নানা নাটকীয়তার পর শেষ মুহূর্তে প্রার্থিতা ফিরে পেলেন যশোর-২ আসনের জামায়াত প্রার্থী ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ। ১৮ জানুয়ারি রাত ৭টায় ঢাকায় নির্বাচন কমিশন ভবনে আপিলের দীর্ঘ শুনানি শেষে মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। খবর পাওয়ার সাথে সাথে ঝিকরগাছা-চৌগাছা উপজেলা দুটির ভোটার ও দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে। হতাশাগ্রস্ত নেতাকর্মী সমর্থকরা উজ্জীবিত হয়ে ওঠেন।
গত ১ জানুয়ারি যশোর জেলা রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ আশেক হাসান, যাচাই-বাছাইয়ে ডা. ফরিদের প্রার্থিতা অবৈধ ঘোষণা করেন। ২৫ বছর আগের বন্ধ ক্রেডিট কার্ডের ৩০ হাজার টাকার বিল সংক্রান্ত জটিলতার কারণে প্রাথমিকভাবে ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। যদিও তিনি বিষয়টি জানার সাথে সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে ঋণ পরিশোধ করে দিয়েছিলেন। নির্ধারিত সময়ের পরে কাগজপত্র জমা দেওয়ায় রিটারিং কর্মকর্তা আমলে নেননি।
পরে তিনি ঢাকায় নির্বাচন কমিশনে আপিল দায়ের করেন। ১১ জানুয়ারি আপিল শুনানিতে ক্রেডিট কার্ড সংক্রান্ত জটিলতার নিরসন হয়। কিন্তু তার বিরুদ্ধে নতুন করে দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত অভিযোগ তোলা হয়। এ বিষয়ে আলাদা শুনানি গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয় নির্বাচন কমিশন।
শুনানির দিন ১৬ জানুয়ারি করা হয়। এদিন শুনানি হলেও ১৭ তারিখ রায়ের দিন নির্ধারণ করেন ইসি। এদিন নির্বাচন কমিশনে হট্টগোলের কারণে তারিখ পিছিয়ে ১৮ জানুয়ারি রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন নির্বাচন কমিশন।
রবিবার সারাদিন যশোর-২ আসনের মানুষ ডা. ফরিদের প্রার্থিতা ফিরে পাবার খবরের অপেক্ষায় ছিলেন। অসংখ্য মানুষ দৈনিক নতুন সকালের বার্তায় ফোন করে খোঁজ নেন। অবশেষে বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যায়ও খবর না আসায় মানুষ অস্থির হয়ে পড়েন। নানা নাটকীয়তার পর রাত ৭টার দিকে নির্বাচন কমিশন ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করেন।
প্রার্থিতা ফিরে পেয়ে ডা. ফরিদ গণমাধ্যমকে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, মহান আল্লাহর কাছে লাখ কোটি শুকরিয়া যে আমরা প্রার্থিতা ফিরে পেলাম। যে চারটি মূলনীতির উপর ভিত্তি করে ১০ দলের ঐক্য হয়েছে, আমরা দুর্নীতি করবো না, দুর্নীতিতে সহযোগিতা করবো না, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবো এবং সবার জন্য ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করবো। এই মুলনীতিগুলো বাস্তবায়নই আমাদের লক্ষ্য।
তিনি প্রতিক্রিয়ায় আরও বলেন, আমি আমার ঝিকরগাছা-চৌগাছা এলাকার জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকল ভাই-বোনদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাচ্ছি। যারা আমার প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার জন্য দোয়া করেছেন। বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবির, ছাত্রী সংস্থাসহ ১০ দলীয় জোটের নেতাকর্মী সমর্থক ভাই-বোনদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। যারা সব ধরনের সহযোগিতা ও ভালবাসা দিয়ে পাশে থেকেছেন। এছাড়া আইনজীবীদের প্রতিও ধন্যবাদ জানাচ্ছি। দীর্ঘ আইনী লড়াইয়ে যারা তাদের পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়েছেন।
এদিকে মনোনয়ন বৈধ ঘোষণার খবরে যশোর-২ আসনে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে আনন্দের আমেজ বিরাজ করছে। নেতৃবৃন্দ বলেন, আমাদের প্রার্থির বিরুদ্ধে সকল ষড়যন্ত্রের অবসান ঘটেছে। ইনশাআল্লাহ যশোর-২ আসনে বিপুল ভোটে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক বিজয়ী হবে।
বর্তমানে যশোর-২ সংসদীয় আসনে বৈধ প্রার্থী হিসেবে থাকলেন- বিএনপি মনোনীত সাবিরা সুলতানা, জামায়াতে ইসলামীর ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ইদ্রিস আলী, বাসদের ইমরান খান, আমার বাংলাদেশ পার্টির রিপন মাহমুদ, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফুন্টের শামছুল হক এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী (বিএনপি বিদ্রোহী) জহুরুল ইসলাম।
Discover more from Jashore Khabor
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

