লন্ডন কি আবার দেখবে ডিউক অ্যান্ড ডাচেস অফ সাসেক্সকে? এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে ব্রিটিশ রাজপরিবার থেকে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম পর্যন্ত। চার বছর পর ফের ব্রিটেনে ফিরতে চান প্রিন্স হ্যারি ও মেগান মার্কেল। তবে রাজকীয় এই প্রত্যাবর্তনের পথে বড় গেরো হয়ে দাঁড়িয়েছে সুরক্ষা ইস্যু। অনুমতি না মিললে লন্ডনে পা রাখাই সম্ভব নয় হ্যারি-মেগানের।
শেষবার ২০২২ সালে তাঁরা লন্ডনে গিয়েছিলেন ব্রিটেনের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের শেষকৃত্যে। তারপর কেটে গেছে চারটি বছর। এই দীর্ঘ সময়ে রাজপরিবারের সঙ্গে দূরত্ব যেমন বেড়েছে, তেমনই বেড়েছে নিরাপত্তা সংক্রান্ত জটিলতাও।
চার বছর পর লন্ডনে ফেরার ইচ্ছা কেন হ্যারি-মেগানের
খবর অনুযায়ী, আগামী জুলাই মাসে একটি আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংক্রান্ত অনুষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্রিটেনে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে হ্যারি ও মেগানের। অনুষ্ঠানটি হওয়ার কথা বার্মিংহামে। সবকিছু ঠিক থাকলে সেখানেই হাজির থাকার কথা ডিউক অ্যান্ড ডাচেস অফ সাসেক্সের।
এই সফর শুধুই একটি ইভেন্টে যোগ দেওয়া নয়। অনেকের মতে, এটি হতে পারে তাঁদের ব্রিটেনে ফেরার প্রথম বড় পদক্ষেপ। যদিও এই সফর রাজপরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক জোড়া লাগানোর জন্য কিনা, তা নিয়ে স্পষ্ট কিছু বলা হয়নি।
রাজপরিবার ছাড়ার পর থেকেই শুরু সুরক্ষা বিতর্ক
মেগানকে বিয়ের পর থেকেই প্রিন্স হ্যারির জীবনে একের পর এক পরিবর্তন এসেছে। পারিবারিক দ্বন্দ্ব, মিডিয়ার চাপ আর ব্যক্তিগত ক্ষোভের জেরে তিনি বাকিংহাম প্যালেস ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন। রাজকীয় দায়িত্ব ও উপাধি ছেড়ে স্ত্রী মেগানকে নিয়ে পাড়ি জমান আমেরিকায়।
ক্যালিফোর্নিয়ায় সাধারণ মানুষের মতো জীবন শুরু করলেও একটি বিষয়ে কোনও আপস করেননি হ্যারি-মেগান। সেটি হল নিরাপত্তা। তাঁদের তিন সন্তানের জন্মও হয়েছে আমেরিকাতেই। ফলে পরিবার নিয়ে ঝুঁকি নিতে রাজি নন প্রিন্স হ্যারি।
“ব্রিটেনে নিজেকে নিরাপদ মনে করি না”—হ্যারির মন্তব্যই কি কাল?
