দক্ষিণী সিনেমার সুপারস্টার যশ মানেই দর্শকের প্রত্যাশা আকাশছোঁয়া। ‘কেজিএফ’-এর পর তাঁর প্রতিটি নতুন প্রজেক্ট ঘিরে আলাদা উত্তেজনা তৈরি হয়। সেই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে যশ অভিনীত বহুল প্রতীক্ষিত ছবি ‘টক্সিক: এ ফেয়ারিটেল ফর গ্রোন-আপ্স’-এর ঝলক। ঝলক প্রকাশ্যে আসতেই যেমন আলোচনার ঝড় উঠেছে, তেমনই শুরু হয়েছে বিতর্কও। বিশেষ করে যশের সঙ্গে এক রহস্যময় নারীর ঘনিষ্ঠ দৃশ্য নিয়ে দর্শক ও নেটদুনিয়ায় প্রশ্নের শেষ নেই।
‘টক্সিক’ ঝলক ঘিরে তুমুল আলোচনা
ঝলকের কয়েক সেকেন্ডের দৃশ্যই যথেষ্ট ছিল সামাজিক মাধ্যমে ঝড় তোলার জন্য। গাড়ির ভেতরে যশের সঙ্গে এক অভিনেত্রীর সাহসী উপস্থিতি, চোখে চোখ রেখে তীব্র রসায়ন—সব মিলিয়ে দর্শক বুঝে গিয়েছেন, এই ছবি সহজ গল্পের নয়। অনেকেই বলছেন, এই ছবি নাকি ‘অ্যানিম্যাল’-এর থেকেও বেশি প্রভাব ফেলতে পারে। আবার কারও কারও মতে, ঝলকেই যে ধরনের দৃশ্য দেখানো হয়েছে, তা অকারণে বিতর্ক ডেকে আনছে।
নারীবিদ্বেষের অভিযোগ কেন উঠছে?
ঝলক মুক্তির পর থেকেই একটি বড় প্রশ্ন ঘুরে বেড়াচ্ছে। শত্রু দমনের গল্পের মাঝখানে কেন এমন ঘনিষ্ঠ দৃশ্য দেখানো হল? নারী চরিত্রের ভূমিকা কি শুধুই যৌনতার মধ্যে সীমাবদ্ধ? এই প্রশ্ন থেকেই ছবির গায়ে ‘নারীবিদ্বেষী’ তকমা লাগানোর চেষ্টা করছেন একাংশ। তাঁদের যুক্তি, গল্পের প্রেক্ষাপটে এই দৃশ্যের প্রয়োজনীয়তা এখনও স্পষ্ট নয়।
কে এই অভিনেত্রী? প্রথমে ছড়ায় ভ্রান্ত তথ্য
ঝলক প্রকাশের পরপরই গুঞ্জন ওঠে, যশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ দৃশ্যে দেখা গিয়েছে আমেরিকান অভিনেত্রী নাতালি বার্নকে। এই খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে। তবে খুব দ্রুতই সেই ধারণায় জল ঢেলে দেন ছবির পরিচালক গীতু মোহনদাস নিজেই।
পরিচালক গীতু মোহনদাসের স্পষ্ট বার্তা
পরিচালক গীতু মোহনদাস জানিয়ে দেন, ঝলকে যাঁকে দেখা গিয়েছে তিনি নাতালি বার্ন নন। অভিনেত্রীর আসল নাম বেয়াট্রিজ় টফেনবাক। যদিও তাঁর সম্পর্কে বিশদ তথ্য প্রকাশ করেননি পরিচালক। শুধু একটি রহস্যময় বাক্য লিখে পরিচয় করিয়েছেন—“এই সুন্দরী হল আমার সেমেট্রি গার্ল।” যেহেতু দৃশ্যটির পটভূমি একটি গোরস্থান, তাই এই নামেই বেয়াট্রিজ়কে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন তিনি।
‘সেমেট্রি গার্ল’—রহস্য না কি প্রতীক?
‘সেমেট্রি গার্ল’ শব্দবন্ধটি শুনেই দর্শকের কৌতূহল আরও বেড়ে গিয়েছে। অনেকের মতে, এই চরিত্র নিছক কোনও প্রেমিকার নয়, বরং গল্পের গভীরে লুকিয়ে থাকা কোনও প্রতীক। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, এই চরিত্র যশের চরিত্রের মানসিক অন্ধকার দিককে তুলে ধরবে। পরিচালক ইচ্ছাকৃতভাবেই সব প্রশ্নের উত্তর এখনই দিচ্ছেন না, যাতে ছবির প্রতি আগ্রহ বজায় থাকে।
মহিলা পরিচালক হয়েও কেন এই উপস্থাপনা?
এই বিতর্কের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, ছবির পরিচালক নিজেই একজন মহিলা। তাই প্রশ্ন উঠছে, একজন মহিলা পরিচালক হয়ে কীভাবে তিনি নারীদের এমনভাবে উপস্থাপন করলেন? সমালোচকদের একাংশের মতে, ঝলকের কয়েক সেকেন্ডের দৃশ্য দেখে পুরো ছবির বিচার করা ঠিক নয়। আবার কেউ বলছেন, মহিলা পরিচালক মানেই যে নারীকেন্দ্রিক সংবেদনশীল উপস্থাপনা হবে, এমন কোনও বাধ্যবাধকতা নেই। গল্পের প্রয়োজনে চরিত্র যেমন, উপস্থাপনাও তেমনই হবে।
‘টক্সিক’ ছবির গল্প ও মুক্তির তারিখ
‘টক্সিক: এ ফেয়ারিটেল ফর গ্রোন-আপ্স’ মুক্তি পাবে আগামী ১৯ মার্চ। ছবিটি মূলত প্রাপ্তবয়স্ক দর্শকদের জন্য তৈরি, এমন ইঙ্গিত নামেই স্পষ্ট। যশের চরিত্রে থাকবে একাধিক স্তর—ক্ষমতা, হিংসা, ভালোবাসা এবং অন্ধকার মনস্তত্ত্ব। ঝলক দেখে বোঝা যাচ্ছে, এই ছবি সহজ বিনোদনের চেয়ে অনেক বেশি কিছু বলতে চাইছে।
কিয়ারা আডবাণীর নতুন চ্যালেঞ্জিং চরিত্র
এই ছবিতে যশের বিপরীতে প্রথমবার দেখা যাবে কিয়ারা আডবাণীকে। তাঁর চরিত্রের নাম ‘নাদিয়া’। কিয়ারা নিজেই জানিয়েছেন, এই চরিত্র তাঁর কেরিয়ারের অন্যতম কঠিন চরিত্রগুলির একটি। শুধু গ্ল্যামার নয়, এই চরিত্রে রয়েছে মানসিক চাপ, দ্বন্দ্ব এবং শক্তিশালী উপস্থিতি। তাই শোনা যাচ্ছে, এই ছবির জন্য তিনি নিচ্ছেন মোটা অঙ্কের পারিশ্রমিক।
নয়নতারা ও রুক্মিণী বসন্তের লুক নিয়ে কৌতূহল
ছবিতে আরও রয়েছেন দক্ষিণী তারকা নয়নতারাও। তাঁর চরিত্রের লুক এখনও পুরোপুরি প্রকাশ্যে আসেনি, কিন্তু যেটুকু জানা গিয়েছে, তাতে দর্শকের আগ্রহ তুঙ্গে। পাশাপাশি রুক্মিণী বসন্তকেও দেখা যাবে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে। তাঁর লুক এবং চরিত্র নিয়ে ইতিমধ্যেই অনুরাগীদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়ে গিয়েছে।
তারা সুতারিয়া ও হুমা কুরেশির গুরুত্বপূর্ণ উপস্থিতি
‘টক্সিক’ ছবিতে একটি গ্ল্যামারাস অথচ ভয় ধরানো চরিত্রে দেখা যাবে তারা সুতারিয়াকে। তাঁর চরিত্রের নাম ‘রেবেকা’। শুধু সৌন্দর্য নয়, এই চরিত্র দর্শকের মনে অস্বস্তি এবং ভয় তৈরি করবে বলেই ইঙ্গিত মিলেছে। এছাড়াও একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে রয়েছেন হুমা কুরেশি। তাঁর উপস্থিতি ছবির গল্পে আলাদা মাত্রা যোগ করবে বলেই মনে করছেন অনেকে।
সব মিলিয়ে প্রত্যাশার চাপ আকাশছোঁয়া
যশ, একাধিক শক্তিশালী নারী চরিত্র, সাহসী গল্প বলার ভঙ্গি এবং বিতর্ক—সব মিলিয়ে ‘টক্সিক’ এখন বছরের অন্যতম আলোচিত ছবি। ঝলক দেখে কেউ যেমন সমালোচনা করছেন, তেমনই অনেকেই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন পুরো ছবির জন্য। শেষ পর্যন্ত এই ছবি নারীবিদ্বেষের অভিযোগ ছাপিয়ে একটি শক্তিশালী গল্প হয়ে উঠবে, নাকি বিতর্কই ছবির মূল পরিচয় হবে—তার উত্তর দেবে সময়ই।
একটা কথা নিশ্চিত, ‘টক্সিক’ মুক্তির দিন যত এগোচ্ছে, দর্শকের কৌতূহল ততই বাড়ছে।
Discover more from Jashore Khabor
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

