Homeভিডিওআমার স্ত্রীর মুখটা শেষবার দেখতে দিলেন না : জাহের আলভীর বিস্ফোরক ভিডিও...

আমার স্ত্রীর মুখটা শেষবার দেখতে দিলেন না : জাহের আলভীর বিস্ফোরক ভিডিও বার্তা

Share

বাংলাদেশের বিনোদন অঙ্গনে সাম্প্রতিক সময়ে আলোচিত ও হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা হলো অভিনেতা জাহের আলভীর স্ত্রী আফরা ইবনাত খান ইকরার মৃত্যু। এই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, সংবাদমাধ্যম এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছে অসংখ্য প্রশ্ন, সন্দেহ ও সমালোচনা। দীর্ঘ নীরবতার পর অবশেষে একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে নিজের অবস্থান, অনুভূতি এবং অভিযোগ তুলে ধরলেন জাহের আলভী। তার বক্তব্যে উঠে এসেছে নিরাপত্তা হুমকি, পারিবারিক টানাপোড়েন, দেশে ফিরতে না পারার কারণ এবং স্ত্রীর শেষ দেখা না পাওয়ার তীব্র বেদনা।

সোমবার রাত সাড়ে আটটার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও বার্তায় জাহের আলভী জানান, তাকে নিয়ে মানুষের মনে জমে থাকা প্রশ্নগুলোর উত্তর দেওয়াই তার মূল উদ্দেশ্য। বিশেষ করে একটি প্রশ্ন তাকে সবচেয়ে বেশি কুরে কুরে খাচ্ছিল—স্ত্রীর মৃত্যুর পর কেন তিনি শেষবারের মতো তার মুখ দেখতে এলেন না। এই প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে আলভী সরাসরি বলেন, পরিস্থিতি কখনোই তার নিয়ন্ত্রণে ছিল না।

তার ভাষায়, দেশে ফিরলেই তার ওপর হামলা হতে পারে—এমন তথ্য ও হুমকি তিনি নিয়মিত পাচ্ছিলেন। ফলে নিজের জীবন ঝুঁকিতে ফেলে দেশে ফেরা তার পক্ষে সম্ভব হয়নি।

ভিডিও বার্তায় জাহের আলভী দাবি করেন, তার ফোনে প্রতিনিয়ত হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। শুধু কথার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না সেই হুমকি। তিনি জানান, তার কাছে এমন তথ্য ছিল যে, বিমানবন্দরে আগে থেকেই লোকজন প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তিনি সেখানে পৌঁছানো মাত্রই তার ওপর হামলা চালানো হতে পারে।

এই বাস্তবতায় তিনি প্রশ্ন রাখেন, একজন মানুষ যদি জানেন যে দেশে ফিরলেই তার জীবন বিপন্ন হবে, তাহলে তিনি কীভাবে সাহস করে সেই পথে এগোবেন? তার মতে, পরিস্থিতি এমন ছিল যে দেশে ফেরা মানেই নিজের জীবনকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দেওয়া।

জাহের আলভীর বক্তব্যের সবচেয়ে আবেগঘন অংশ ছিল স্ত্রীর শেষ দেখা নিয়ে তার আক্ষেপ। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, তিনি চাইলেও শেষবারের মতো ইকরার মুখ দেখতে পারেননি। তার দাবি, ইকরার পরিবার তাকে সেই সুযোগ দেয়নি।

এই বক্তব্যে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হলেও আলভীর কণ্ঠে ছিল অসহায়ত্ব আর বেদনা। একজন স্বামী হিসেবে স্ত্রীর শেষ মুখটা না দেখতে পারার যন্ত্রণা যে কতটা গভীর হতে পারে, তা তার কথায় স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে।

ইকরার মৃত্যুর সময় জাহের আলভী নেপালে অবস্থান করছিলেন। এ নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রশ্ন উঠেছে। ভিডিও বার্তায় তিনি জানান, ঘটনার দিনই তিনি দেশে ফেরার সর্বাত্মক চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু সেদিন বাংলাদেশে ফেরার কোনো সরাসরি ফ্লাইট ছিল না।

ট্রানজিট ফ্লাইটের জটিলতা, টিকিট সংকট এবং সময়ের সীমাবদ্ধতার কারণে সেদিন তার পক্ষে দেশে ফেরা সম্ভব হয়নি। পরদিন যখন তিনি ইমিগ্রেশন পার হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখনই জানতে পারেন বিমানবন্দরে ঢুকলেই তার ওপর হামলা হতে পারে। নিজের নিরাপত্তার কথা ভেবেই তিনি তখন সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন।

স্ত্রী ইকরার সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন জাহের আলভী। তিনি জানান, সম্পর্কের শুরু থেকেই ইকরা ছিলেন অত্যন্ত সন্দেহপ্রবণ। এই সন্দেহ থেকেই তাদের দাম্পত্য জীবনে তৈরি হয়েছিল বিষাক্ত পরিবেশ।

তার ভাষায়, এই সমস্যাগুলো নতুন কোনো সম্পর্কের কারণে তৈরি হয়নি। বরং অনেক আগেই ইকরা তার কাছে ডিভোর্স চেয়েছিলেন। কিন্তু আলভী তখনও সম্পর্কটা টিকিয়ে রাখতে চেয়েছিলেন এবং বিচ্ছেদে রাজি হননি।

ইকরার আত্মহত্যার ঘটনায় জাহের আলভীর বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ উঠেছে, সেগুলো তিনি স্পষ্টভাবে অস্বীকার করেন। তার দাবি, তিনি কখনোই ইকরাকে আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দেননি।

তিনি বলেন, ইকরার কিছু ব্যক্তিগত বদ-অভ্যাস ছিল এবং তিনি মানসিকভাবে সহজেই ট্রিগার হয়ে যেতেন। তবে সেই ট্রিগারের পেছনে তিনি নিজে দায়ী নন। বরং তাদের কমন সার্কেলের কিছু বন্ধু ও পরিচিত মানুষ দিনের পর দিন নানা কথা বলে ইকরাকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলেছিল বলে তার অভিযোগ।

ইকরার মৃত্যুর পর তার পরিবার রাজধানীর পল্লবী থানায় জাহের আলভীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে। এই মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে। একদিকে আইনগত প্রক্রিয়া, অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিচারে আলভী নিজেকে এক কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে আবিষ্কার করছেন বলে জানান।

তার বক্তব্যে বারবার উঠে এসেছে একটি বিষয়—তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়েই সমাজ তাকে দোষী সাব্যস্ত করে ফেলেছে। এই মানসিক চাপ ও নিরাপত্তাহীনতাই তাকে দেশে ফিরতে বাধা দিয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মিরপুর ডিওএইচএসে নিজ বাসায় গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন আফরা ইবনাত খান ইকরা। ময়নাতদন্ত শেষে তাকে ময়মনসিংহের ভালুকায় গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হয়। জানাজা ও দাফনের সময় জাহের আলভীর অনুপস্থিতি নিয়ে যে প্রশ্ন ও সমালোচনা তৈরি হয়েছিল, এই ভিডিও বার্তায় তার জবাব দেওয়ার চেষ্টা করেছেন তিনি।

জাহের আলভীর ভিডিও বার্তা স্পষ্ট করে দিয়েছে, এই ঘটনাটি শুধু একটি পারিবারিক ট্র্যাজেডি নয়, বরং এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে নিরাপত্তা, সামাজিক চাপ, সম্পর্কের জটিলতা এবং মানসিক স্বাস্থ্যের মতো সংবেদনশীল বিষয়। সত্য উদঘাটনের দায়িত্ব এখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিচার ব্যবস্থার ওপর। তবে একজন স্বামী হিসেবে স্ত্রীর শেষ মুখ না দেখতে পারার যন্ত্রণা যে আজীবন তাকে তাড়া করবে, তা তার বক্তব্যেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।


Discover more from Jashore Khabor

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

@ এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি। বাইরের কোন সাইটের তথ্যের জন্য যশোর খবর কতৃপক্ষ দায়বদ্ধ নয়।

Table of contents [hide]

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন