Homeআবহাওয়াইতিহাস গড়ল কলকাতার শীত! ১০.২ ডিগ্রিতে নামল তাপমাত্রা, আরও নামবে কি?

ইতিহাস গড়ল কলকাতার শীত! ১০.২ ডিগ্রিতে নামল তাপমাত্রা, আরও নামবে কি?

রেকর্ড ভাঙা শীতে কাঁপছে কলকাতা ও আশপাশের জেলা। ভোরে কুয়াশার চাদর, দিনে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক কম তাপমাত্রা। বর্ধমান, নদিয়া, মুর্শিদাবাদ থেকে উত্তরবঙ্গ

Share

কলকাতার শীত যেন এ বার সত্যিই ইতিহাস লিখে ফেলল। জানুয়ারি মাসে এমন ঠান্ডা শহরবাসী আগে কখনও দেখেনি। মঙ্গলবার ভোরে কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে গিয়েছে ১০.২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। আবহাওয়া দফতরের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি মাসে এটি কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রার সর্বকালীন রেকর্ড। অর্থাৎ শীতের নিরিখে এ বার জানুয়ারি ভেঙে দিল আগের সব হিসাব।

শুধু কলকাতা নয়, শহরতলি ও সংলগ্ন এলাকাগুলিতেও ঠান্ডার দাপট স্পষ্ট। কোথাও কোথাও পারদ নেমেছে ১০ ডিগ্রিরও নীচে। ভোরের দিকে হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশার চাদরে ঢেকে যায় শহর ও আশপাশের জেলা। সব মিলিয়ে গাঙ্গেয় দক্ষিণবঙ্গে শীতের কামড় এখন পুরোপুরি টের পাওয়া যাচ্ছে।

জানুয়ারিতে নজিরবিহীন ঠান্ডা কেন এত তাৎপর্যপূর্ণ

কলকাতার আবহাওয়ায় জানুয়ারি সাধারণত শীতের শেষ পর্ব হিসেবে ধরা হয়। এই সময় ঠান্ডা থাকলেও তাপমাত্রা সাধারণত ১১–১২ ডিগ্রির আশেপাশে ঘোরাফেরা করে। কিন্তু এ বার সেই চেনা ছবিটাই বদলে গিয়েছে।

গত ১৫ বছরে মাত্র একবারই জানুয়ারি মাসে কলকাতার পারদ ১১ ডিগ্রির নীচে নেমেছিল। ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১০.৯ ডিগ্রি। এ বার সেই রেকর্ডও ভেঙে গেল। তারও আগে, ২০১২ সালের ডিসেম্বরে একবার তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রিতে নেমেছিল। আরও পুরনো ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, ১৯৬৫ সালের ডিসেম্বরে একবার কলকাতায় পারদ নেমেছিল ৭.২ ডিগ্রিতে। তবে জানুয়ারি মাসে এমন ঠান্ডা এই প্রথম।

কুয়াশার চাদরে ঢাকা দক্ষিণবঙ্গ

মঙ্গলবার ভোরে কলকাতায় হালকা কুয়াশা থাকলেও সংলগ্ন জেলাগুলিতে ছবিটা ছিল আরও ঘন। সোমবার গভীর রাত থেকেই শহরতলি ও পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলিতে কুয়াশা জমতে শুরু করে। মঙ্গলবার ভোরের দিকে সেই কুয়াশা আরও ঘন হয়।

বিশেষ করে মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, দুই বর্ধমান, বীরভূম এবং বাঁকুড়ার কিছু অংশে কুয়াশার প্রভাব বেশি দেখা গিয়েছে। ভোরের দিকে দৃশ্যমানতা অনেক জায়গায় কমে যাওয়ায় যান চলাচলেও সাবধানতা অবলম্বন করতে হয়েছে।

আরও নামবে তাপমাত্রা, জানাল আলিপুর

আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঠান্ডার দাপট এখানেই থামছে না। বুধবার ও বৃহস্পতিবার দক্ষিণবঙ্গে রাতের তাপমাত্রা আরও ২ ডিগ্রি পর্যন্ত কমতে পারে। অর্থাৎ কোথাও কোথাও পারদ ৮–৯ ডিগ্রির ঘরে ঢুকে পড়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

এর পরের ৪ থেকে ৫ দিন তাপমাত্রায় খুব একটা বড় পরিবর্তন না হলেও শীত জাঁকিয়ে থাকবে। দিনের বেলাতেও স্বস্তি মিলবে না। দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় ৩ থেকে ৫ ডিগ্রি কম থাকতে পারে বলে জানানো হয়েছে।

‘শীতল দিন’-এর সতর্কতা একাধিক জেলায়

এই ঠান্ডার জেরে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় ‘শীতল দিন’-এর পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। আবহাওয়া দফতরের সংজ্ঞা অনুযায়ী, যখন দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় উল্লেখযোগ্য ভাবে কমে যায়, তখন তাকে ‘শীতল দিন’ বলা হয়।

মঙ্গলবার দুই বর্ধমান, বাঁকুড়া, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ এবং নদিয়ার কিছু অংশে এই পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বুধবার বাঁকুড়া বাদে বাকি জেলাগুলিতেও ‘শীতল দিন’ বজায় থাকতে পারে। বিশেষ করে মুর্শিদাবাদ ও নদিয়ায় ঘন কুয়াশার জন্য আলাদা করে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

উত্তরবঙ্গেও শীতের দাপট কম নয়

দক্ষিণবঙ্গের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গেও আগামী কয়েক দিন শীত ও কুয়াশার দাপট বজায় থাকবে। প্রায় সব জেলাতেই ঘন কুয়াশার সম্ভাবনা রয়েছে। ভোরের দিকে কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা অনেকটাই কমে যেতে পারে।

উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর এবং মালদহে ‘শীতল দিন’-এর পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। পাহাড়ি এলাকা ছাড়াও সমতলের জেলাগুলিতেও ঠান্ডার প্রভাব স্পষ্ট থাকবে।

সাধারণ মানুষের ভোগান্তি, বাড়ছে শীতজনিত সমস্যা

এমন তীব্র ঠান্ডায় সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন শিশু, বৃদ্ধ এবং অসুস্থরা। ভোরের দিকে বাইরে বেরোতে হচ্ছে এমন মানুষদের বাড়তি সতর্কতা নিতে হচ্ছে। হাসপাতালগুলোতেও শীতজনিত অসুস্থতার রোগীর সংখ্যা বাড়ছে বলে খবর।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, খুব প্রয়োজন না হলে ভোর বা গভীর রাতে বাইরে না বেরোনোই ভালো। গরম পোশাক ব্যবহার করা, কুয়াশার সময় গাড়ি চালানোর ক্ষেত্রে বাড়তি সাবধানতা নেওয়াও জরুরি।

শীত কত দিন থাকবে?

সব মিলিয়ে বলা যায়, কলকাতা ও গাঙ্গেয় দক্ষিণবঙ্গে শীতের এই দাপট আরও কয়েক দিন বজায় থাকবে। জানুয়ারির মাঝামাঝিতে এমন ঠান্ডা শহরবাসীর কাছে যেমন চমক, তেমনই একটু ভোগান্তির কারণও হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তবে যারা শীত ভালোবাসেন, তাদের জন্য এ সময়টা নিঃসন্দেহে উপভোগ্য। কুয়াশাভেজা সকাল, ঠান্ডা হাওয়া আর রেকর্ড গড়া পারদপতন—কলকাতার জানুয়ারি এ বার স্মৃতিতে থেকে যাবে অনেক দিন।

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন