দিল্লির সাম্প্রতিক কনসার্টে এক অশ্লীল মন্তব্যের কারণে তোলপাড় তৈরি করেছেন বলিউড ব়্যাপার হানি সিং। তিনি বলেন, “শীতের রাতে গাড়িতে সঙ্গমের মজাই আলাদা,”—এই বক্তব্যের পরই সোশাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা। কেউ তাঁকে কটাক্ষ করেছেন বুড়োর মতো, কেউ আবার ‘পেডো’ বলে আক্রমণ করেছেন।
ক্ষমা চাইতে গেলেও বিতর্ক বেড়াল
ট্রোলের মুখে হানি সিং নিজে মাঠে নামেন। ক্ষমা চাইলেও তাতে বিতর্ক থামেনি, বরং আরও উস্কানি পেয়েছে। তিনি বলেছেন, তাঁর উদ্দেশ্য ছিল তরুণ প্রজন্মকে সুরক্ষিত যৌন সম্পর্কে সচেতন করা। হানি সিং বলেন, “শোয়ের আগে কিছু যৌন বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা হয়েছিল। তাঁরা সবাই আমাকে কনসার্টে ‘সেফ সেক্স’-এর বার্তা দিতে বলেছিলেন। আমি সেই পরামর্শকে তরুণ প্রজন্মের ভাষায় পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেছি। সঙ্গমের সময় যেন কন্ডোম ব্যবহার করে কেউ অসুরক্ষিত যৌনতায় জড়িয়ে না পড়ে।”
ভাষার ভুল বোঝাপড়া
হানি সিং মানছেন, তাঁর ভাষা অনেকের কাছে অশালীন মনে হয়েছে। তিনি বলেন, “যাঁদের খারাপ লেগেছে, তাঁদের কাছে ক্ষমা চাচ্ছি। কাউকে আঘাত করার কোনও উদ্দেশ্য আমার ছিল না। মানুষ মাত্রই ভুল করে। ভবিষ্যতে এমন ভুল যেন আর না হয়, আমি খেয়াল রাখব। কথা বলার সময়ে কাকে বলছি, কেন বলছি, সেসব বিচার করে ভাষার উপর নিয়ন্ত্রণ রাখব। আরও সচেতন হব।”
ট্রোলের প্রতিক্রিয়া
যদিও হানি সিং ডাক্তারের পরামর্শ উল্লেখ করেছেন, নিন্দুকদের একাংশ তাতে প্রশ্ন তুলেছেন, ‘ডাক্তাররা কি শীতের রাতে গাড়িতে সেক্স করার পরামর্শ দিচ্ছেন?’ অনেকে মনে করিয়ে দিয়েছেন, সচেতনতার বার্তা দেওয়ার সময় ভাষা সংযত হওয়া জরুরি। এই সমস্ত ট্রোল ও মিমের মধ্যেই এখনও আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন হানি সিং।
হানি সিং-এর এই মন্তব্য শুধু বিতর্ক নয়, একটি বাস্তব উদাহরণ যে সচেতন বার্তা দেওয়ার সময় ভাষার ব্যবহার কতটা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু কনসার্টে তরুণদের কাছে পৌঁছানোর জন্য যে ভাষার প্রয়োগ করেছেন, তাতেই শুরু হয়েছে সোশাল মিডিয়ার তীব্র প্রতিক্রিয়া।

