Homeলাইফস্টাইলপ্রেসক্রিপশনচোখের সামনে ভাসমান দাগ বা ফ্লোটার: কখন স্বাভাবিক, আর কখন বিপদের সংকেত?

চোখের সামনে ভাসমান দাগ বা ফ্লোটার: কখন স্বাভাবিক, আর কখন বিপদের সংকেত?

Share

চোখের সামনে হঠাৎ সুতো, জাল বা ছোট ছোট কালো দাগ ভাসতে দেখলে অনেকেই ভয় পেয়ে যান। আবার কেউ কেউ ভাবেন—এটা হয়তো তেমন কিছু না।

আসলে বিষয়টা মাঝামাঝি। বেশির ভাগ সময় এই ‘ফ্লোটার’ একেবারেই স্বাভাবিক। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে এটা চোখের গুরুতর সমস্যার ইঙ্গিতও দিতে পারে।

তাই সহজভাবে বুঝে নেওয়া দরকার—কখন চিন্তার কিছু নেই, আর কখন একটু সিরিয়াস হওয়া জরুরি।

চোখের ভেতরে একটা স্বচ্ছ, জেলির মতো পদার্থ থাকে—এটাকে বলা হয় ভিট্রিয়াস। এটা চোখের গঠন ঠিক রাখে এবং ভেতরের অংশগুলোকে সাপোর্ট দেয়।

সময় যত যায়, এই জেলির গঠন একটু একটু করে বদলায়। এটা আগের মতো ঘন থাকে না, বরং ছোট ছোট কণায় ভেঙে যায়। তখন সেই কণাগুলো চোখের ভেতরে ভাসতে থাকে।

এই ভাসমান কণাগুলোই আমরা দেখি—কখনও সুতো, কখনও জাল, আবার কখনও কালো দাগের মতো।

একটা সহজ উদাহরণ দিলে বিষয়টা পরিষ্কার হবে। ধরো তুমি রোদে দাঁড়িয়ে আছো, হঠাৎ চোখের সামনে ছোট ছোট কিছু নড়াচড়া করছে—কিন্তু ধরতে পারছো না। এটাই ফ্লোটার।

ফ্লোটার হওয়ার পেছনে বেশ কিছু সাধারণ কারণ আছে। এগুলো জানলে ভয় অনেকটাই কমে যায়।

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভিট্রিয়াস জেল ধীরে ধীরে পাতলা হয়। ফলে এর ভেতরে ছোট ছোট কণা তৈরি হয়, যা ভেসে বেড়ায়। তাই বয়স বাড়লে ফ্লোটার দেখা খুব স্বাভাবিক।

যাদের চোখে পাওয়ার আছে, বিশেষ করে মায়োপিয়া (দূরের জিনিস ঝাপসা দেখা), তাদের ক্ষেত্রে ফ্লোটার একটু বেশি দেখা যায়।

চোখে যদি কোনো ইনফেকশন বা প্রদাহ হয়, তখনও ভেতরে কণার সংখ্যা বাড়তে পারে। ফলে ফ্লোটার বেশি চোখে পড়ে।

ডায়াবেটিস বা হাই ব্লাড প্রেসার থাকলে রেটিনায় সমস্যা হতে পারে। তখন ফ্লোটার দেখা দেওয়া অস্বাভাবিক নয়।

চোখে কোনো আঘাত লাগলে বা রেটিনায় রক্তক্ষরণ হলে হঠাৎ ফ্লোটার দেখা দিতে পারে।

সবাই ফ্লোটার দেখতে পারে, কিন্তু কিছু মানুষ আছেন যাদের ক্ষেত্রে এটা বেশি দেখা যায়—

  • যাদের চোখে মাইনাস পাওয়ার আছে
  • যাদের বয়স একটু বেশি
  • ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন যারা
  • আগে চোখে কোনো অপারেশন বা সমস্যা হয়েছে
  • যারা চোখে ইনফেকশনে ভুগেছেন

না, সব ফ্লোটার এক রকম নয়। এখানেই আসল বিষয়টা লুকিয়ে আছে।

অনেক সময় ধীরে ধীরে অল্প অল্প ফ্লোটার দেখা যায়। এগুলো সাধারণত ক্ষতিকর না। মজার ব্যাপার হলো—আমাদের মস্তিষ্ক নিজেই এই দাগগুলোকে উপেক্ষা করতে শিখে নেয়। ফলে কিছুদিন পর তুমি হয়তো আর খেয়ালই করবে না।

কিন্তু সমস্যা হয় তখনই, যখন হঠাৎ করে ফ্লোটারের সংখ্যা বেড়ে যায়।

ধরো, আগে মাঝে মাঝে একটা-দুটো দাগ দেখতে, আর হঠাৎ একদিন দেখলে অনেকগুলো একসাথে ভাসছে—এটা কিন্তু ইঙ্গিত হতে পারে ভেতরে কিছু পরিবর্তন হয়েছে।

এই জায়গাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। কিছু লক্ষণ আছে, যেগুলো দেখলে একদম দেরি না করে চোখের ডাক্তার দেখানো উচিত।

আগে যা ছিল না, হঠাৎ একদিন অনেকগুলো দাগ বা জাল একসাথে দেখা গেলে এটা অবহেলা করা যাবে না।

অন্ধকারে বা চোখ বন্ধ করলে হঠাৎ আলো ঝলকানোর মতো অনুভব করলে এটা রেটিনার সমস্যার লক্ষণ হতে পারে।

হঠাৎ করে যদি দেখার ক্ষমতা কমে যায় বা সামনে পর্দার মতো কিছু নেমে আসে, তাহলে সেটা সিরিয়াস ইস্যু।

চোখ লাল হয়ে যাওয়া, ব্যথা হওয়া—এগুলোও সতর্ক সংকেত।

এই লক্ষণগুলো অনেক সময় রেটিনার সমস্যার ইঙ্গিত দেয়। রেটিনা হচ্ছে চোখের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা আলোকে সিগনালে রূপান্তর করে আমাদের মস্তিষ্কে পাঠায়।

যদি রেটিনায় টান পড়ে, আলগা হয়ে যায় বা ছিঁড়ে যায়, তাহলে দৃষ্টিশক্তি স্থায়ীভাবে নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

তাই দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া খুব জরুরি।

প্রথম কথা—ঘাবড়াবেন না।

যদি অল্প অল্প ফ্লোটার হয় এবং নতুন করে কোনো উপসর্গ না থাকে, তাহলে সাধারণত চিন্তার কিছু নেই। নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করালেই হবে।

কিন্তু যদি হঠাৎ পরিবর্তন দেখেন, তাহলে নিজে নিজে অপেক্ষা না করে সরাসরি চোখের ডাক্তার দেখান।

ফ্লোটার বিষয়টা অনেকটা এমন—মাঝে মাঝে স্বাভাবিক, কিন্তু কখনো কখনো সতর্কবার্তা।

তাই নিজের চোখের ছোট ছোট পরিবর্তনগুলোকে হালকা করে নেওয়া ঠিক না।

চোখ তো একটাই—এটা ঠিক থাকলেই পৃথিবীটা পরিষ্কার দেখা যায়। একটু সচেতন থাকলে বড় সমস্যা অনেকটাই এড়ানো সম্ভব।


Discover more from Jashore Khabor

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

@ এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি। বাইরের কোন সাইটের তথ্যের জন্য যশোর খবর কতৃপক্ষ দায়বদ্ধ নয়।

Table of contents [hide]

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন