ঘুস লেনদেনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) হাতে আটক যশোর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুল আলমকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার যশোরের ভারপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ এম. এম. মোর্শেদ এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে উদ্ধারকৃত এক লাখ ২০ হাজার টাকা ট্রেজারিতে জমা দেওয়ার নির্দেশ
দেন তিনি।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের পিপি সিরাজুল ইসলাম। এর আগে বুধবার বিকেলে নিজ কার্যালয় থেকে এক লাখ ২০ হাজার টাকাসহ আশরাফুল আলমকে আটক করে দুদক।
দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক যশোর সমন্বিত জেলা কার্যালয় সূত্র জানায়, ‘ট্র্যাপ অভিযানের’ ফাঁদ পেতে বুধবার বিকেলে দুদক যশোর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের একটি দল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে অভিযান পরিচালনা করে। দুদক যশোরের উপ-পরিচালক মো. সালাউদ্দিন ও সহকারী পরিচালক মো. আল আমিনের নেতৃত্বে দীর্ঘদিনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে এই ফাঁদ পাতা হয়।
সূত্র জানায়, গত তিনমাস ধরে অভিযোগকারী বসুন্দিয়া খানপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোহাম্মদ নুরুন্নবী দীর্ঘদিন ধরে তার প্রয়াত স্ত্রী শিরিনা আক্তারের পেনশন সংক্রান্ত ফাইল
ছাড় করানোর জন্য জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুল আলমের কাছে ধর্ণা দিচ্ছিলেন। কিন্তু ওই কর্মকর্তা নানা অজুহাতে তাকে ঘুরাতে থাকেন। একপর্যায়ে প্রথম দফায় ৮০ হাজার টাকা ঘুস নেওয়ার পর আবারও টাকা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে পেনশনের অর্থ ছাড় করা হবে না বলে হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এমনকি খুলনা বিভাগীয় এক কর্মকর্তার যোগসাজশে তার স্ত্রীর বেতন কাঠামো (বেসিক) কমিয়ে দেওয়া হয় বলেও তিনি অভিযোগ করেন। এক পর্যায়ে নুরুন্নবী দুদক কার্যালয়ের দ্বারস্থ হন। দুদক তার অভিযোগ বিবেচনায় নিয়ে ‘ট্র্যাপ অভিযানের’ প্রস্তুতি নেয়। দুদক কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের অনুমোদনের পর বুধবার অভিযানের প্রস্তুতি নেওয়া হয়। অভিযানের অংশ হিসেবে বুধবার বিকেলে ফাইল ছাড় করানোর কথা
বলে আশরাফুল আলমের হাতে আরও ১ লাখ ২০ হাজার টাকা তুলে দেওয়া হয়। এ সময় দুদক সেখানে অভিযান চালিয়ে তাকে হাতেনাতে আটক করে। এদিকে, তার আটকের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সকালে যশোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন প্রাথমিক শিক্ষকেরা।
তারা দাবি করেন, দুদকের অভিযানের কিছু সময় আগে আশরাফুল আলম বাথরুমে গেলে সেই সুযোগে একটি পক্ষ তার টেবিলে টাকা রেখে যায়। পরবর্তীতে ‘হাতেনাতে আটক’ দেখিয়ে একটি নাটক সাজানো হয়েছে বলে দাবি করেন তারা। একই প্রতিবাদে বুধবার রাতেও এসব শিক্ষকেরা দুদকের কার্যালয়ে অবস্থান নেন।
Discover more from Jashore Khabor
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

