপালিত পশু কি সত্যিই কম বুদ্ধিমান

অনেক গবেষণায় আগেই প্রমাণ হয়েছে, মানুষের সংস্পর্শে থাকা প্রাণীরা ধীরে ধীরে বেশি বুদ্ধিমান হয়ে ওঠে। কুকুর, বিড়াল, ঘোড়া বা হাতির ক্ষেত্রে আমরা সেটা সহজেই মেনে নিই। কিন্তু গরুর বেলায় আমরা সব সময় অবহেলা করেছি।

গরু আসলে খুব পর্যবেক্ষণশীল প্রাণী। তারা পরিবেশ বুঝতে পারে। মানুষকে চিনতে পারে। এমনকি আবেগও প্রকাশ করে। তবু আমরা কখনও ভাবিনি, তারা কোনও জিনিস নতুনভাবে ব্যবহার করতে শিখতে পারে।

এই জায়গাতেই ভেরোনিকা আমাদের চোখ খুলে দিয়েছে।

ভেরোনিকা: অস্ট্রিয়ার এক ব্যতিক্রমী গরু

ভেরোনিকা একটি বাদামি রঙের গরু। সে থাকে অস্ট্রিয়ার একটি খামারে। দেখতে সে একদম সাধারণ গরুর মতোই। কিন্তু তার কাজ একদম অসাধারণ।

খামারের মালিক আর গবেষকরা লক্ষ্য করেন, ভেরোনিকা নিজের শরীরের চুলকানি মেটাতে লম্বা একটি লাঠি ব্যবহার করছে। সে মুখ দিয়ে লাঠিটা শক্ত করে চেপে ধরে। তারপর শরীরের যে অংশে চুলকানি হয়, সেখানে লাঠির মাথা দিয়ে খুঁচিয়ে চুলকায়।

এটা কোনও হঠাৎ করা কাজ নয়। সে বারবার একইভাবে করে। মানে সে বুঝে গেছে, এই লাঠি তার সমস্যার সমাধান করতে পারে।

ব্রাশ ব্যবহার করে নিজেকে আরাম দেওয়া

লাঠি ব্যবহার করেই ভেরোনিকার কাহিনি শেষ নয়। খামারে থাকা একটি ব্রাশও সে নিজের কাজে লাগায়। সাধারণত ব্রাশ মানুষ বা খামারের কর্মীরা ব্যবহার করে গরুর শরীর পরিষ্কার করার জন্য।

ভেরোনিকা সেই ব্রাশ নিজেই ব্যবহার করে। সে শরীরের যে অংশে বেশি লোম রয়েছে, সেখানে ব্রাশ দিয়ে আঁচড়ানোর মতো করে ঘষে। ঠিক যেমন মানুষ চুল আঁচড়ায়।

আরও অবাক করা বিষয় হলো, শরীরের খুব সংবেদনশীল অংশে চুলকানি হলে সে ব্রাশের উল্টো দিক ব্যবহার করে। যেখানে ধাতব অংশ রয়েছে। সে বুঝে গেছে, কোন অংশে কোন দিক ব্যবহার করলে বেশি আরাম পাবে।

এই আচরণ দেখে বিশেষজ্ঞরাও হতবাক হয়ে যান।

কেন এই ঘটনা এত গুরুত্বপূর্ণ

প্রাণীবিদদের মতে, ভেরোনিকাই পৃথিবীর প্রথম গরু যে নিজের প্রয়োজন মেটাতে বাইরের কোনও সরঞ্জাম ব্যবহার করছে। এটা খুব সাধারণ বিষয় মনে হলেও, এর অর্থ অনেক গভীর।

এর মানে হলো, গরুর মধ্যেও সমস্যা বুঝে সমাধান করার ক্ষমতা আছে। তারা শুধু প্রবৃত্তির উপর নির্ভর করে না। প্রয়োজনে নতুন উপায় শিখে নিতে পারে।

এটা প্রমাণ করে, প্রাণীদের বুদ্ধি নিয়ে আমাদের ধারণা এখনও অসম্পূর্ণ। আমরা অনেক প্রাণীর ক্ষমতাকে অবমূল্যায়ন করি।

প্রাণী বুদ্ধি নিয়ে নতুন প্রশ্ন

ভেরোনিকার এই আচরণ বিজ্ঞানীদের সামনে নতুন প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। যদি একটি গরু সরঞ্জাম ব্যবহার শিখতে পারে, তাহলে আর কত প্রাণীর মধ্যে এমন ক্ষমতা লুকিয়ে আছে।

হয়তো আমরা ঠিকভাবে লক্ষ্য করিনি। হয়তো সুযোগ পেলে আরও অনেক গরু বা গৃহপালিত পশুও এমন আচরণ দেখাতে পারে।

এই ঘটনা প্রাণী গবেষণার ক্ষেত্রে নতুন দিক খুলে দিয়েছে।

মানুষের দায়িত্ব আরও বেড়ে গেল

ভেরোনিকার গল্প আমাদের শুধু অবাকই করে না। আমাদের দায়িত্বের কথাও মনে করিয়ে দেয়। আমরা যেসব প্রাণীকে সাধারণ বলে অবহেলা করি, তারা আসলে অনেক বেশি অনুভূতিশীল আর বুদ্ধিমান।

গরুকে শুধু দুধ দেওয়ার যন্ত্র হিসেবে দেখলে ভুল হবে। তাদেরও আরাম, কষ্ট আর প্রয়োজন আছে। আর সেই প্রয়োজন মেটাতে তারা নিজের মতো করে ভাবতেও পারে।

ভেরোনিকার গল্প কেন সবার জানা দরকার

এই গল্প ছোটদের জন্য যেমন শিক্ষণীয়, তেমনই বড়দের জন্যও। এটা শেখায়, বুদ্ধি শুধু মানুষের একার সম্পত্তি নয়। প্রকৃতির প্রতিটি প্রাণীর মধ্যেই আলাদা ধরনের বুদ্ধি আছে।

ভেরোনিকা আমাদের দেখিয়ে দিয়েছে, শান্ত আর নিরীহ দেখালেও গরুর মধ্যেও অসাধারণ ক্ষমতা লুকিয়ে থাকতে পারে।

শেষ কথা

পৃথিবী প্রতিদিন আমাদের নতুন কিছু শেখায়। কখনও সেটা হয় বড় কোনও আবিষ্কার দিয়ে। কখনও আবার ভেরোনিকার মতো একটি সাধারণ গরু দিয়ে।

এই গরু আমাদের চোখ খুলে দিয়েছে। বুঝিয়ে দিয়েছে, প্রাণীদের কখনও ছোট করে দেখা উচিত নয়। কারণ তারা আমাদের ধারণার চেয়েও অনেক বেশি সক্ষম।

ভেরোনিকা শুধু একটি গরু নয়। সে একটি উদাহরণ। প্রকৃতি কতটা আশ্চর্য আর বিস্ময়কর হতে পারে, তার জীবন্ত প্রমাণ।

@ এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি। বাইরের কোন সাইটের তথ্যের জন্য যশোর খবর কতৃপক্ষ দায়বদ্ধ নয়।

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন