Homeক্যাম্পাসযশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে রাস্তার পিচ উঠছে হাতে ঘষলেই!

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে রাস্তার পিচ উঠছে হাতে ঘষলেই!

Share

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) অভ্যন্তরে একটি সড়কের নতুন কার্পেটিং হাত দিলেই উঠে আসছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে এ নিয়ে নানা আলোচনা সমালোচনার জন্ম হয়েছে। শিক্ষার্থীরা সড়কের এই হালের জন্য সংশ্লিষ্টদের অনিয়ম ও দুর্নীতিকে দায়ী করছেন।

যবিপ্রবি শিক্ষার্থীরা জানান, কয়েক মাস মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক থেকে কেন্দ্রীয় মসজিদ পর্যন্ত প্রায় ১০০ মিটার লম্বা রাস্তা তৈরির কাজ শুরু হয়। কিন্তু রাস্তার কাজে ধীরগতির কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চলাচলে দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়।
পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে শিক্ষার্থীদের সমালোচনা মুখে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এক মাসের মধ্যে কাজ শেষ করার পরিকল্পনার একটি ব্যানার রাস্তায় টানিয়ে দেয়। ব্যানার অনুযায়ী রাস্তার কাজ ফেব্রæয়ারি মাসের মধ্যে শেষ করার কথা থাকলেও তা মার্চ মাসেও শেষ হয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, রাস্তার কাজে বিলম্ব হওয়ায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি দূর করার জন্য যবিপ্রবি রেজিস্ট্রার কাজী মো. জালাল উদ্দীন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে নির্বাহী প্রকৌশলী তৌহিদ ইমামকে ঈদুল ফিতরের পূর্বে কাজ শেষ করার নির্দেশনা প্রদান করা হয়। উক্ত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করার কথাও উল্লেখ করা হয় চিঠিতে।

এছাড়া রাস্তার কাজ তত্ত¡াবধান করার দায়িত্ব প্রদান করা হয় উপ-প্রধান প্রকৌশলী নাজমুস সাকিবকে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পিচ দেওয়ার এগারো দিন পরেও রাস্তার বিভিন্ন জায়গায় হাত দিলেই পিচ উঠে যাচ্ছে। পিচ ঢালা রাস্তার স্থানে স্থানে ফুলে ফেপে উঠেছে। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।

এ বিষয়ে জিইবিটি বিভাগের শিক্ষার্থী সামিউল আলিম বলেন, মেইনগেইট হতে মসজিদের সামনে পর্যন্ত রাস্তার কাজ দীর্ঘমেয়াদে সম্পন্ন করা হলেও রাস্তার কাজ যথাযথভাবে করা হয়নি। একটি রাস্তা সম্পন্ন করতে যেসব উপকরণ ব্যবহার করা হয় সেসব না করেই তড়িঘড়ি করে লোক দেখানো দায়সারা কাজ করেছে।

রাস্তায় নি¤œমানের বিটুমিন ব্যবহার করায় এখনো রাস্তা ঠিক মতো জমেনি। ফলে হাত দিয়েই উঠানো যাচ্ছে রাস্তার বিভিন্ন অংশ। দুর্নীতি, অন্যায় অনিয়ম ছাড়া এমন মানহীন রাস্তা তৈরি করা সম্ভব নয়। ইঞ্জিনিয়ার দপ্তরের অবহেলা ও দুর্নীতিতে এই অবস্থা হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। তাই রাস্তার কাজের মান, খরচ এবং বাজেটের পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাব শিক্ষার্থীদের সামনে পেশ করতে হবে বলেও দাবি তার।

তবে রাস্তায় অনিয়মের বিষয়টি অস্বীকার করে নির্বাহী প্রকৌশলী তৌহিদ ইমাম বলেন, আমাদের ক্যাম্পাসে যেসব বিআরটিসি বাস চলে, সেগুলোর ট্যাংকে লিকেজ থাকার কারণে বাস থেকে ডিজেল চুইয়ে পড়ে। যার কারণে রাস্তা ফুলে ফেপে উঠতে দেখা যায়।

আমরা পরিবহন দপ্তরকে তাদের বাসগুলো অন্যত্র সরানোর জন্য বলেছি। রাস্তার কাজ নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন করতে না পারায় আমরা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে তলব করলে তারা বলেন, তাদের আরো সময় লাগবে। কারণ হিসেবে তারা জ্বালানি সংকটসহ দেশের বর্তমান পরিস্থিতিকে দায়ী করেন।

এ বিষয়ে উপ-প্রধান প্রকৌশলী নাজমুস সাকিব বলেন, নবনির্মিত রাস্তা মজবুত হতে কিছুটা সময়ের প্রয়োজন হয়। মজবুত না থাকার কারণে মূলত পিচ উঠে যাচ্ছে। এছাড়াও রাস্তার কাজ পুরোপুরি এখনো সম্পূর্ণ হয়নি।

প্রধান প্রকৌশলী ড. মোখলেসুর রহমান বলেন, আমাদের প্রত্যেক প্রকৌশলী যেন কাজের সময় স্পটে উপস্থিত থাকে এটা নিশ্চিত করেছি।

সকাল থেকে রাত পর্যন্ত আমি নিজে উপস্থিত থেকে কাজের মান নিশ্চিত করেছি।

পুরুত্বের মান, রোলার চালানো, প্রয়োজনীয় তাপমাত্রা নিশ্চিত করতে আমি সর্বদা উপস্থিত ছিলাম। রাস্তার কাজ শেষ হলে আমরা অভিজ্ঞদের দ্বারা রাস্তার মান আরো ভালোভাবে পরীক্ষা করবো।


Discover more from Jashore Khabor

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

@ এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি। বাইরের কোন সাইটের তথ্যের জন্য যশোর খবর কতৃপক্ষ দায়বদ্ধ নয়।

Table of contents [hide]

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন