যশোর সদর আসনে নির্বাচনী মাঠ এখন সরগরম। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মানুষের ঢল, স্লোগান, ফুল আর ভালোবাসায় ভরে উঠেছে এলাকা। এই পরিবেশের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। দিনব্যাপী নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি যশোর সদরবাসীর সামনে তুলে ধরেন রাজনীতি নিয়ে তাঁর স্পষ্ট দর্শন, উন্নয়ন ভাবনা এবং মানুষের পাশে থাকার অঙ্গীকার।
নির্বাচনী প্রচারণার শুরুতেই অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, রাজনীতি শুধু ক্ষমতায় যাওয়া বা কাউকে ক্ষমতা থেকে নামানোর নাম নয়। রাজনীতি হলো মানুষের সেবক হওয়া। মানুষের দুঃখে-কষ্টে পাশে দাঁড়ানো। বিপদে, আপদে, সংকটে হাত বাড়িয়ে দেওয়া। আর সবচেয়ে বড় কথা, মানুষের জীবনমান উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করা।
তিনি বলেন, একজন জনপ্রতিনিধির আসল পরিচয় ভোটের দিন নয়, ভোটের পরের দিনগুলোতে। মানুষ যখন সমস্যায় পড়ে, তখন পাশে দাঁড়ানোর নামই প্রকৃত রাজনীতি।
বুধবার সকালে চূড়ামনকাটি ইউনিয়নের খিতিবদিয়া এলাকায় পথসভার মাধ্যমে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। সকাল থেকেই সেখানে জড়ো হন এলাকার নারী-পুরুষ, বৃদ্ধ-তরুণ, হিন্দু-মুসলিম সবাই। অনিন্দ্য ইসলাম অমিতকে ঘিরে ছিল উচ্ছ্বাস আর প্রত্যাশা।
স্থানীয় নারীরা ফুল ছিটিয়ে তাঁকে বরণ করে নেন। কোমলমতি শিশুরা দৌড়ে এসে তাঁর গলায় ফুলের মালা পরিয়ে দেয়। তিনি শিশুদের বুকে জড়িয়ে ধরেন, বৃদ্ধদের খোঁজ নেন। এই দৃশ্য অনেকের চোখে জল এনে দেয়, আবার অনেকের মুখে ফুটে ওঠে আশার হাসি।
বক্তব্যের শুরুতেই অনিন্দ্য ইসলাম অমিত চূড়ামনকাটি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুস সাত্তারকে গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, এই এলাকার উন্নয়ন ও মানুষের জন্য কাজ করতে গিয়ে যাঁরা জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাঁদের অবদান কখনো ভুলে যাওয়া যায় না।
তিনি প্রয়াত সকল নেতাকর্মী ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাঁদের আদর্শ অনুসরণ করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেন।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, বিএনপি সবসময় উন্নয়নের রাজনীতি করেছে। এর জীবন্ত উদাহরণ হলো যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। চূড়ামনকাটি ইউনিয়নে অবস্থিত এই বিশ্ববিদ্যালয়ের কারণে আজ যশোর শুধু দেশেই নয়, বিশ্বব্যাপী পরিচিত।
তিনি বলেন, আমাদের অভিভাবক তরিকুল ইসলামের আহ্বানে সাড়া দিয়ে আপোষহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এই প্রতিষ্ঠান হাজারো তরুণ-তরুণীর স্বপ্ন পূরণের পথ খুলে দিয়েছে।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত আরও বলেন, তরিকুল ইসলাম শুধু একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেই থেমে থাকেননি। তিনি চূড়ামনকাটিতে নতুন নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছিলেন। পাশাপাশি পুরোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন।
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, তাঁর সময়ে কাঁচা ও পাকা মিলিয়ে প্রায় ৫০ কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছিল। এর ফলে এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হয়েছিল, ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিক্ষার সুযোগ বেড়েছিল।
বক্তব্যে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, দুঃখের বিষয় হলো গত ১৬ বছর ধরে চূড়ামনকাটি ইউনিয়নের উন্নয়নের চাকা কার্যত থমকে আছে। মানুষের ন্যায্য দাবি উপেক্ষিত হয়েছে। রাস্তাঘাট, শিক্ষা, স্বাস্থ্য—সব ক্ষেত্রেই স্থবিরতা নেমে এসেছে।
তিনি বলেন, উন্নয়ন মানে শুধু বড় বড় কথা নয়। উন্নয়ন মানে গ্রামের রাস্তা ঠিক করা, স্কুলে ভালো শিক্ষা নিশ্চিত করা, অসুস্থ হলে চিকিৎসা পাওয়া, যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, আপনাদের সহযোগিতায় আমি আবারও উন্নয়নের ধারা ফিরিয়ে আনতে চাই। যশোরের প্রকৃত রাজনৈতিক ঐতিহ্য পুনরুদ্ধার করতে চাই।
তিনি বলেন, যশোর সবসময় সহনশীলতা, সম্প্রীতি ও গণতান্ত্রিক রাজনীতির জন্য পরিচিত ছিল। আমি সেই ঐতিহ্য আবার ফিরিয়ে আনতে চাই।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, রাজনৈতিক মতাদর্শ বা ধর্মীয় বিশ্বাসের ভিন্নতার কারণে মানুষের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করতে দেব না। হিন্দু-মুসলিম, ধনী-গরিব, শহর-গ্রাম—এই বিভাজন দিয়ে রাজনীতি করা যাবে না।
তার মতে, সবাই যশোরের মানুষ, সবাই এই এলাকার সন্তান। একসাথে থাকলেই উন্নয়ন সম্ভব, শান্তি সম্ভব।
এই পথসভায় বক্তব্য রাখেন সদর উপজেলা মহিলা দলের সিনিয়র সহসভাপতি সেলিনা পারভীন শেলী। তিনি বলেন, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত একজন সৎ, শিক্ষিত ও মানুষের কাছের নেতা। নারী সমাজ তাঁর নেতৃত্বে নিরাপদ ও মর্যাদার সঙ্গে এগিয়ে যেতে পারবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি নারী ভোটারদের ধানের শীষের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
পথসভা শেষে চূড়ামনকাটি ইউনিয়নের প্রয়াত সকল ব্যক্তির আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মুনাজাত করা হয়। দোয়ায় দেশ, জাতি ও যশোর সদর আসনের শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করা হয়।
Discover more from Jashore Khabor
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

