এবার কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর আল্টিমেটামের পরপরই বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
সোমবার (২৩ মার্চ) সকালে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ার এই প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়।
ট্রাম্প ইরানকে দেওয়া ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমার মধ্যে এই জলপথটি পুনরায় উন্মুক্ত না করলে দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার যে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, তার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যে। সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় তেলের বাজার এখন অত্যন্ত অস্থির।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সোমবার ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) মে মাসের সরবরাহের দাম ১.৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যার ফলে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ১০০ ডলারের মনস্তাত্ত্বিক সীমা অতিক্রম করেছে।
একই সময়ে নর্থ সি ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দামও প্রায় সমান হারে বেড়ে ব্যারেল প্রতি ১১৩.৪৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে ডব্লিউটিআই ও ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ছিল যথাক্রমে প্রতি ব্যারেল ৬৭ এবং ৭২.৪৮ ডলার। মাত্র কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে তেলের এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি বিশ্ব অর্থনীতির জন্য এক বড় ধরনের দুঃসংবাদ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের মোট উৎপাদিত তেলের একটি বিশাল অংশ পরিবাহিত হয়, যা ইরান বর্তমানে বন্ধ করে রেখেছে। ট্রাম্পের এই আল্টিমেটাম পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে কারণ ইরান ইতিমধ্যে পালটা হামলার হুমকি দিয়ে রেখেছে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি সত্যিই ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র বা তেল স্থাপনায় হামলা চালানো হয়, তবে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১৫০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। লস অ্যাঞ্জেলেসসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ফিলিং স্টেশনগুলোতে ইতিমধ্যে তেলের সংকট ও দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়তে শুরু করেছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে।
বর্তমান এই সংকট নিরসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখন ওয়াশিংটন ও তেহরানের দিকে তাকিয়ে আছে। যদি ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম শেষে কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়, তবে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে এক দীর্ঘমেয়াদী অস্থিরতা তৈরি হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র এই জলপথ ব্যবহার করে না বলে ট্রাম্প দাবি করলেও, তার মিত্র দেশগুলোর জ্বালানি নিরাপত্তা এখন চরম ঝুঁকির মুখে। আপাতত বিশ্ববাজারের বিনিয়োগকারীরা পরবর্তী কয়েক ঘণ্টার পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে তাদের ব্যবসায়িক পরিকল্পনা সাজাচ্ছেন, যার ফলে তেলের দাম আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়ে গেছে।
সূত্র: সিএনএন
Discover more from Jashore Khabor
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

