জানুয়ারি মাসে পালিত হচ্ছে ‘গ্লুকোমা অ্যাওয়ারনেস মান্থ’, যার মূল উদ্দেশ্য জনসচেতনতা বাড়ানো। চোখের একটি সাধারণ সমস্যা কখনোই ছোট বোঝা ঠিক নয়। গ্লুকোমা এমনই এক রোগ, যা ধীরে ধীরে দৃষ্টি কেড়ে নেয়, কিন্তু শুরুতে রোগী কিছুই বুঝতে পারে না।
গ্লুকোমা কী এবং কীভাবে হয়?
চোখের ভিতরে এক ধরনের তরল বা ফ্লুইড থাকে, যা নিয়মিত প্রবাহিত হয়। এই তরল চলার পথ যদি বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে চোখের ভিতরে চাপ বাড়ে। এই চাপকে বলা হয় ইন্ট্রাঅকুলার প্রেশার। দীর্ঘদিন এই চাপ থাকার ফলে অপটিক নার্ভ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে দৃষ্টি কমতে থাকে এবং শেষ পর্যায়ে অন্ধত্ব দেখা দেয়। একবার দৃষ্টি চলে গেলে তা আর পূর্ণরূপে ফিরে আনা সম্ভব নয়।
ঝুঁকিতে কারা?
গ্লুকোমা যাদের বেশি প্রভাবিত করে, তাদের মধ্যে প্রধানত:
৪০ বছরের বেশি বয়সের মানুষ।
যাদের পরিবারে গ্লুকোমার ইতিহাস রয়েছে।
ডায়াবিটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা মায়োপিয়া থাকলে।
দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া স্টেরয়েড জাতীয় চোখের ড্রপ, ক্রিম বা ইনহেলার ব্যবহার করলে।
চোখে পুরনো আঘাত বা অস্ত্রোপচারের ইতিহাস থাকলে।
অন্ধকার ঘরে দীর্ঘক্ষণ মোবাইল, ল্যাপটপের নীল আলো ব্যবহার করলে।
লক্ষণগুলো চিনে নিন
গ্লুকোমার শুরুতে সঠিক লক্ষণ দেখা দেয় না। তবে কিছু সংকেত আছে যা উপেক্ষা করা উচিত নয়:
পাশের জিনিস দেখার ক্ষমতা বা সাইড ভিশন কমে আসা।
বারবার চশমার পাওয়ার পরিবর্তন।
কম আলোতে কাজ করতে অসুবিধা।
মাঝে মাঝে মাথা ব্যথা বা চোখে যন্ত্রণা।
প্রতিরোধের উপায়
সচেতনতা হলো গ্লুকোমা প্রতিরোধের মূল চাবিকাঠি। বিশেষ কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে:
বছরে অন্তত দু’বার চোখের ডাক্তার দিয়ে পরীক্ষা করান।
ডায়াবিটিস বা পারিবারিক ইতিহাস থাকলে বাড়তি সতর্কতা নেওয়া জরুরি।
চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া চোখে কোনো ড্রপ বা ওষুধ ব্যবহার করবেন না।
মনে রাখবেন: সময়মতো রোগ ধরা পড়লে সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে অন্ধত্বের ঝুঁকি কমানো সম্ভব। চোখের যত্ন নিন, সচেতন থাকুন, এবং নিয়মিত পরীক্ষা করান—কারণ দৃষ্টি হারানো প্রতিরোধযোগ্য।

