চিনাবাদাম বললেই আমরা সবাই স্বাদে ও খেতে আনন্দ পাই। কিন্তু জানেন কি, চিনাবাদাম আসলে বাদাম নয়। এর আসল পরিচয় পুরোপুরি আলাদা।
চিনাবাদাম—সাধারণ ধারনার বিপরীতে
প্রায় সকলেই চিনাবাদামকে বাদামের দলে রাখেন। কাজুবাদাম, কাঠবাদাম, আখরোট, পেস্তা—এসব বাদামের মতোই ধরে নেওয়া হয়। কিন্তু বাস্তবে চিনাবাদাম বাদামের সঙ্গে কোনও সম্পর্ক রাখে না। চিনাবাদাম উদ্ভিদবিদ্যা অনুযায়ী শুঁটি বা বিন গোত্রের অন্তর্ভুক্ত। কাঠবাদাম ও কাজুবাদামের মতো গাছের উপর জন্মানো বাদামের সঙ্গে এর কোনও সম্পর্ক নেই।
কেন মানুষ চিনাবাদামকে বাদাম বলে ভুল মনে করে?
চিনাবাদামের স্বাদ, ব্যবহার এবং আকার অনেকটা বাদামের মতো হওয়ায় সাধারণ মানুষ ভুল করে এটিকে বাদাম মনে করেন। তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে—
অধিকাংশ বাদাম গাছে জন্মায়, মাটির তলায় নয়।
চিনাবাদাম মাটির তলায় জন্মায়।
এই কারণে, উদ্ভিদবিদ্যা দিক থেকে চিনাবাদাম বাদাম বা নাটদের দলে পড়ে না। তবু স্বাদ এবং খাবারের অভ্যাসের কারণে সাধারণ মানুষের কাছে এটি “বাদাম” নামে পরিচিত।
জনপ্রিয়তা ও উৎপাদন
ভারতের যে কোনও অর্থনৈতিক স্তরের মানুষের মধ্যে চিনাবাদাম অত্যন্ত জনপ্রিয়। সস্তা, সহজলভ্য এবং পুষ্টিকর হওয়ায় চিনাবাদাম খুবই চাহিদাসম্পন্ন। ভারতে প্রচুর পরিমাণে চিনাবাদাম উৎপাদিত হয়, যা বিশ্ববাজারেও পৌঁছে। বর্তমানে ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম চিনাবাদাম উৎপাদক দেশ। চিন প্রথম স্থানে অবস্থান করছে।
শেষ কথা
সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসে চিনাবাদামের স্থান অপরিসীম। তবে যেকোনও সময় মনে রাখবেন, যদিও স্বাদে এটি বাদামের মতো মনে হয়, প্রকৃতপক্ষে এটি শুঁটি গোত্রের খাবার। চিনাবাদামের সঠিক পরিচয় জানা থাকলেই খাবারের পুষ্টি ও বৈজ্ঞানিক তথ্য আরও স্পষ্ট হয়।
Discover more from Jashore Khabor
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

