Homeবিশ্ব সংবাদট্রাম্পের দাবি বনাম ইরানের অস্বীকার আসলে কী হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যে?

ট্রাম্পের দাবি বনাম ইরানের অস্বীকার আসলে কী হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যে?

Share

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতি যেন থামছেই না। একদিকে যুদ্ধ, অন্যদিকে শান্তির কথা—দুটোই একসাথে চলছে। ঠিক এই অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, তারা ইরান-এর কাছে ১৫ দফা একটি শান্তি প্রস্তাব পাঠিয়েছে। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, শান্তির আলোচনা চলার খবরের মধ্যেই আবার নতুন করে সেনা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে ওয়াশিংটন। ফলে অনেকেই এখন প্রশ্ন তুলছে—এটা কি সত্যিই শান্তির উদ্যোগ, নাকি চাপ তৈরি করার কৌশল?

সরকারিভাবে পুরো প্রস্তাব প্রকাশ করা হয়নি। তবে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্র বলছে, এই প্রস্তাবে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ শর্ত থাকতে পারে। যেমন—

ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বন্ধ করা
পারমাণবিক কার্যক্রম পুরোপুরি থামানো
বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পথ হরমুজ প্রণালী আবার খুলে দেওয়া

শোনা যাচ্ছে, এই প্রস্তাব সরাসরি নয়, বরং পাকিস্তান-এর মাধ্যমে ইরানের কাছে পাঠানো হয়েছে। এমন পদ্ধতি সাধারণত তখনই ব্যবহার করা হয়, যখন দুই দেশের মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক কিছুটা টানাপোড়েনে থাকে।

একটা বিষয় খেয়াল করলে অবাক লাগবে—একদিকে শান্তির কথা, অন্যদিকে সামরিক শক্তি বাড়ানো। পেন্টাগন জানিয়েছে, তারা অন্তত ১০০০ থেকে ৩০০০ ছত্রীসেনা মধ্যপ্রাচ্যে পাঠাচ্ছে।

এই সেনারা আসছে যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত ৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশন থেকে। এই ইউনিটকে সাধারণত খুব দ্রুত যুদ্ধক্ষেত্রে নামানোর জন্যই প্রস্তুত রাখা হয়। উত্তর ক্যারোলিনার ফোর্ট ব্র্যাগ থেকে তাদের পাঠানো হচ্ছে, আর বলা হয়েছে—যে কোনো মুহূর্তে তারা যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকবে।

এখন ভাবতে পারেন, শান্তি আলোচনা চললে আবার এত সেনা কেন? আসলে এটা অনেকটা এমন—কেউ কথা বলছে, কিন্তু হাতেও শক্তি ধরে রাখছে, যেন দরকার হলে ব্যবহার করা যায়।

এই পরিস্থিতিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প বেশ আত্মবিশ্বাসী সুরে কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, ইরানের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা “খুবই ভালো এবং ফলপ্রসূ” হচ্ছে। তার মতে, খুব শিগগিরই এই সংঘাতের “সম্পূর্ণ সমাধান” হতে পারে।

তিনি আরও দাবি করেন, ইরান নাকি একটি চুক্তির জন্য খুবই আগ্রহী, এমনকি তেল-গ্যাস সংক্রান্ত বড় ধরনের সুবিধাও দিয়েছে।

কিন্তু এখানেই আসে বড় মোড়।

ট্রাম্প যেখানে আলোচনার কথা বলছেন, সেখানে ইরান একেবারেই উল্টো কথা বলছে। ইরান সরকার স্পষ্ট জানিয়েছে—এ ধরনের কোনো আলোচনা হয়নি, সবই “ভুয়া খবর”।

এই অবস্থায় বোঝাই যাচ্ছে, দুই পক্ষের বক্তব্যে বড় ধরনের ফারাক রয়েছে। আর এই ফারাকই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

এই পুরো উত্তেজনার শুরু হয় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি। তখন ইরান ও ইসরায়েল-এর মধ্যে সরাসরি সংঘর্ষ শুরু হয়।

পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল যৌথভাবে “অপারেশন এপিক ফিউরি” চালায়, যার লক্ষ্য ছিল ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা। বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং ট্রাম্পের নেতৃত্বে এই অভিযান শুরু হয়।

এরপর থেকে পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যেতে থাকে।

যুদ্ধের প্রতিক্রিয়ায় ইরান একটি বড় সিদ্ধান্ত নেয়—তারা হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ করে দেয়।

এটা কেন এত গুরুত্বপূর্ণ? সহজভাবে বললে, বিশ্বের বড় একটা অংশের তেল এই পথ দিয়ে যায়। ফলে এই পথ বন্ধ মানেই—

তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে যাওয়া
বিশ্ব অর্থনীতিতে অস্থিরতা
অনেক দেশের জ্বালানি সংকট

আপনি যেমন হঠাৎ বাজারে চাল-ডালের দাম বেড়ে গেলে টেনশন করেন, ঠিক তেমনি পুরো পৃথিবী এখন তেলের দাম নিয়ে চিন্তায় আছে।

এই এক মাসের মধ্যেই সংঘাতে কয়েক হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। শুধু সৈন্য নয়, সাধারণ মানুষও এর শিকার হচ্ছে।

যুদ্ধ মানে শুধু রাজনীতি না—এটা মানুষের জীবন, পরিবার, ভবিষ্যৎ—সবকিছুকে প্রভাবিত করে।

এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—এই পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে থামবে?

একদিকে শান্তি প্রস্তাব, অন্যদিকে সেনা মোতায়েন—দুটোই একসাথে চলছে। এর মানে হতে পারে—

চাপ দিয়ে ইরানকে চুক্তিতে আনতে চাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
অথবা পরিস্থিতি যেকোনো সময় আরও খারাপ হতে পারে

সবকিছু এখন নির্ভর করছে—ইরান কী সিদ্ধান্ত নেয় এবং দুই পক্ষ কতটা নমনীয় হতে পারে।

পুরো বিষয়টা অনেকটা এমন—দুই পক্ষই নিজেদের অবস্থান শক্ত করে ধরে আছে, কিন্তু বাইরে থেকে শান্তির কথা বলছে। এটা ঠিক যেন ঝগড়ার মাঝেও কেউ বলছে, “চল মিটমাট করি,” কিন্তু ভিতরে ভিতরে প্রস্তুতি নিচ্ছে।

এখন দেখা যাক, এই ১৫ দফা প্রস্তাব সত্যিই শান্তির দরজা খুলে দেয়, নাকি নতুন করে উত্তেজনা বাড়ায়।


Discover more from Jashore Khabor

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

@ এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি। বাইরের কোন সাইটের তথ্যের জন্য যশোর খবর কতৃপক্ষ দায়বদ্ধ নয়।

Table of contents [hide]

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন