সুস্থ ও দীর্ঘায়ু জীবনের জন্য সঠিক জীবনধারা অপরিহার্য। প্রতিদিনের রুটিনে শরীরচর্চা যেমন জরুরি, তেমনই খাবারের ধরনও সমান গুরুত্বপূর্ণ। ‘বাচনা অ্যায় হাসিনো’ খ্যাত বলিউড অভিনেত্রী মিনিষা লাম্বা সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে নিজের ব্যক্তিগত জীবনের কিছু অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, গত পাঁচ বছর ধরে তিনি নিরামিষাশী।
মাংসের প্রতি আগের অনুভূতি
মিনিষা বলেন, একসময় খাবার পাতে নিয়মিত মাংস রাখতেন। কিন্তু সেই সময় তিনি প্রায়ই একধরনের অপরাধবোধে ভুগতেন। মাংস খাওয়ার সঙ্গে মানসিক চাপ ও অস্বস্তিও জড়িত ছিল।
নিরামিষে মানসিক শান্তি
গত পাঁচ বছর ধরে নিরামিষ আহার গ্রহণের পর তিনি শুধু শারীরিকভাবে সুস্থই থাকেননি, মানসিকভাবে ও বেশ স্ফূর্তিতে রয়েছেন। মিনিষা জানালেন, নিরামিষ খাবার মানসিক শান্তি এনে দেয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের দিক থেকেও দেখা গেছে, খাদ্যাভ্যাস সরাসরি মস্তিষ্কের ডোপামিন ও সেরোটোনিন হরমোনকে প্রভাবিত করে। প্রাণিজ প্রোটিন ত্যাগের ফলে মানসিক উদ্বেগ কমে এবং মন প্রশান্তি পায়।
ধাপে ধাপে পরিবর্তন
মিনিষা হঠাৎ করে বড় পরিবর্তনের পরিকল্পনা করেননি। শুরুতে মাত্র এক মাস নিরামিষ খাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ধাপে ধাপে তা ছয় সপ্তাহ, দুই মাস, এবং শেষে পাঁচ বছরের দীর্ঘকাল ধরে চালিয়ে যাচ্ছেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই পদ্ধতিকে ‘স্মল গোল অ্যাপ্রোচ’ বলা হয়। হঠাৎ পরিবর্তনের চেয়ে ধীরে ধীরে অভ্যস্ত হওয়া শরীর ও মনের জন্য বেশি কার্যকর।
নিরামিষ ডায়েটের শারীরিক উপকারিতা
চিকিৎসকদের মতে, নিরামিষ ডায়েট শরীরে বিভিন্ন রকম উপকার বয়ে আনে—
ইনফ্লামেশন কমায়
হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়
কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখে
উদ্ভিজ্জ খাবারে থাকা ফাইবার অন্ত্রের স্বাস্থ্য উন্নত করে
দীর্ঘমেয়াদী ক্লান্তি কমিয়ে শরীরে এনার্জি বাড়ায়
এছাড়া যারা সচেতনভাবে নিরামিষ আহার বেছে নেন, তাদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ও ডিসিপ্লিন অনেক বেশি থাকে।
নতুন বছর, নতুন শুরু
মিনিষা লাম্বা এই অভিজ্ঞতা থেকে বার্তা দিয়েছেন—জীবন যেকোনও দিন যেকোনও মুহূর্তে নতুন করে শুরু করা যায়। ২০২৬ সালের শুরুতে তিনি সকলকে পরামর্শ দিয়েছেন, ধৈর্য ধরে নিজের লক্ষ্য পূরণ করুন। নিজের শরীর সুস্থ রাখতে খাদ্যাভাসের দিকে মনোযোগ দিন। খাবার পাতে কী আছে আর কী বাদ দিয়েছেন, তা সচেতনভাবে দেখুন। নিরামিষ আহার শুধু শরীর নয়, মনকেও সমৃদ্ধ করে।
Discover more from Jashore Khabor
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

