আন্ধ্রপ্রদেশ ও তেলেঙ্গানার বহু গ্রামে বাঁদরের তাণ্ডব থেকে গ্রামবাসীরা মুক্তি পেতে এক অভিনব উপায় খুঁজে পেয়েছেন। বাঁদরের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে, আর সেই সঙ্গে বেড়ে চলেছে তাদের ছিনতাই ও ধ্বংসযজ্ঞ। রাস্তা পার হওয়ার সময় খাবার, বাজারের জিনিসপত্র, এমনকি চশমা পর্যন্ত চুরি করে নেয়ার ঘটনা বিরাজ করছে। কখনও কখনও বাঁদররা বাড়ির ভেতর ঢুকে তাণ্ডব চালাচ্ছে।
প্রশাসন নানা চেষ্টা করলেও এই বাঁদরের তাণ্ডব থামাতে পারছে না। তাই গ্রামবাসীরাই নিজেরাই অভিনব পদক্ষেপে নেমে পড়েছেন—বাঘ ব্যবহার করে বাঁদরদের ভয় দেখানো।
খেলনা বাঘের কৌশল
বাঘ বলতে আসল বাঘ নয়। তারা ব্যবহার করছেন খেলার মতো পুতুল, যা দেখতে আসল বাঘের মতোই। এই পুতুলগুলো তুলো বা কাপড় দিয়ে ভরাট। গ্রামের মানুষরা এসব বাঘের পুতুলকে ১০০ থেকে ১৫০ মিটার অন্তর অন্তর রেখে দিয়েছেন।
ফলে ম্যাজিকের মতো কাজ হয়েছে—বাঁদররা এই বাঘগুলো দেখলেই সেখান থেকে পালাচ্ছে। ফলে মানুষের ক্ষতি কমেছে, জিনিসপত্র রক্ষা পাচ্ছে, আর গ্রামের নিরাপত্তা বেড়েছে।
ফলাফল ও সতর্কবার্তা
যদিও খেলনা বাঘ এখন কার্যকর, তবে তা স্থায়ী সমাধান নয়। গ্রামবাসীরা জানাচ্ছেন, বাঁদররা একদিন বুঝে যাবে যে এগুলো আসল বাঘ নয়। তখন আবার তাদের তাণ্ডব শুরু করতে পারে। তবু এই পদক্ষেপে অন্তত সাময়িকভাবে মানুষ ও বাঁদরের মধ্যে সংঘাত কমেছে এবং গ্রামের ক্ষতি কমানো সম্ভব হয়েছে।
প্রকৃতির সঙ্গে মানুষ-বন্যপ্রাণীর টানাপোড়েন নতুন নয়, তবে আধ্যাত্মিক বা অভিনব উপায়ে সমস্যা সমাধান করার এই কৌশল সত্যিই নজরকাড়া। খেলনা বাঘের সাহায্যে গ্রামবাসীরা বাঁদরের ভয় দেখিয়ে শান্তি ফিরিয়ে এনেছেন। এখন দেখার বিষয়, এই ছোট্ট কৌশল কতদিন পর্যন্ত কার্যকর থাকে।
Discover more from Jashore Khabor
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

