Homeযশোর খবরভৈরব নদীর পাড়ে অবৈধ চুল্লি উচ্ছেদ ; যশোরে পরিবেশ রক্ষায় কঠোর অভিযান

ভৈরব নদীর পাড়ে অবৈধ চুল্লি উচ্ছেদ ; যশোরে পরিবেশ রক্ষায় কঠোর অভিযান

এতে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যেরও মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। বিভিন্ন গাছপালায় মড়ক দেখা দিয়েছে। গাছের ফল-মুকুল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

Share

যশোরের অভয়নগরে অবৈধ চুল্লি ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিল প্রশাসন। আজ সোমবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত প্রায় ৭৪টি চুল্লি ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেয়া হয়। উপজেলার সিদ্দিপাশা ইউনিয়নে ভৈরব নদীর পার ঘেষে গড়ে উঠা অবৈধ চুল্লি ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিতে খুলনা পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মমতাজ বেগমের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালিত হয়।

এই অভিযানে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিস অংশ গ্রহন করে । দীর্ঘদিন ধরে অবাধে কাঠ পুড়িয়ে কয়লা তৈরী করে আসছিল প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় একটি চক্র। বিভিন্ন বনজ ও ফলদ গাছ কেটে এসব চুল্লিতে কাঠ সরবরাহ করা হচ্ছিল। এসব চুল্লি থেকে নির্গত ধোঁয়ায় ঝুঁকির মুখে পড়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বাস্থ্য। একইসঙ্গে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য। এ অবস্থায় অবৈধ এসব চুল্লি উচ্ছেদের দাবি ছিল স্থানীয়দের।

পরিবেশ অধিদপ্তর খুলনার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মমতাজ বেগম বলেন, ‘বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অভয়নগরে সিদ্দিপাশাতেই ২০০টির বেশি কাঠ পুড়িয়ে কয়লা তৈরি করে। বিশাল আকৃতির চুলা তৈরি করে বছরের পর বছর কাঠ পুড়িয়ে কয়লা তৈরিতে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। আজকে অভিযানে আমরা প্রাথমিকভাবে৭৪টি চুলা ভেঙে ফেলা হয়েছে। পরিবেশ দূষিত করে এ ধরণের ব্যবসা করার সুযোগ নেই। অবৈধ এ ব্যবসা বন্ধে অভিযান অব্যহৃত থাকবে।’

স্থানীয়রা জানান, অভয়নগরের বুক চিড়ে বয়ে গেছে ভৈরব নদ। এই নদের দুপাশে সিদ্দিপাশা, প্রেমবাগ, চেঙ্গুটিয়া, চাঁদখালি ও পেরুলি গ্রামেও রয়েছে শত শত কাঠের চুল্লি। চুল্লিতে অবাধে কাঠ পুড়িয়ে তৈরি করা হচ্ছে কয়লা। বিভিন্ন বনজ ও ফলদ গাছ কেটে এসব চুল্লিতে কাঠ সরবরাহ করা হচ্ছে। এসব চুল্লি থেকে নির্গত ধোঁয়ায় ঝুঁকির মুখে পড়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বাস্থ্য। অনুমোদনহীন জনবসতি এলাকায় জমি নষ্ট করে এসব কারখানা স্থাপন করায় স্থানীয়রা শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগ-ব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছেন।

Images 10000 01

আব্দুস সালাম নামে স্থানীয় একজন জানান, চুল্লি মালিকরা কারও কথার তোয়াক্কা করেন না। রাস্তার পাশে কয়লা তৈরির কারখানা স্থাপন করে সারাদিন খোলা জায়গায় কাঠ পুড়িয়ে কয়লা তৈরি করছেন। একদিকে বনজ সম্পদ ধ্বংস হচ্ছে, অপরদিকে সৃষ্ট ধোঁয়ায় শ্বাসকষ্টজনিত নানা ব্যাধিতে ভুগছে স্থানীয়রা।

এতে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যেরও মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। বিভিন্ন গাছপালায় মড়ক দেখা দিয়েছে। গাছের ফল-মুকুল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। প্রতিনিয়ত এসব ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মানববন্ধন করে আসছিলেন স্থানীয়রা। স্থানীয়দের দাবির পেক্ষিতে সোমবার অভিযান চালায় প্রশাসন। দ্রুত বাকী চুল্লিগুলোও গুড়িয়ে দেওয়ার দাবি স্থানীয়দের।

চুল্লি ব্যবসায়ীদের তথ্য মতে, তাদের উৎপাদিত কয়লা অভিজাত হোটেল, রড কারখানায় ব্যবহারের পাশাপাশি মশার কয়েল, ধুপকাঠি, জুয়েলারি ও কার্বন বানানোর কাজে ব্যবহৃত হয়। এর মাধ্যমে তারা বছরে প্রায় দেড়শ কোটি টাকা লেনদেন করেন।

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন