Homeবিশ্ব সংবাদমধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ, তেলের দামে আগুন! ট্রাম্প বলছেন সংঘাত দ্রুত শেষ হবে

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ, তেলের দামে আগুন! ট্রাম্প বলছেন সংঘাত দ্রুত শেষ হবে

Share

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা আবারও বিশ্ব রাজনীতিকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এনে দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ খুব শিগগিরই শেষ হতে পারে।

কিন্তু একই সময়ে বিশ্ববাজারে তেলের দাম দ্রুত বাড়ছে, গ্যাসের দাম রেকর্ড ছুঁয়েছে এবং অর্থনৈতিক চাপ বাড়ছে সাধারণ মানুষের ওপর।

এই পরিস্থিতি শুধু সামরিক সংঘাতের বিষয় নয়; এর প্রভাব পড়ছে বৈশ্বিক অর্থনীতি, জ্বালানি বাজার এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতিতেও।

ডোনাল্ড ট্রাম্প এক সংক্ষিপ্ত ফোন আলাপে বলেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শিগগিরই শেষ হয়ে যাবে। তার ভাষায়, যখনই তিনি চান, তখনই এই সংঘাতের সমাপ্তি ঘটতে পারে।

তিনি আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান পরিকল্পনার চেয়েও দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে। তার মতে, নির্ধারিত সময়সূচির তুলনায় অনেক বেশি ক্ষতি ইতোমধ্যে ইরানের সামরিক সক্ষমতার ওপর করা হয়েছে।

ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, যুদ্ধের প্রথম কয়েক সপ্তাহেই এমন সাফল্য এসেছে যা শুরুতে প্রত্যাশা করা হয়নি।

যদিও ট্রাম্প দ্রুত যুদ্ধ শেষ হওয়ার সম্ভাবনার কথা বলছেন, তবু যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে ইরানের ওপর হামলা আরও অন্তত দুই সপ্তাহ চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

এর অর্থ হলো সামরিক চাপ এখনো পুরোপুরি কমছে না। বরং পরিস্থিতি এমন যে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও কিছুদিন স্থায়ী হতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

এই ধরনের সামরিক অভিযান সাধারণত শুধু যুদ্ধক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ থাকে না। এর প্রতিক্রিয়া দেখা যায় বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে।

ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানের ওপর হামলা শুরু হওয়ার পর এখন পর্যন্ত সাতজন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছে। যুদ্ধের মানবিক মূল্য সবসময়ই বড়, এবং এই ঘটনাগুলো সেই বাস্তবতাকেই সামনে নিয়ে আসে।

যুদ্ধ মানেই শুধু অস্ত্রের ব্যবহার নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে পরিবার, সমাজ এবং মানুষের জীবন। একটি যুদ্ধ শুরু করা যত সহজ মনে হয়, তার মানবিক প্রভাব ততটাই গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী হয়।

যুদ্ধের আরেকটি বড় দিক হলো এর অর্থনৈতিক ব্যয়। মাত্র প্রথম দুই দিনেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর প্রায় ৫.৬ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র ব্যবহার করেছে বলে জানা গেছে।

এই পরিমাণ অর্থ কল্পনা করা কঠিন। সহজভাবে ভাবলে বলা যায়, এত অর্থ দিয়ে অনেক দেশের পুরো বছরের উন্নয়ন প্রকল্প চালানো সম্ভব।

সামরিক অভিযান যত দীর্ঘ হয়, অর্থনৈতিক চাপও তত বাড়তে থাকে।

এই সংঘাতের সরাসরি প্রভাব পড়েছে জ্বালানি বাজারে। যুদ্ধ শুরুর আগে যেখানে গ্যাসের দাম ছিল গড়ে প্রতি গ্যালন ২.৯ ডলার, সেখানে এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩.৬ ডলারে।

তেলের দাম এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যা শেষ দেখা গিয়েছিল ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের সময়।

জ্বালানির দাম বাড়লে এর প্রভাব খুব দ্রুত মানুষের দৈনন্দিন জীবনে পৌঁছে যায়। কারণ পরিবহন ব্যয় বাড়লে খাদ্যপণ্য থেকে শুরু করে প্রায় সবকিছুর দাম বেড়ে যায়।

বিশ্ব জ্বালানি বাজারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হলো হরমুজ প্রণালী। পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করা এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল পরিবহন হয়।

যদি এই পথ বন্ধ হয়ে যায় বা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে, তাহলে পুরো বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হয়।

বর্তমান সংঘাতের কারণে এই পথ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।

যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাধ্যমে পাল্টা আঘাত হানছে। এসব হামলা মূলত যুক্তরাষ্ট্র এবং উপসাগরীয় মিত্রদের লক্ষ্য করে করা হচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে সমুদ্রপথে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলিও ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।

সম্প্রতি সৌদি আরবের তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।

এই সপ্তাহে থাইল্যান্ডের পতাকাবাহী একটি মালবাহী জাহাজ, মায়ুরি নারি, অজানা একটি প্রজেক্টাইলের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ওমানের উত্তরে প্রায় ১১ নটিক্যাল মাইল দূরে এই হামলার ঘটনা ঘটে এবং জাহাজে আগুন ধরে যায়।

ওমানের নৌবাহিনী পরে ২০ জন ক্রু সদস্যকে উদ্ধার করলেও তিনজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

পরে ইরান দাবি করেছে যে তারা এই জাহাজে হামলা চালিয়েছে এবং বলেছে যে আমেরিকা ও তাদের মিত্রদের এই পথ দিয়ে চলাচলের অধিকার নেই।

তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (IEA) জরুরি পদক্ষেপ নিয়েছে।

সংস্থাটি জানিয়েছে, সদস্য দেশগুলো তাদের রিজার্ভ থেকে প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল বাজারে ছেড়েছে যাতে দাম কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।

এ ধরনের পদক্ষেপ সাধারণত বড় সংকটের সময়ই নেওয়া হয়।

যুদ্ধ শুধু আন্তর্জাতিক সম্পর্কেই প্রভাব ফেলছে না; এটি যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও চাপ তৈরি করছে।

একটি সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, ট্রাম্পের যুদ্ধ পরিচালনার বিষয়ে অনেক আমেরিকান সন্তুষ্ট নন। তার জনপ্রিয়তার হার নেমে এসেছে ৪৪ শতাংশে।

২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই পরিস্থিতি রিপাবলিকান দলের জন্য উদ্বেগ তৈরি করতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

যখন গ্যাসের দাম বাড়ে, তখন তার প্রভাব অনেক দূর পর্যন্ত পৌঁছায়।

উদাহরণ হিসেবে ধরা যাক, যদি একটি ট্রাক দিয়ে খাদ্যপণ্য এক শহর থেকে আরেক শহরে নিয়ে যেতে বেশি খরচ হয়, তাহলে সেই অতিরিক্ত খরচ শেষ পর্যন্ত ক্রেতাকেই দিতে হয়।

এই কারণে যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব প্রায়ই সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে অনুভূত হয়।

মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত কত দ্রুত শেষ হবে, তা এখনো নিশ্চিতভাবে বলা কঠিন। ট্রাম্প যদিও দ্রুত সমাপ্তির ইঙ্গিত দিয়েছেন, কিন্তু সামরিক প্রস্তুতি ও আন্তর্জাতিক উত্তেজনা দেখে মনে হচ্ছে পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি শান্ত নয়।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, যুদ্ধের ফলাফল শুধু সামরিক শক্তির ওপর নির্ভর করে না; এতে কূটনীতি, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং অর্থনৈতিক বাস্তবতাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

যদি উত্তেজনা কমে এবং আলোচনার পথ খুলে যায়, তাহলে সংঘাতের সমাধান দ্রুত হতে পারে। কিন্তু যদি পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত থাকে, তাহলে বিশ্বকে আরও দীর্ঘ সময় এই সংকটের প্রভাব সহ্য করতে হতে পারে।


Discover more from Jashore Khabor

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

@ এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি। বাইরের কোন সাইটের তথ্যের জন্য যশোর খবর কতৃপক্ষ দায়বদ্ধ নয়।

Table of contents [hide]

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন