যশোর শহরের ফাতেমা হাসপাতালের সামনে বিরোধপূর্ণ জমিতে ভবন নির্মাণ নিয়ে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। জমি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান থাকায় নির্মাণকাজে বাধা দিতে গেলে এই উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় একটি পক্ষ থাকায় যশোর কোতোয়ালি মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেছে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয়পক্ষকে শান্তিপূর্ণ অবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছে।
যশোর কোতোয়ালি মডেল থানায় লিখিত অভিযোগে শহরের পুরাতন কসবা ফাতেমা হাসপাতাল এলাকার বাসিন্দা বদরুল কালামের ছেলে মোস্তফা কামাল দিপু জানান, শহরের পুরাতন কসবা মৌজায় ফাতেমা হাসপাতালের সামনে বিরোধপূর্ণ ১৩ দশমিক ৭৩ শতক জমি রয়েছে।
জমিটি তাদের ভোগদখলে থাকলেও মালিকানা নিয়ে তার ফুফু বেগম শামসুন্নাহারের সাথে মামলা চলমান রয়েছে। এই বিরোধপূর্ণ জমি থেকে ১০ শতক ক্রয় করে রেজিস্ট্রি করে নেন একই এলাকার বাসিন্দা জিকেএম কামরুজ্জামান। এখন তিনি পুরো জমিতেই ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করেছেন।
মোস্তফা কামাল দিপু অভিযোগ করেন, এর আগে গত বছর ১৭ নভেম্বর ওই জমিতে ভবন নির্মাণের চেষ্টা করেন কামরুজ্জামান। ফলে তিনি আদালতের দ্বারস্থ হলে আদালতের নির্দেশে তা বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে একটি শুনানিতে অনিবার্যকারণবশত: তিনি অনুপস্থিত থাকায় আদালত ১৪৪ ধারা তুলে নেয়। আদালতের এই আদেশ রিভিউয়ের আবেদন করা হলে আদালত তা মঞ্জুর করে ৯ মার্চ শুনানির দিন ধার্য করেছেন।
কিন্তু এরই মধ্যে গত ১৮ জানুয়ারি ওই জমিতে ফের নির্মাণকাজ শুরু করেন কামরুজ্জামান। নির্মাণকাজে বাধা দিতে গেলে মোস্তফা কামাল দিপুসহ তার স্বজনদের হত্যার হুমকি দেওয়া হয় বলেও তিনি অভিযোগে উল্লেখ করেছেন। পরে ১৯ জানুয়ারি তিনি যশোর কোতোয়ালি মডেল থানায় এই লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগের ব্যাপারে জিকেএম কামরুজ্জামান বলেন, আদালত ১৪৪ ধারা তুলে নেওয়ায় তিনি নির্মাণকাজ শুরু করেন। আর আদালতে মামলা চললেও তিনি জমিটি নিষ্কন্টক বলে দাবি করেন।
থানায় অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার উপ-পরিদর্শক মো. তাহমুদ। তিনি জানান, তিনি উভয়পক্ষের কাগজপত্র দেখেছেন। যেহেতু জমিটি নিয়ে আদালতে মামলা রয়েছে। এ জন্য উভয়পক্ষকেই শান্তিপূর্ণ অবস্থা বজায় রাখা এবং আদালতের নির্দেশ মেনে পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য বলা হয়েছে।
Discover more from Jashore Khabor
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

