মহিলা যুব এশিয়া কাপে আবারও শক্তির প্রমাণ দিল ভারতীয় নারী ক্রিকেট দল। ১৭ ফেব্রুয়ারি নেপালের বিরুদ্ধে ম্যাচে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মাঠে একচেটিয়া আধিপত্য দেখাল টিম ইন্ডিয়া। ফলাফল? মাত্র ৭৮ রানে নেপাল গুটিয়ে গেল, আর ভারত ৭ উইকেট হাতে রেখে ৭৩ বল বাকি থাকতেই সহজ জয় তুলে নিল। এমন পারফরম্যান্সের পর দেশজুড়ে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়াই স্বাভাবিক।
এই জয় শুধু একটি ম্যাচ জেতা নয়, বরং গ্রুপ ‘এ’ পয়েন্ট টেবিলে শীর্ষে ওঠার বড় পদক্ষেপ। এখন ভারতীয় দলের আত্মবিশ্বাস তুঙ্গে।
টস জিতে ভারত প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেয়। আর সেই সিদ্ধান্ত যে একদম ঠিক ছিল, তা প্রমাণ করে দিল বোলাররা। শুরু থেকেই নেপালের ব্যাটারদের চাপে রাখে ভারতীয় আক্রমণ।
নেপালের হয়ে সর্বোচ্চ ২২ রান করেন ওপেনার সমঝানা খাড়কা। তাঁর ব্যাট থেকে চারটি বাউন্ডারি এলেও বাকিরা কেউ ১৫ রানও পার করতে পারেননি। উইকেটের এক প্রান্তে ব্যাটাররা দাঁড়ানোর আগেই অন্য প্রান্তে উইকেট পড়ে যাচ্ছিল। যেন ঝড়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকার চেষ্টা—কিন্তু বেশিক্ষণ টেকা গেল না।
ভারতের হয়ে সবচেয়ে সফল বোলার তনুজা কানওয়ার। ৪ ওভারে মাত্র ১২ রান দিয়ে তুলে নেন ৪টি উইকেট। তাঁর লাইন-লেন্থ এতটাই নিখুঁত ছিল যে নেপালি ব্যাটাররা রীতিমতো দিশেহারা হয়ে পড়েন। মিন্নু মানি ৩টি উইকেট নিয়ে আক্রমণকে আরও ধারালো করেন। অধিনায়ক রাধা যাদব নেন ২টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট।
খাতায়-কলমে নেপাল তুলনামূলক দুর্বল দল হলেও তারা লড়াইয়ের চেষ্টা করেছে। তবে ভারতীয় বোলিং আক্রমণের সামনে সেই লড়াই বেশি দূর এগোয়নি।
৭৯ রানের লক্ষ্য খুব বড় কিছু নয়। অনেক সময় এমন ছোট টার্গেট তাড়া করতে গিয়েই দল চাপে পড়ে যায়। ভারতের ক্ষেত্রেও শুরুটা তেমনই ছিল।
দিয়া যাদব মাত্র ২ রান করে আউট হয়ে যান। তিনি সম্প্রতি মহিলা প্রিমিয়ার লিগে সর্বকনিষ্ঠ ক্রিকেটার হিসেবে সুযোগ পেয়েছিলেন, কিন্তু এই ম্যাচে ব্যাট হাতে নিজেকে মেলে ধরতে পারলেন না। অনুষ্কা শর্মাও বেশি সময় টিকতে পারেননি। ১০ বলে ১০ রান করে প্যাভিলিয়নে ফেরেন তিনি।
মনে হচ্ছিল, ম্যাচটা হয়তো একটু টানটান হতে পারে। কিন্তু সেই আশঙ্কা বেশিক্ষণ টেকেনি।
অপর প্রান্তে দাঁড়িয়ে ম্যাচের চিত্রটাই বদলে দেন দীনেশ বৃন্দা। ১৮ বলে অপরাজিত ৩৯ রান—শুধু সংখ্যা নয়, ইনিংসটির গতি ও আত্মবিশ্বাসই ছিল আসল কথা। তাঁর ব্যাট থেকে আসে ৯টি দৃষ্টিনন্দন বাউন্ডারি। প্রায় প্রতি ওভারেই বাউন্ডারি বের করছিলেন তিনি। দেখে মনে হচ্ছিল, ম্যাচটা দ্রুত শেষ করাই তাঁর লক্ষ্য।
তেজল হাসবনিস ১৩ বলে ১৮ রান করে কিছুটা গতি যোগ করেন। শেষদিকে অধিনায়ক রাধা যাদব ১ রানে অপরাজিত থেকে দলের জয় নিশ্চিত করেন।
নেপালের বোলারদের মধ্যে মণীষা উপাধ্যায়, অনু কড়ায়ত ও সীতা রানা মগর একটি করে উইকেট নেন। তবে ছোট টার্গেটের সামনে তাদের বোলিংয়ে সেই ধার দেখা যায়নি।
এই জয়ের ফলে গ্রুপ ‘এ’ পয়েন্ট টেবিলে শীর্ষে উঠে এসেছে ভারত। তিনটি ম্যাচে দুটি জয় ও একটি পরাজয় নিয়ে তাদের সংগ্রহ ৪ পয়েন্ট। নেট রান রেটের দিক থেকেও ভারত এগিয়ে।
প্রথম ম্যাচে সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর কাছে ৭ উইকেটে হেরে ধাক্কা খেয়েছিল ভারত। তবে সেই হার থেকে শিক্ষা নিয়ে পরের ম্যাচে পাকিস্তানকে ৮ উইকেটে হারিয়ে দারুণ প্রত্যাবর্তন করে। আর নেপালের বিরুদ্ধে বড় জয় তাদের অবস্থান আরও মজবুত করেছে।
সংযুক্ত আরব আমিরশাহীরও ৪ পয়েন্ট রয়েছে, তবে নেট রান রেটে তারা পিছিয়ে। পাকিস্তানের সংগ্রহ ২ পয়েন্ট। নেপাল এখনও পয়েন্টের খাতা খুলতে পারেনি।
এই টুর্নামেন্টে ভারতের ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দেখলে বোঝা যায়, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম কতটা প্রস্তুত। বোলিং, ব্যাটিং, নেতৃত্ব—সব দিকেই ভারসাম্য দেখা যাচ্ছে। তরুণ ক্রিকেটাররা দায়িত্ব নিতে শিখছে।
ভাবো তো, ছোট লক্ষ্য হলেও অনেক সময় দল হালকা মনোভাবে নেয়। কিন্তু ভারত তা করেনি। শুরুতে উইকেট পড়লেও আতঙ্ক ছড়ায়নি। সেটাই বড় দলের লক্ষণ।
এই জয়ের পর স্পষ্ট, ভারত শুধু অংশ নিতে আসেনি—শিরোপা জেতাই তাদের লক্ষ্য। যদি বোলিং এমন ধারাবাহিক থাকে আর ব্যাটাররা আত্মবিশ্বাস ধরে রাখে, তাহলে প্রতিপক্ষের জন্য পথটা কঠিনই হবে।
মহিলা যুব এশিয়া কাপের এই মঞ্চে ভারতের পারফরম্যান্স এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। সামনে আরও চ্যালেঞ্জ আসবে, কিন্তু এই জয়ের পর দল যে ছন্দে রয়েছে, তাতে সমর্থকদের আশা অনেকটাই বেড়ে গেছে।
Discover more from Jashore Khabor
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