হ্যারি-মেগানের ব্রিটেন সফর নিয়ে এত টানাপোড়েনের মূল কারণ একটি মন্তব্য। একদা ঘনিষ্ঠ মহলে প্রিন্স হ্যারি স্পষ্টভাবে বলেছিলেন, পরিবার ও সন্তানদের নিয়ে তিনি ব্রিটেনে নিজেকে নিরাপদ মনে করেন না।
এই মন্তব্য রাজপরিবার ও প্রশাসনের অন্দরে বেশ আলোড়ন ফেলেছিল। কারণ, রাজপরিবারের একজন সদস্য নিজ দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে এমন প্রশ্ন তুলছেন—এটা খুব স্বাভাবিক বিষয় নয়।
এই মন্তব্যের পর থেকেই হ্যারির সুরক্ষা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া আরও জটিল হয়ে ওঠে।
RAVEC কী এবং কেন এত গুরুত্বপূর্ণ
হ্যারি-মেগানের লন্ডন সফরের ভবিষ্যৎ এখন পুরোপুরি নির্ভর করছে একটি কমিটির সিদ্ধান্তের উপর। এই কমিটির নাম RAVEC।
RAVEC-এর পুরো নাম এক্সিকিউটিভ কমিটি ফর প্রোটেকশন অফ রয়্যালটি অ্যান্ড পাবলিক ফিগারস। নাম যত কঠিন, দায়িত্ব ততটাই গুরুতর। ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য এবং গুরুত্বপূর্ণ জনব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এই কমিটির মূল কাজ।
এই কমিটিতে থাকেন উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিক, নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ এবং রাজপরিবারের প্রতিনিধিরা। কোনও রাজকীয় সফর, অনুষ্ঠান বা বিদেশযাত্রার আগে খুঁটিয়ে দেখা হয় সম্ভাব্য ঝুঁকি।
কেন RAVEC অনুমতি না দিলে লন্ডনে যাওয়া অসম্ভব
ব্রিটেনে রাজপরিবারের কোনও সদস্যের নিরাপত্তা ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের বিষয় নয়। সবকিছুই নির্ভর করে RAVEC-এর মূল্যায়নের উপর। যদি সামান্য ঝুঁকিও থাকে, তাহলে সফর বাতিল করতে এক মুহূর্তও দেরি করে না এই কমিটি।
এই কারণেই হ্যারি-মেগানের লন্ডন সফর এখন ঝুলে রয়েছে। RAVEC যদি অনুমতি না দেয়, তাহলে শুধু অনুষ্ঠানেই নয়, এমনকি বাকিংহাম প্যালেসে ঢোকার সুযোগও পাবেন না তাঁরা।
আমেরিকায় হ্যারি-মেগানের সুরক্ষা ব্যবস্থা কেমন
আমেরিকায় বসবাস করলেও নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনও ছাড় দেননি হ্যারি-মেগান। সেখানে তাঁদের জন্য মোতায়েন করা হয়েছে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এই সুরক্ষার জন্য নিয়মমাফিক করও দেন তাঁরা।
এই ব্যবস্থার ফলে ক্যালিফোর্নিয়ায় তাঁদের চলাফেরা তুলনামূলকভাবে নিরাপদ। কিন্তু ব্রিটেনে এলে সেই একই স্তরের নিরাপত্তা দেওয়া সম্ভব কি না, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।
রাজকীয় প্রত্যাবর্তন নাকি শুধুই আনুষ্ঠানিক সফর
অনেকেই মনে করছেন, এই সফর শুধুই একটি ক্রীড়া অনুষ্ঠানের প্রচার নয়। বরং এটি হতে পারে হ্যারি-মেগানের রাজকীয় জীবনে ফেরার এক নীরব চেষ্টা।
যদিও বাস্তবতা বলছে, সম্পর্কের বরফ এখনও পুরোপুরি গলেনি। রাজপরিবারের সঙ্গে দূরত্ব, অতীতের ক্ষত আর নিরাপত্তা বিতর্ক—সব মিলিয়ে পথ এখনও বেশ কঠিন।
শেষবার কবে ব্রিটেনে গিয়েছিলেন হ্যারি-মেগান
২০২২ সালে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের শেষকৃত্যে লন্ডনে গিয়েছিলেন হ্যারি ও মেগান। সেই সময় আবেগ, শোক আর রাজকীয় আনুষ্ঠানিকতায় ভরা ছিল তাঁদের সফর।
তারপর কেটে গেছে চারটি বছর। এই চার বছরে বদলেছে অনেক কিছু। বদলেছে রাজপরিবারের অভ্যন্তরীণ সমীকরণ, বদলেছে হ্যারি-মেগানের জীবনধারা, বদলেছে তাঁদের অবস্থানও।
তাহলে কি জুলাইতেই দেখা যাবে তাঁদের
সবকিছু এখন নির্ভর করছে RAVEC-এর সিদ্ধান্তের উপর। যদি সুরক্ষা সংক্রান্ত সবুজ সংকেত মেলে, তাহলে জুলাই মাসে বার্মিংহামে দেখা যেতে পারে ডিউক অ্যান্ড ডাচেস অফ সাসেক্সকে।
আর যদি অনুমতি না মেলে, তাহলে আরও একবার ভেস্তে যাবে হ্যারি-মেগানের লন্ডন ফেরা।
Discover more from Jashore Khabor
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

