প্রেমের অভিনয়, ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের গোপন ভিডিও আর সেই ভিডিওকে হাতিয়ার করে ভয়ংকর ব্ল্যাকমেল—এমনই এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগে গ্রেপ্তার হলেন বাংলার এক তরুণী। শুধু তিনিই নন, এই ঘটনায় তাঁর এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুকেও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গোটা ঘটনাটি সামনে আসতেই তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
অভিযোগ, এক আইনজীবীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে শারীরিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন ওই তরুণী। পরে সেই ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ভিডিও রেকর্ড করে শুরু হয় লাগাতার ব্ল্যাকমেল। দাবি করা হয় ৪০ লক্ষ টাকা। টাকা না দিলে ভিডিও ভাইরাল করা এবং মিথ্যা ধর্ষণের মামলায় ফাঁসানোর হুমকিও দেওয়া হয়।
অভিযুক্ত তরুণীর পরিচয়: দিল্লিতে থাকলেও শিকড় বাংলায়
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত তরুণীর নাম প্রিয়াঙ্কা। তিনি বাংলার বাসিন্দা হলেও বর্তমানে দিল্লিতে থাকতেন। কয়েক মাস আগে রাজস্থানের বারমের জেলার এক আইনজীবীর সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। পরিচয়ের পর থেকেই ধীরে ধীরে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হয়।
আইনজীবীর অভিযোগ, প্রথমে প্রেমের অভিনয় করে বিশ্বাস অর্জন করেন প্রিয়াঙ্কা। এরপর সুযোগ বুঝে একাধিকবার ঘনিষ্ঠ মুহূর্ত কাটানো হয়। সেই সময়েই গোপনে ভিডিও রেকর্ড করা হয় বলে অভিযোগ।
ঘনিষ্ঠ ভিডিওই অস্ত্র, শুরু ভয় দেখানো
আইনজীবীর দাবি, একদিন সেই ভিডিও দেখিয়ে তাঁকে ভয় দেখানো শুরু হয়। বলা হয়, টাকা না দিলে ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়া হবে। এখানেই শেষ নয়, আরও ভয়ংকর হুমকি দেওয়া হয়—মিথ্যা ধর্ষণের মামলায় ফাঁসানোর কথাও বলা হয়।
এই চাপের মুখে প্রথমে প্রিয়াঙ্কার পরিচিত এক যুবকের মাধ্যমে টাকা দিতে বাধ্য হন ওই আইনজীবী। অভিযুক্ত যুবকের নাম কমল সিং, যিনি রাজস্থানের বারমের এলাকার বাসিন্দা।
৫০ হাজার দিয়েও রেহাই মেলেনি
অভিযোগ অনুযায়ী, আইনজীবী প্রথম দফায় ৫০ হাজার টাকা দেন। কিন্তু তাতেও থেমে থাকেনি ব্ল্যাকমেল। বারবার আরও টাকার দাবি আসতে থাকে। মোট ৪০ লক্ষ টাকা না দিলে ভয়াবহ পরিণতির হুমকি দেওয়া হয়।
ক্রমশ মানসিক চাপে ভেঙে পড়েন ওই আইনজীবী। শেষ পর্যন্ত আর সহ্য না করে থানার দ্বারস্থ হন তিনি। পুরো ঘটনা লিখিত অভিযোগ আকারে জানান পুলিশের কাছে।
পুলিশি তদন্ত ও গ্রেপ্তার
অভিযোগ পাওয়ার পরই তদন্তে নামে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তেই অভিযোগের সত্যতা মিলতে শুরু করে বলে জানা গিয়েছে। এরপর প্রিয়াঙ্কাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে কমল সিং নামের ওই যুবককেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ অভিযুক্তদের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা বাজেয়াপ্ত করেছে। তদন্তকারীরা জানাচ্ছেন, ভুক্তভোগীর কাছ থেকে মোট কত টাকা আদায় করা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি ভিডিওটি কীভাবে রেকর্ড করা হয়েছিল এবং এই চক্রে আরও কেউ জড়িত কি না, সেটাও তদন্তের আওতায়।
হেফাজতে অভিযুক্ত, চলছে জেরা
ঘটনার গুরুত্ব বুঝে তদন্তের স্বার্থে প্রিয়াঙ্কাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাঁকে জেরা করে পুরো নেটওয়ার্ক সম্পর্কে জানার চেষ্টা চলছে। পুলিশ মনে করছে, এটি কোনও একক ঘটনা নাও হতে পারে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ডিজিটাল প্রমাণ, মোবাইল ফোন এবং আর্থিক লেনদেনের তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সব দিক খোলাসা না হওয়া পর্যন্ত তদন্ত চলবে।
শেষ কথা: বিশ্বাসই হয়ে উঠল দুর্বলতা
এই ঘটনায় আবারও উঠে এল এক কঠিন বাস্তবতা—অন্ধ বিশ্বাস কতটা ভয়ংকর হতে পারে। প্রেমের নামে প্রতারণা, ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের অপব্যবহার আর ব্ল্যাকমেলের মতো অপরাধ যে কতটা ভয়াবহ রূপ নিতে পারে, তারই উদাহরণ এই ঘটনা।
পুলিশের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ব্যক্তিগত মুহূর্তে সচেতন থাকা, অপরিচিত বা অল্প পরিচিত কারও উপর অতিরিক্ত ভরসা না করার কথাও বলা হয়েছে। কারণ একবার ভুল হলে, তার মূল্য দিতে হয় অনেক বড়ভাবে।
Discover more from Jashore Khabor
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
