Homeস্পোটস ওয়ার্ল্ডফুটবল৭-০ ইস্টবেঙ্গলের গোলবন্যায় ভেসে গেল মহামেডান: অবিশ্বাস্য ম্যাচ হাইলাইটস

৭-০ ইস্টবেঙ্গলের গোলবন্যায় ভেসে গেল মহামেডান: অবিশ্বাস্য ম্যাচ হাইলাইটস

Share

ইন্ডিয়ান সুপার লিগ (আইএসএল)-এর মঞ্চে এক কথায় ঝড় তুলে দিল ইস্টবেঙ্গল। এমন একটা ম্যাচ, যেটা শুধু জয় নয়—একেবারে ইতিহাস হয়ে গেল। মহামেডানকে ৭-০ গোলে হারিয়ে লাল-হলুদ শিবির দেখিয়ে দিল, তারা এবার শিরোপার লড়াইয়ে সত্যিই সিরিয়াস।

ম্যাচের সারাংশ: গোলের বন্যায় ভেসে গেল মহামেডান

এই ম্যাচটা শুরু থেকেই ছিল একপেশে। ইস্টবেঙ্গল মাঠে নামার পর থেকেই বোঝা যাচ্ছিল, তারা আজ থামবে না। একের পর এক আক্রমণ, আর তার ফল—গোলের পর গোল।

স্কোরলাইনটা দেখলেই বোঝা যায় কতটা দাপট ছিল:
ইস্টবেঙ্গল ৭ – ০ মহামেডান

দলটির হয়ে দুইটি করে গোল করেছেন ইউসেফ এজেজারি ও আনোয়ার আলি। এছাড়া একটি করে গোল করেছেন সল ক্রেসপো, পিভি বিষ্ণু এবং নন্দকুমার।

শুরুতেই ধাক্কা: গোলকিপারের ভুলে এগিয়ে ইস্টবেঙ্গল

ম্যাচের মাত্র ৬ মিনিটেই প্রথম গোল। আনোয়ার আলির দূরপাল্লার শটটা খুব একটা কঠিন ছিল না। কিন্তু মহামেডানের গোলকিপার পদম ছেত্রী সেটি সামলাতে ব্যর্থ হন। বল হাতের নিচ দিয়ে জালে ঢুকে যায়।

এই একটা ভুলই যেন পুরো ম্যাচের চিত্র বদলে দেয়। এরপর মহামেডান আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি।

পেনাল্টি থেকে গোল: ইউসেফ ও ক্রেসপোর দাপট

১৪ মিনিটে ইস্টবেঙ্গল পায় প্রথম পেনাল্টি। ইউসেফ সেটি ঠান্ডা মাথায় জালে জড়িয়ে দেন। এরপর ৩৮ মিনিটে আরেকটি বড় ঘটনা ঘটে—মহামেডানের জোসেফ লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। ফলে দলটি ১০ জনে নেমে আসে।

এই সুযোগে ইস্টবেঙ্গল আরেকটি পেনাল্টি পায়, এবং এবার গোল করেন সল ক্রেসপো। প্রথমার্ধ শেষ হয় ৩-০ ব্যবধানে।

দ্বিতীয়ার্ধে আরও ভয়ঙ্কর ইস্টবেঙ্গল

দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচটা যেন পুরোপুরি একতরফা হয়ে যায়। ৫৫ মিনিটে আবার পেনাল্টি থেকে গোল করেন ইউসেফ। এক ম্যাচেই পেনাল্টি থেকে একাধিক গোল—এটাও বিরল ঘটনা।

তারপর শুরু হয় ওপেন প্লে থেকে গোলের ধারা।

৭৫ মিনিটে পিভি বিষ্ণু গোল করেন। ৭৯ মিনিটে আনোয়ার আবার জালে বল পাঠান। শেষ মুহূর্তে নন্দকুমার গোল করে স্কোরলাইন ৭-০ করেন।

ইতিহাসের পাতায় নাম লেখাল ইস্টবেঙ্গল

এই জয় শুধু বড় জয় নয়, এটা ইস্টবেঙ্গলের আইএসএল ইতিহাসে সবচেয়ে বড় জয়। এর আগে তারা ৫-০ ব্যবধানে জিতেছিল, কিন্তু এবার সেই রেকর্ড ভেঙে দিল।

একই সঙ্গে আইএসএলের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ব্যবধানে জয়ের রেকর্ডও ছুঁয়ে ফেলেছে দলটি।

কৌশলগত দিক: অস্কার ব্রুজোর মাস্টারস্ট্রোক

কোচ অস্কার ব্রুজো এই ম্যাচে দারুণ কৌশল নিয়েছিলেন। আক্রমণে ইউসেফের সঙ্গে এডমুন্ডকে রাখা, মাঝমাঠে মিগুয়েল ও বিষ্ণুর নিয়ন্ত্রণ—সবকিছু মিলিয়ে দলটি ছিল ব্যালান্সড।

অন্যদিকে মহামেডান ছিল একেবারে দুর্বল। বিদেশি খেলোয়াড় না থাকা, রক্ষণভাগে দুর্বলতা—সব মিলিয়ে তারা চাপ সামলাতে পারেনি।

পরিসংখ্যান বলছে ইস্টবেঙ্গলের আধিপত্য

পুরো ম্যাচে ইস্টবেঙ্গল পেয়েছে প্রায় ২০টি কর্নার। গোলের দিকে আক্রমণের সংখ্যাও ছিল ১৬টির মতো।

এটা ভাবলে অবাক লাগে—স্কোরলাইন আরও বড় হতে পারত!

কিছু চিন্তার জায়গাও আছে

যদিও জয়টা বিশাল, তবুও কিছু জায়গায় উন্নতির সুযোগ আছে। কয়েকটি সহজ সুযোগ মিস করেছে ইউসেফ ও এডমুন্ড।

এই ধরনের ভুল যদি বড় ম্যাচে হয়, তাহলে সমস্যা হতে পারে। কারণ সব দল মহামেডানের মতো দুর্বল হবে না।

শিরোপার দৌড়ে নতুন সমীকরণ

এই জয়ের ফলে ইস্টবেঙ্গল এখন পয়েন্ট টেবিলে শক্ত অবস্থানে। ৬ ম্যাচে ১১ পয়েন্ট নিয়ে তারা এখন শিরোপার লড়াইয়ে বেশ ভালো জায়গায় আছে।

আত্মবিশ্বাস বেড়েছে, দলও ছন্দে আছে। তবে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো—এই ফর্ম ধরে রাখা।

শেষ কথা: আত্মবিশ্বাস যেন অতিরিক্ত না হয়

এই ম্যাচের জয় ইস্টবেঙ্গলকে অনেক আত্মবিশ্বাস দেবে, এটা স্বাভাবিক। কিন্তু অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস কখনও কখনও বিপদ ডেকে আনে।

আগামী ম্যাচগুলোই আসল পরীক্ষা। সেখানে যদি একই ধারাবাহিকতা বজায় রাখা যায়, তাহলে শিরোপা খুব একটা দূরে থাকবে না।

এক কথায় বললে, এই ম্যাচটা শুধু জয় নয়—একটা বার্তা। ইস্টবেঙ্গল বলছে, “আমরা প্রস্তুত।”


Discover more from Jashore Khabor

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

@ এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি। বাইরের কোন সাইটের তথ্যের জন্য যশোর খবর কতৃপক্ষ দায়বদ্ধ নয়।

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন