Homeস্পোটস ওয়ার্ল্ডটি-টোয়েন্টি সিরিজIND vs ZIM Match Preview: চিপকের নতুন উইকেট আশীর্বাদ নাকি বড় ফাঁদ?

IND vs ZIM Match Preview: চিপকের নতুন উইকেট আশীর্বাদ নাকি বড় ফাঁদ?

Share

টি-২০ বিশ্বকাপের সুপার এইট মানেই টানটান উত্তেজনা। একটা ভুল মানেই বিদায়ের ঘণ্টা। এবার সেই চাপের মুখেই দাঁড়িয়ে আছে ভারত। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে হারের পর সমীকরণ একেবারে সোজা—জিততেই হবে। আর এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ভারতের সামনে প্রতিপক্ষ জিম্বাবোয়ে। ম্যাচ হবে চেন্নাইয়ের ঐতিহাসিক এমএ চিদম্বরম স্টেডিয়াম-এ।

এখন সবার মনে একটাই প্রশ্ন—চিপকের উইকেট কি আশীর্বাদ হবে, নাকি অভিশাপ?
চিপকের নাম শুনলেই আগে মনে পড়ত স্পিন, টার্ন আর ধীর গতির উইকেট। ব্যাটারদের জন্য কঠিন পরীক্ষা। কিন্তু এবারের গল্পটা একটু আলাদা।

বিশ্বকাপ শুরুর আগে উইকেট নতুন করে প্রস্তুত করা হয়েছে। লাল আর কালো মাটির মিশ্রণে তৈরি এই পিচে বল অনেক সহজে ব্যাটে আসছে। আগের মতো থেমে যাচ্ছে না।

মানে কী? ব্যাটাররা হাত খুলে খেলতে পারবে। টি-২০ ফরম্যাটে সেটাই তো দরকার।

এই মাঠেই আফগানিস্তান প্রথমে ব্যাট করে ১৮২ রান তুলেছিল। পরে নিউজিল্যান্ড ১৭.৫ ওভারে সেই রান তুলে নেয়। আবার সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর বিরুদ্ধে ১৭৫ রানের লক্ষ্য মাত্র ১৫.২ ওভারে তাড়া করা হয়েছে।

কানাডার ওপেনার যুবরাজ সামরা এখানেই ৬৫ বলে ১১০ রান করেছিলেন।

এই উদাহরণগুলো দেখলেই বোঝা যায়—চিপক এবার আগের মতো কঠিন নয়। বড় স্কোর হচ্ছে, রান উঠছে দ্রুত।

একটা সময় এখানে ১৫০ রান মানেই ম্যাচ জেতার মতো স্কোর ছিল। এখন ১৮০-১৯০ না করলে নিরাপদ বলা যাচ্ছে না।

চিপকের পুরনো পরিচয় ছিল স্পিনারদের স্বর্গ। কিন্তু এবারের উইকেটে পেসাররাও সুবিধা পাচ্ছেন। বিশেষ করে যারা গতি কমিয়ে, ভ্যারিয়েশন দিয়ে বল করেন, তারা বাড়তি সুবিধা পেতে পারেন।

জিম্বাবোয়ের অধিনায়ক সিকন্দর রাজা এবং পেসার ব্লেসিং মুজারাবানী এই উইকেটে বড় ভূমিকা নিতে পারেন।

অন্যদিকে ভারতের পক্ষে জসপ্রীত বুমরাহ এবং কুলদীপ যাদব ম্যাচের মোড় ঘোরাতে পারেন।

মানে, উইকেট পুরোপুরি একপেশে নয়। যে দল পরিস্থিতি দ্রুত বুঝবে, তারাই এগিয়ে থাকবে।

এই স্টেডিয়ামে দুইটি দিন-রাতের ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করা দল ১৯৬ এবং ২০০ রান ডিফেন্ড করতে পেরেছে।

তাই টস জিতলে অধিনায়করা আগে ব্যাট করতে চাইতে পারেন। কারণ পরে রান তাড়া করতে গিয়ে চাপ বাড়ে। বিশেষ করে নকআউটের মতো পরিস্থিতিতে।

জিম্বাবোয়ের জন্য ১৮০ ভালো স্কোর হতে পারে। কিন্তু এই পিচে সেটাও নিরাপদ নাও হতে পারে।

ভারতের নেতৃত্বে আছেন সূর্যকুমার যাদব। আগের ম্যাচে ব্যাটাররা পুরো ছন্দে ছিলেন না। রান তুলতে লড়াই করতে হয়েছে।

কিন্তু চিপকের নতুন পিচ যদি সত্যিই ব্যাটিং-বান্ধব হয়, তাহলে ভারতের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপ সুবিধা পেতে পারে।

ভাবুন তো, সূর্যকুমার, হার্দিক পান্ডিয়া, রিঙ্কু সিং—এরা যদি শুরু থেকেই ছন্দে থাকে, তাহলে ২০০ রান অচিন্ত্য নয়।

তবে একটাই শর্ত—উইকেটকে দ্রুত বুঝতে হবে। শুরুতেই উইকেট হারালে চাপ বাড়বে।

সূর্যকুমার যাদব (অধিনায়ক), ঈশান কিষাণ (উইকেটরক্ষক), অভিষেক শর্মা, তিলক বর্মা, হার্দিক পান্ডিয়া, শিবম দুবে, রিঙ্কু সিং, ওয়াশিংটন সুন্দর, আর্শদীপ সিং, বরুণ চক্রবর্তী, জসপ্রীত বুমরাহ, সঞ্জু স্যামসন, মহম্মদ সিরাজ, কুলদীপ যাদব, অক্ষর প্যাটেল।

সিকন্দর রাজা (অধিনায়ক), ব্রায়ান বেনেট, রায়ান বার্ল, গ্রায়েম ক্রেমার, বেন কারেন, ব্র্যাড ইভান্স, ক্লাইভ মাদান্ডে (উইকেটরক্ষক), টিনোতেন্ডা মাপোসা, তাদিওয়ানাশে মারুমানি, ডায়ান মায়ার্স, ওয়েলিংটন মাসাকাদজা, টোনি মুনিওঙ্গা, তাশিঙ্গা মুসেকিবা, ব্লেসিং মুজারাবানী, রিচার্ড নাগারবা।

সব মিলিয়ে বলা যায়, চিপকের উইকেট এবার আগের মতো ভয় ধরানো নয়। বরং ব্যাটারদের মুখে হাসি ফোটাতে পারে।

কিন্তু ক্রিকেটে কিছুই নিশ্চিত নয়। উইকেট যেমনই হোক, শেষ পর্যন্ত ম্যাচ জিতবে যে দল চাপ সামলাতে পারবে।

ভারতের সামনে সুযোগ আছে ঘুরে দাঁড়ানোর। জিম্বাবোয়ের সামনে সুযোগ আছে চমক দেখানোর।

এখন দেখার, চিপকের মাটিতে কার স্বপ্ন বাঁচে, আর কারটা ভেঙে যায়।


Discover more from Jashore Khabor

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

@ এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি। বাইরের কোন সাইটের তথ্যের জন্য যশোর খবর কতৃপক্ষ দায়বদ্ধ নয়।

Table of contents [hide]

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন